২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

স্বামীর জন্য পাঞ্জাবি পেইন্ট করতে গিয়ে শুরু—আজ তিনি সফল নারী উদ্যোক্তা

Untitled-2

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার শারমিন আক্তার একসময় ছিলেন পুরোপুরি গৃহিণী। এখন নিজের ঘরের বারান্দাকে কর্মশালায় রূপ দিয়ে তিনি হ্যান্ড পেইন্ট পোশাক তৈরির মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ব্যবসা। পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, কুর্তি থেকে শুরু করে শিশুদের পোশাক—হাতের তুলির টানে নকশা ফুটিয়ে তুলেই তাঁর মাসিক আয় এখন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

শারমিনের শ্বশুরবাড়ি লোহাগাড়ার চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা গ্রামের মধু ফকির পাড়ায়। স্বামী, দুই সন্তান ও সংসারের কাজ সামলিয়েও তিনি প্রতিদিন কিছুটা সময় বারান্দায় কাটান কাপড়ে রঙ তোলার কাজে। পাঁচ বছর আগেও তিনি পুরোপুরি গৃহিণী ছিলেন; এখন তিনি একাধারে মা, গৃহিণী ও সফল উদ্যোক্তা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিনি একটি সাদা পাঞ্জাবিতে নীল পাতার নকশা করছেন। কাজের ফাঁকে তিনি জানান, অর্ডার আসে মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে। প্রয়োজন হলে ঢাকার পোশাক কারখানা থেকে কুরিয়ারে কাপড় আনান। কাজ শেষ হলে ছবি তুলে অনলাইনে প্রচার করেন, তারপরই বিক্রি।

পরিবারের সমর্থন তাঁর কাজে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বামী আবদুল্লাহ আল মামুন সব সময় পাশে থাকেন। তাঁদের বড় মেয়ে রাওয়াহা তাফান্নুমের বয়স চার বছর এবং ছোট মেয়ে রুফাইদা তারান্নুমের বয়স মাত্র এক বছর।

২০২০ সালে বিয়ের পরের বছর ঈদে স্বামীর জন্য একটি পাঞ্জাবি পেইন্ট করতে গিয়ে এই পথচলার সূচনা। একই সময় তিনি আরও ১৫টি পাঞ্জাবি ডিজাইন করেন, যেগুলোর ছবি তাঁর স্বামী ফেসবুকে প্রচার করেন। মাত্র এক সপ্তাহেই সবগুলো বিক্রি হয়। ১২ হাজার টাকার পুঁজিতে তিনি লাভ করেন ৮ হাজার টাকা। এখান থেকেই শুরু তাঁর উদ্যোক্তা যাত্রা।

ক্রমে তাঁর কাজের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে, অর্ডার বাড়তে থাকে। ২০২২ সালে ‘শারমিনস হ্যান্ড পেইন্ট’ নামে নিজস্ব ফেসবুক পেজ খুলে নিয়মিতভাবে কাজ শুরু করেন। এখন তিনি মাসে প্রায় ৫০টি পোশাকে নকশা করেন। তবে উৎসব বা অনুষ্ঠানের মৌসুমে কাজের চাপ বেড়ে যায়। গত বছর ঈদে তিনি ১৫০টির মতো অর্ডার পেয়েছিলেন—সে সময়ে আয় হয়েছিল প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

Advertisements

শারমিন বলেন, “ইচ্ছাশক্তি ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে মেয়েরা অনেক কিছু করতে পারে। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে আমার কাজ আরও বড় করতে চাই, যেন আশপাশের নারীরাও স্বাবলম্বী হতে পারেন।”

স্বামী আবদুল্লাহ আল মামুন মনে করেন, নারীদের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, “শারমিনের আগ্রহ দেখে পাশে থেকেছি। ভবিষ্যতে শহরের কেন্দ্রস্থলে নারীদের পরিচালনায় একটি বুটিক শপ দেওয়ার ইচ্ছে আছে।”

নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতেও এগিয়ে এসেছে স্থানীয় প্রশাসন। লোহাগাড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি সফলদের ‘জয়িতা’ পুরস্কার দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “নারীদের এগিয়ে নিতে গ্রামীণ পর্যায়ে এমন উদ্যোগ খুব জরুরি। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।”

Advertisements