২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

কুমড়ো বড়ি বদলে দিচ্ছে সিরাজগঞ্জের নারীদের জীবন

Untitled-3

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, সদর ও তাড়াশ উপজেলায় শুরু হয়েছে কুমড়ো বড়ি তৈরির মৌসুম। ভোরের আলো ফুটতেই গ্রামের উঠানজুড়ে দেখা যায় বড়ি তৈরির ব্যস্ততা কেউ কুমড়ো-ডালের মিশ্রণ তৈরি করছেন, কেউ বা সারি করে বড়ি শুকাতে দিচ্ছেন। এই কাজে নারীরাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর তাঁদের পাশে সহযোগিতা করছেন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা।

নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ গ্রামে প্রায় ৬০–৬৫টি পরিবার বহু বছর ধরে কুমড়ো বড়ি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এই পেশাই তাদের জীবিকার প্রধান ভরসা।

ভাংশিং পাড়ার আজিজুর রহমান বলেন, “একসময় আমাদের সংসারে অভাব ছিল। কুমড়ো বড়ির ব্যবসাই আমাদের পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে। আগে পুরো কাজ হাতেই করতাম, এখন মেশিন ব্যবহার করছি—তবুও বড়ির স্বাদ ঠিক আগের মতো।”

স্থানীয় বাজারে বর্তমানে কুমড়ো বড়ির দাম কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। ব্যবসায়ী হান্নান জানান, ডালের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় শিগগিরই বড়ির দাম আরও বাড়তে পারে।

এ অঞ্চলের কারিগররা জানান, এখানকার কুমড়ো বড়ির সুনাম দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ টি এম গোলাম মাহবুব বলেন, পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে শিগগিরই কুমড়ো বড়ি তৈরির প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হবে।

Advertisements

শাহজাদপুরের নারীরা এখন আর শুধু গৃহস্থালি কাজেই সীমাবদ্ধ নন—কুমড়ো বড়ি তাদের জীবনে এনেছে নতুন আয়ের সুযোগ, আত্মবিশ্বাস আর স্বাবলম্বিতার হাতছানি। রোদে শুকানো বড়ির সারি যেন গ্রামের নারীদের স্বপ্নপূরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Advertisements