এশিয়ার প্রভাবশালী নারী ব্যবসায়ী: কোন খাতে কারা এগিয়ে

এশিয়া এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র। বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তির বেশির ভাগই এ অঞ্চলে অবস্থান করায় পশ্চিমা গণমাধ্যমও এশিয়ার ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মনোযোগী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ব্যবসায়িক সাময়িকী ফোর্বস প্রতি বছরই বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রকাশ করে। এর অংশ হিসেবে চলতি নভেম্বর মাসে ফোর্বস এশিয়ার ২০ জন সবচেয়ে শক্তিশালী নারী ব্যবসায়ীর তালিকা প্রকাশ করেছে।
এই তালিকার শীর্ষে আছেন ফিলিপাইনের মাইবেল ভি. আরাগন-গোবিও। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে মালয়েশিয়ার সারিনা চিয়াহ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার চুং ইউ-ক্যাং।
ভারত ও হংকং থেকে সর্বোচ্চ তিনজন করে, আর ফিলিপাইন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর ও চীন থেকে দুজন করে নারী ব্যবসায়ী স্থান পেয়েছেন। এছাড়া মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান থেকেও একজন করে উদ্যোক্তা তালিকায় আছেন।
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নারীরা ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর, বিরল খনিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আর্থিক সেবা, খুচরা বাজার, আতিথেয়তা, খেলাধুলার সরঞ্জাম—এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে অসাধারণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কেউ পারিবারিক ব্যবসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, কেউ আবার নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা দাঁড় করিয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। তালিকায় থাকা নারীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পেশাদার ব্যবস্থাপক; ব্যাংকিং, ভোক্তা পণ্য ও পরিবহন খাতে তাঁদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তা এবং একজন বর্তমানে দুটি লাভজনক ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।
নিচে শীর্ষ পাঁচজন নারী ব্যবসায়ীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়—
১. মাইবেল ভি. আরাগন-গোবিও (৫২), ফিলিপাইন
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি রবিনসন্স ল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও হন—যা জি জি সামিট গ্রুপের রিয়েল এস্টেট শাখা এবং দেশের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।
১৯৯৩ সালে প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়া মাইবেল ধাপে ধাপে লজিস্টিকস, আবাসিক প্রকল্প ও অফিস উন্নয়নের দায়িত্ব সামলেছেন।
নতুন নেতৃত্ব হিসেবে তিনি পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যবসাকে ২২০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা দিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে—
২০৩০ সালের মধ্যে নিট আয় দ্বিগুণ করা
শপিং মল ৫৫ থেকে ৬৯–এ উন্নীত করা
অফিস স্পেস ৫০% বৃদ্ধি
হোটেল কক্ষ ২৫% বাড়িয়ে ৫,৩০০ করা
লজিস্টিকস সক্ষমতা দ্বিগুণ করা
২. সারিনা চিয়াহ (৫০), মালয়েশিয়া
জানুয়ারিতে তিনি সানওয়ে গ্রুপের নির্বাহী উপ–চেয়ারম্যান হন—যা তাঁর বাবা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে তিন দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি কোম্পানির আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। গত সেপ্টেম্বরে তাঁর নেতৃত্বে সানওয়ে গ্রুপ তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অধিগ্রহণ—৫৭৩ মিলিয়ন ডলারে MCL Land কেনে।
৩. চুং ইউ-ক্যাং (৫৩), দক্ষিণ কোরিয়া
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোর চেইন শিনসেগে-এর চেয়ারম্যান হন চুং।
উচ্চ প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে তিনি আগে আমদানিনির্ভর সৌন্দর্য পণ্যের ওপর যে নির্ভরতা ছিল তা কমিয়ে স্থানীয় ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন। উচ্চবিত্ত এলাকায় স্থানীয় সৌন্দর্য পণ্যের স্টোর খোলার মতো উদ্যোগে ব্যবসায় নতুন গতি এসেছে।
৪. লানি দার্মাওয়ান (৬৩), ইন্দোনেশিয়া
চার বছর আগে তিনি ইন্দোনেশিয়ার সপ্তম বৃহত্তম ব্যাংক CIMB Niaga-এর প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর ও সিইও হন।
তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি টানা চার বছর রেকর্ড মুনাফা করেছে।
ঋণ পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস, ক্ষুদ্র–মধ্যম ব্যবসা এবং উচ্চ মার্জিনের রিটেইল ঋণে জোর দেওয়ার ফলে ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭৫%—যেখানে বাজারের গড় ২৭%।
৫. এমিলি হং (৬৮), তাইওয়ান
এআই সার্ভার ও ক্লাউড অবকাঠামো খাতে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান Wiwynn–এর চেয়ার ও চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তিনি।
২০১২ সালে উইস্ট্রনের সাবসিডিয়ারি হিসেবে উইওয়াইন প্রতিষ্ঠা করে কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে গেৃছেন।
২০২৫ সালের প্রথমার্ধে কোম্পানির রাজস্ব ১৬৬% এবং কর–পরবর্তী মুনাফা ১৩৩% বৃদ্ধি পেয়েছে; শেয়ারদর বেড়েছে ৬১%।



