২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

জোগালি থেকে হেডমিস্ত্রি: সংগ্রামী নারী রাজেদা বেগমের পথচলা

Untitled-1

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের রাজেদা বেগমের। বিয়ের দুই বছর পর, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে ফেলে স্বামী শাহিন হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সন্তান ও বৃদ্ধ মায়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তখনই শুরু করেন রাজমিস্ত্রির জোগালি হিসেবে কাজ। কাজ সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না; প্রতিবেশীর সহায়তায় প্রথম কাজ জোটে।

ইট, বালি, সিমেন্ট তোলা–নেওয়া দিয়ে শুরু হওয়া সেই কর্মজীবন। শুরুতে ছিল সমাজের কটূক্তি, কর্মস্থলে ইঙ্গিত–ইশারায় অনৈতিক প্রস্তাব, পরিবারের চাপ, সব মিলিয়ে কঠিন সময়। তবু সন্তানের মুখ মনে করে সব অপমান চুপচাপ সহ্য করে এগিয়ে গেছেন তিনি।

২৫ টাকা দৈনিক হাজিরা থেকে যাত্রা শুরু—১০ বছর জোগালি হিসেবে কষ্টের দিন পার করে অবশেষে হয়ে ওঠেন ‘হেডমিস্ত্রি’। এখন তাঁর সঙ্গে কাজ করেন ১০–১২ জন শ্রমিক। ১২ বছর ধরে হেডমিস্ত্রি হিসেবে প্রতিদিন তাঁর মজুরি ৫০০ টাকা।

এরই মধ্যে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন রাজেদা। মেয়ের সংসারে তিন সন্তান; জামাতার আয় কম হওয়ায় সেখানেও সহায়তা করতে হয় তাঁকে। নিজের উপার্জনেই চলছে পুরো পরিবার।

নারীদের জন্য তাঁর পরামর্শ—
“নিজের অবস্থান ঠিক রেখে, নিন্দুকের কথায় কান না দিয়ে, সাহস ও আত্মমর্যাদা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।”

রাজেদার মা আমেনা বেগম জানান, মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য অনেকে চাপ দিলেও নাতির ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাতে রাজি হননি রাজেদা।

Advertisements

উপজেলা রাজমিস্ত্রি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি জয়েন উদ্দিন বলেন, উপজেলায় রাজেদা বেগমই একমাত্র নারী নির্মাণশ্রমিক। সততা ও পরিশ্রমের কারণে জোগালি থেকে হেডমিস্ত্রি হয়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক অভিযোগ নেই।

Advertisements