২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

শাহবাগে নারীদের প্রতিবাদ সমাবেশ: ‘পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে’

Untitled-8

নারীর কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে নারীনেত্রী ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, নারীদের আবারও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, নারীদের ঘরে ফেরানোর লক্ষ্যেই কর্মঘণ্টা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অথচ নারী কর্মপরিসরে কাজ করবে কি ঘরে থাকবে—এ সিদ্ধান্ত কেবল নারীরই ব্যক্তিগত বিষয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে অসম্মান ও সহিংসতার প্রতিবাদ জানান এবং সমস্বরে স্লোগান দেন— ‘পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে?’

প্রতিরোধে প্রস্তুত সচেতন নারী সমাজ’ শীর্ষক এই মৌন মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম। কর্মসূচির প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, দেশে একটি দল ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নারীদের অন্দরমহলে বন্দী রাখতে চাইছে। তিনি দাবি করেন, কর্মঘণ্টা কমানো হলে নারীর কর্মসংস্থান কমে যাবে এবং দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অন্ধকারে পড়ে থাকবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর দেশের নারীরা যে খুন-ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করা হয়েছিল; কিন্তু বাস্তবে নারীরা আবারও অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, নারীদের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে এবং সমস্বরে আওয়াজ তুলতে হবে।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, নারীর অধিকার নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হলে নারীসমাজ জেগে উঠবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, নারীরা ঘরে থাকবেন নাকি কর্মস্থলে—এটি তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। নারীর অধিকার কারও দান বা দাক্ষিণ্য নয়, তা মানুষের অধিকার।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান বলেন, পুরুষ নারীর শত্রু নয়, সহযোদ্ধা। তিনি জানান, যে জুলাই সনদে নারীর কথা নেই, সেই সনদ নারীরা প্রত্যাখ্যান করছেন। তাঁর মতে, দেশের প্রবৃদ্ধিই উন্নয়ন নয়; প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হবে, যখন নারী রাতের বেলায় নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে আবার নারীর কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় নামানোর প্রস্তাব এসেছে, যা নারীর অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ বলেন, সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীরা মত প্রকাশ করতে গেলে হেনস্তার শিকার হন—ব্যক্তিগত জীবন, মতাদর্শ অথবা পোশাককে কেন্দ্র করে। সহিংসতা রোধে নারীদেরই সামনে এসে কথা বলতে হবে।

Advertisements

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, নিলুফা চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম ও সহসভাপতি রেহানা আক্তার। বক্তারা বলেন, নারীদের ঘরে ফেরানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

Advertisements