বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
স্বাস্থ্য

সকালে না বিকেলে? দিনের কোন সময়ে ব্যায়াম করলে বেশি উপকার পাবেন

220-SM744529

ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য সময় বের করে ব্যায়াম করা সহজ নয়। কাজ, পরিবার, দায়িত্বের ভিড়ে অনেকেই ভাবেন। কখন ব্যায়াম করা সবচেয়ে ভালো? সকালে না বিকেলে? কেউ কেউ বলেন, ভোরবেলা ঘাম ঝরানোয় ফল বেশি। আবার কেউ কেউ মনে করেন, বিকেলের শরীরচর্চাই সবচেয়ে কার্যকর। কিন্তু আসল সত্যিটা কী?

সম্প্রতি বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন, আলিয়া ভট্ট, ক্যাটরিনা কাইফ, প্রীতি জিন্টার প্রশিক্ষক ইয়াসমিন করাচিওয়ালা জানিয়েছেন, ব্যায়াম করার সেরা সময় বলে কিছু নেই। যিনি যে সময়ে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দবোধ করেন, সেটিই তাঁর জন্য সেরা সময়।

ইয়াসমিনের মতে, “কেউ সকালে ব্যায়াম করতে ভালোবাসেন, কারণ এতে দিনটা শুরু হয় সতেজভাবে। আবার কেউ বিকেলে শরীরচর্চা করতে পছন্দ করেন, কারণ তখন সারা দিনের চাপ কাটিয়ে মনটা হালকা থাকে।” মূল বিষয়টি হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। দিনের যেই সময় ব্যায়াম করুন না কেন, চেষ্টা করুন প্রতিদিন একই সময়ে করতে। তাতেই শরীর ও মন অভ্যস্ত হয়ে উঠবে, ফলও মিলবে দ্রুত।

ভোরবেলা ব্যায়াম করলে পাচনক্রিয়া ভালো হয়, ক্যালোরি ঝরে দ্রুত, আর দিনভর শরীর থাকে চনমনে। খালি পেটে হালকা এক্সারসাইজ করতেও সুবিধা হয়। সকালে শরীরচর্চা মানেই দিনটা শুরু হয় ইতিবাচক শক্তিতে। তবে অসুবিধা হলো, সকালে অনেকের শরীর এখনো পুরোপুরি জেগে ওঠে না, ফলে শক্তি কম থাকে, ব্যায়াম ঠিকভাবে করা যায় না।

অফিস বা কাজের পর বিকেলে শরীরচর্চা করলে শক্তি বৃদ্ধি পায়, মন ভালো থাকে। এ সময় শরীর তুলনামূলকভাবে নমনীয় হয়। ফলে ব্যায়াম করতেও সহজ লাগে। এছাড়া হালকা বিকেলবেলার এক্সারসাইজ ঘুমের মানও উন্নত করে। তবে খেয়াল রাখবেন, অনেক রাত করে বা ভারী ব্যায়াম করলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

কোন সময়টি আপনার জন্য ভালো?

এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার রুটিন, শরীর ও পছন্দের উপর। সকালে সময় থাকলে সেটিকে কাজে লাগান, দিনটা energetic হয়ে শুরু হবে। বিকেলে সময় পেলে শরীর তখন বেশি সক্রিয় থাকে। ফলে পারফরম্যান্সও ভালো হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত থাকা। সপ্তাহে তিন দিন নয় বরং প্রতিদিন একই সময়ে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

ব্যায়ামের লাভ সময় নয় অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। আপনি সকালে বা বিকেলে যেকোনো সময় ব্যায়াম করুন। নিয়মিত করলে তবেই মিলবে ওজন কমা, পাচন শক্তি বৃদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তি। তাই সময় নিয়ে দ্বিধায় না থেকে নিজের শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নিন। কারণ সবচেয়ে ভালো সময় সেই সময়, যেটি আপনি ধরে রাখতে পারবেন।