অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেই, শাকিব-বুবলী প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অপু বিশ্বাস

ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান ব্যক্তিজীবনে দুই অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীকে বিয়ে করলেও কারোর সঙ্গেই তার দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
শাকিব খান বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবেই এ দুজনকে তার প্রাক্তন স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্কের সম্ভাবনাও নেই বলে জানিয়েছেন। তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় অপু ও বুবলীর দিক থেকে। দুই নায়িকাই এখনও শাকিবকে তাদের স্বামী বলেই দাবি করে আসছেন। বিশেষ দিনগুলোতে নায়কের সঙ্গে স্মৃতিময় মুহূর্ত শেয়ার করেন।
শাকিবও সন্তানদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে তাদের মায়েদের সঙ্গে সময় কাটান। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ছেলে শেহজাদ খান বীর ও তার মা শবনম বুবলীর সঙ্গে ঘুরতে গেছেন।
এর আগে শাকিব খান অপু বিশ্বাস ও তাদের ছেলে আব্রাম খান জয়ের সঙ্গেও মার্কিন মুলুকে সময় কাটিয়েছেন। তখন গুঞ্জন উঠেছিল অপুর সঙ্গে হয়তো দূরত্ব কমছে। এবার একই গুঞ্জন উঠেছে বুবলীকে নিয়েও।
এমন পরিস্থিতিতে প্রায়ই অপু-বুবলী মুখোমুখি হন কথার লড়াইয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সম্পর্ক খুব একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ নয় এটা ভক্তরাও বুঝে গেছেন।
এ কারণে নিউইয়র্কে শাকিব-বুবলীর মুহূর্ত প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অনেকে অপু বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অপু সরাসরি কোনো মন্তব্য করেন না বরং বলেন ১৫ জুন তার ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে সব ব্যাখ্যা আছে।
স্ট্যাটাসে অপু বিশ্বাস লেখেন, ” প্রিয় ভক্ত-অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা, সম্প্রতি লক্ষ্য করছি যখনই আমি আমার ব্যক্তিগত কিছু মুহূর্ত বা আমার ছেলের সঙ্গে সময় কাটানোর ছবি আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করি তখনই তা ঘিরে একধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।” আমি একজন মা, একজন অভিনেত্রী, একজন উদ্যোক্তা। ক্যামেরার বাইরে আমার জীবনও একজন সাধারণ নারীর মতোই। হাজারো কাজ, দায়িত্ব, স্বপ্ন আর সংগ্রামে ভরা।
তিনি বলেন, ” আমি কাউকে কিছু প্রমাণ করতে চাই না। আমার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় দর্শকের চোখের সামনেই কেটেছে সেখানে লুকোচুরি বা নাটকীয়তা কিছু নেই।”
আমি আমার ছেলের মানসিক বিকাশ ও সুন্দর শৈশবের জন্য তার বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর কিছু মুহূর্ত ধরে রাখি। এতে যদি কারো অস্বস্তি হয়, সেটার দায় আমার নয়।
দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি, আমার কোনো সাধারণ পারিবারিক পোস্টের পরপরই কিছু ‘কাউন্টার প্রচেষ্টা’ শুরু হয়। আমি বলতে চাই, এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আমি নেই। সম্মান অর্জন করে নিতে হয়, অন্যকে ছোট করে নয়।
এখন থেকে আমি শুধু নিজের কাজ, নিজের সন্তান ও আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যই সময় দিতে চাই। কারো সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কিছু প্রমাণ করার জন্য আমি এখানে আসিনি। আমি আমার জায়গাতেই স্বাচ্ছন্দ্যে আছি। যারা আমাকে ভালোবাসেন, আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে কারো সঙ্গে পা মেলাতেও রাজি নই।
ভালোবাসা অমলান থাকুক।”



