হার না মানার গল্প!

হার না মানার গল্প!
হার না মানার গল্প!
ব্যবসার কাজে আমার স্বামী যেতেন বগুড়ায়, ওখানে থাকা শুরু করলেন, আমাকে কিছু না জানিয়েই আমার স্বামী বিয়ে করে আরেকজনকে । ৬ মাস পর দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে আসে একটি সন্তান।

আমার বয়স তখন ১৩, প্রেমে পড়েছিবাল্যপ্রেম যেটাকে বলে, ৬ মাস না গড়াতেই প্রিয় মানুষটির হাত ধরে ঘর ছাড়ি। যা হবার তাই হলো! দুই পরিবারের কোন্দলে বিয়েটা মেনে নিল না কেউই। পালিয়ে বেড়াই মাস। তারপর সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে আমাদের পরিবার আমাদের বরণ করে নেয়। আমার কোল জুড়ে আমার সন্তান আসে। অনেক ভালো ছিলাম আমরা, যেন একদম রূপকথার গল্প!
কিন্তু আমার যুদ্ধটা শুরু এখান থেকেই। ব্যবসার কাজে আমার স্বামী যেতেন বগুড়ায়, ওখানে থাকা শুরু করলেন, আমাকে কিছু না জানিয়েই আমার স্বামী  বিয়ে করে আরেকজনকে ।   মাস পর দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে আসে একটি সন্তান। আমার স্বামী বগুড়ায় ঘর বাঁধে ! আমি জানার পর আমি আমার পরিবারের কাছে সবকিছু বলি। আমার পরিবার আমাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসে। আমি সন্তান নিয়েই এসএসসি, এইচএসসি, বিএ এবং ,মাস্টার্স সম্পন্ন ,করেছি। আর এখন  আছি রাশিয়া উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের অধ্যায়নরত। এছাড়াও লীডারশিপ ট্রেইনিং আছে ভারত , চীন সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অরগানাইজেশনে।
চাকরি করেছি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশনস বিভাগে ২ বছর।  সিঙ্গেল মাদার টাইটেল নিয়ে আমার পথচলা। মেয়ে মানে আজকের পৃথিবীতে এখনও অবলাকেই বোঝায়, সেখানে আমি পাড়ি দিয়েছি অনেকটা পথ আমার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে। আমি ডিউক অব এডিনবার্গের ব্রোঞ্জ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। এছাড়া সাউথ এশিয়ান কালচারারাল ফেস্টের বেস্ট পারফর্মার অব বাংলাদেশ এবং রোটারি ইয়ুথ লিডারশিপের বেস্ট ক্যাম্পার হয়েছি। ব্রত ছিল আমি উদাহরণ হবো, চলছি সেই পথেই। আমার পরিবার আমাকে অনেকে সাপোর্ট করেছে। বিদ্রোহী কবির লাইন দুটি মোটেও ফেলনা নয়
সেদিন সুদূর নয়
যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীর জয়!


আর বুক ফুলে বাঁচতে শিখবো আমরা।


নারী আমি। " থেমে যেতে পারতাম, হারিয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু আমি বাঁচতে শিখেছি আমার জন্য, যারা বাঁচতে চায় তাদের জন্য। 

 

 I could have stopped, I could have lost, but I have learned to live for myself, for those who want to live. Never give up!