২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

সন্তানকে অন্যের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গে তুলনা করতে শেখান

image-328-1591710946

মানব বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় শিশুকালে। এই সময় সন্তানকে যা শেখানো হয় তাই শেখে। কারণ এই বয়সে শিশুর বিবেক-বুদ্ধি অতটা থাকে না। ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা থাকে না। সুতরাং সন্তানকে যা শেখানো হয় তাই শেখে। শিশুর মানসিক বিকাশের পর্যায়ে সবসময় ইতিবাচক কথা বলতে হবে। যেমন, সন্তান কোনো ভুল করলে বলা যাবে না তুমি এটি কার কাছ থেকে শিখেছ? তাহলে সে অন্যের ওপরে দোষ চাপিয়ে দিতে পারে, মিথ্যা কথা বলা শিখতে পারে? বলতে হবে, তুমি এটা কেন করেছ? এতে সন্তান ভুল স্বীকার করে নেবে এবং সত্য কথা বলা শিখবে।

 

সবচেয়ে বড়ো যে ভুলটি আমরা করি সেটি হলো, অন্য সন্তানের সঙ্গে তুলনা করে বসি। এই তুলনা হতে পারে পড়াশোনায়, খেলাধুলায়, কাজকর্মে, ধর্মীয় রীতিনীতি পালন ইত্যাদি বিষয়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই তুলনা কি বাচ্চাকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তোলে?

 

অবশ্যই না। সন্তান কেন, পৃথিবীতে কারো সঙ্গেই কারোর তুলনা করতে নেই। কারণ প্রতিটা মানুষই সম্পূর্ণ আলাদা ও অনন্য। সবাই সবদিকে সমান হবে না এটাই স্বাভাবিক। একেকজন একেকদিক দিয়ে পারদর্শী হবে।

 

Advertisements

সন্তানকে তুলনা করলে তার আত্মবিশ্বাস কমে যায়। নিজেকে অযোগ্য, দুর্বল ভাবতে শুরু করে। নিজের জীবনের প্রতি খেয়াল না রেখে অন্যের জীবনে পড়ে থাকে। অপরের চিন্তাভাবনা, কাজকর্মকে অনুসরণ করে। এতে নিজের স্বকীয়তাকে হারিয়ে ফেলে। সবাইকে তার প্রতিযোগী মনে করে। সরল দুনিয়াটাকে জটিল বানিয়ে ফেলে।

 

সন্তানের স্পৃহা বাড়ানোর জন্য অনেক বাবা-মা নিজের সন্তানকে অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করেন। এমন করলে একটা সন্তানের ওপর দিয়ে কেমন অসুস্থ মানসিক চাপ বয়ে যায় তা বুঝতে পারে না। এসব বাবা-মা কখনো ভাবে না যে, এই সন্তানটাই যদি তার বাবা-মাকে অন্যের বাবা-মায়ের সঙ্গে তুলনা করত তাহলে কেমন লাগতো!

 

তুলনা করতে হবে তবে অন্যের সঙ্গে নয়, আমার গতকালের সঙ্গে আমার আজকের। নিজের সঙ্গে তুলনা করলে নিজের সক্ষমতা, দুর্বলতা সম্পর্কে জানা যায়। কারণ মনে রাখতে হবে,

 

নিজের সঙ্গে তুলনা করলে মানুষ অতুলনীয় হয়ে ওঠে, আর অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে মানুষ হিংসুক হয়ে ওঠে।

Advertisements