চোখের আলো নেই, অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে জিপিএ-৫ পেলেন তাহমিনা

সিলেটের গ্রিন ডিজেবল্ড ফাউন্ডেশনের আবাসিক ছাত্রী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তাহমিনা আক্তার মমি এইচএসসি পরীক্ষার আগে তার শ্রুতিলেখক নিয়ে জটিলতায় পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সব জটিলতা কাটিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। সেই মমি পেয়েছেন জিপিএ ৫।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে এই অনন্য অর্জন নিশ্চিত হয়েছে তাহমিনা আক্তার মমির। এর আগে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাধারণ কর্তৃপক্ষ মমির শ্রুতিলেখক হিসেবে কাউকে অনুমতি না দেওয়ায় তার পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কর্তৃপক্ষ শ্রুতিলেখক হিসেবে নগরীর টুকেরবাজারের আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ পল্লব দেবকে অনুমতি দেন।
গতকাল শনিবার ফলাফলে দেখা গেছে তাহমিনা আক্তার মমি জিপিএ ৫ পেয়েছেন। তার অভাবনীয় ফলে খুশি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বায়জিদ খানসহ শিক্ষকরা। ফলপ্রকাশের পর তাকে অভাবনীয় সাফল্যের জন্য ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
ফল প্রকাশের পর মমি বলেন, ‘আমি এই ফলের জন্য খুবই খুশি। আমি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। পরীক্ষার আগে আমার শ্রুতিলেখকের অনুমতি না পাওয়ায় মন খারাপ হয়। তখন কান্না আসছিল। মন্ত্রী মহোদয় বিষয়টি সমাধানে আমাকে সহায়তা করেছেন এবং খবর নিতে তার প্রতিনিধিও পাঠিয়েছেন।’
তাহমিনা আক্তার মমি শিশু শ্রেণি থেকে সিলেট নগরীর জল্লারপাড় এলাকায় অবস্থিত গ্রিন ডিজেবল্ড ফাউন্ডেশনে লেখাপড়া শুরু করেন। তিনি একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার জায়ফর নগরে। বাবা আব্দুল আহাদ একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মমি সিলেট সরকারি মদন মোহন কলেজ থেকে অংশ নেন। পরীক্ষা দেন সিলেট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে।



