২১ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ৫ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলাদেশ

বিএনপির মনোনয়ন চাইতে গিয়ে খালেদা জিয়ার মতো সাজ, ব্যাখ্যা দিলেন মেঘনা

images (1)

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মডেল ও অভিনেত্রী মেঘনা আলমের সাজসজ্জা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে তার পোশাক ও চেহারার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মিল খুঁজে পেয়েছেন। তবে খালেদা জিয়ার মতো করে সাজতে চাননি বলে জানিয়েছেন মেঘনা। তার ভাষ্য, মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে গিয়ে তিনি কেবল মার্জিত ও আনুষ্ঠানিক পোশাকে উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন তিনি। মেঘনা জানান, সাদা শাড়ি ও ওড়না তার আগে থেকেই পরার অভ্যাস রয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিপাটি হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

সংগৃহীত

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই চুল বেঁধে খোঁপা করেছিলেন বলেও জানান মেঘনা। তার মতে, আগেরবার মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় অনেক প্রার্থীর ভিড়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে গিয়ে খোলা চুলের কারণে গরমে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার চুল গুছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

নিজের সাজের পেছনের পরিকল্পনা তুলে ধরে মেঘনা বলেন, সাধারণত তাকে স্বাভাবিক সাজেই দেখা যায়। তবে সাক্ষাৎকারে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত হওয়ার জন্য পরিচিত এক তরুণীকে সাজিয়ে দিতে বলেছিলেন। নিজের গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই সাজ বোঝাতে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ মরিয়ম নওয়াজ ও ক্রিকেটার ইরফান পাঠানের স্ত্রীর ছবি দেখিয়েছিলেন। ভ্রু স্বাভাবিক রাখতে এবং চুল পরিপাটি করে বাঁধার কথাও বলেছিলেন তিনি।

সবকিছু মিলিয়ে তার চেহারার সঙ্গে খালেদা জিয়ার এতটা সাদৃশ্য তৈরি হবে, তা আগে বুঝতে পারেননি বলে জানান মেঘনা। তবে মানুষের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সম্মানিত ও আবেগাপ্লুত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন এই মডেল-অভিনেত্রী। তিনি জানান, জীবনে একবার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। সে সময় তার বড় ফুপি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে তার ফুপি আর বেঁচে নেই। খালেদা জিয়ার সঙ্গে আরেকবার দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। ছোটবেলায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় কষ্ট পেয়েছিলেন বলেও স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

Advertisements

মেঘনা আরও জানান, তার ইরানি বংশোদ্ভূত দাদির মুখের গড়ন ও গায়ের রঙের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মিল তিনি প্রায়ই লক্ষ করতেন। এ কারণেও দুজনের চেহারার সাদৃশ্য তার কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পোস্টে তিনি খালেদা জিয়া, তার দাদি ও ফুপির জন্য দোয়া করেন।

সাজসজ্জা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেছেন মেঘনা। তাঁর দাবি, বিএনপির কোনো বড় নেতা, মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্যের সঙ্গে আত্মীয়তার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এগিয়ে যেতে চান না। বরং নিজের চিন্তাভাবনা ও দেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই বিএনপিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মেঘনার মতে, সংসদ সদস্য হওয়ার বিষয়টি কেবল দলীয় আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ, কূটনৈতিক আলোচনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে কাজ করার জন্য বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োজন। সংসদে যুক্তি, তথ্য, নীতিবিশ্লেষণ এবং জবাবদিহির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে সংসদে দক্ষ ও যোগ্য প্রতিনিধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন বলে জানান মেঘনা। তাঁর ভাষ্য, সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা, নীতিগত বিষয়ে বোঝাপড়া এবং কূটনৈতিক দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ।

নিজেকে নতুন মুখ হিসেবে উল্লেখ করে মেঘনা বলেন, তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ, জ্ঞান ও কাজের দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। তিনি অনুগ্রহ নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ চান বলে জানিয়েছেন।

নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমির কথাও উল্লেখ করেন মেঘনা। তার দাবি, তার বাবা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) আহ্বায়ক ছিলেন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সম্মুখসারিতে থেকে অংশ নিয়েছিলেন। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশ, নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলে দলের পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্যও কাজ করতে চান মেঘনা আলম। সংসদে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ পাওয়াই তাঁর প্রত্যাশা।

Advertisements