২১ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ৫ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

ভ্রমণের জন্য চাকরি ছেড়ে অনুতপ্ত তরুণীকে কিছু পরামর্শ

ভ্রমণের জন্য চাকরি ছেড়ে অনুতপ্ত তরুণীকে কিছু পরামর্শ

বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ২৮ বছর বয়সী এক তরুণী। চাকরির একঘেয়েমি, মানসিক ক্লান্তি আর ব্যস্ত জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল, ছয় মাস ধরে একা একা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখবেন, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। কিন্তু ভ্রমণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় তার মনে হতে শুরু করে, সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল কি না। বিদেশের পরিবেশ, মানুষের আচরণ ও জীবনযাপনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে এখন বাড়ি ফেরার কথা ভাবছেন তিনি। তার এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

রেডিটে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ওই তরুণী বলেন, অর্থ খাতের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর কাজ করার পর তিনি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক অবসাদ তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছিল। তার মনে হয়েছিল, জীবনে বড় কোনো দায়িত্ব আসার আগেই পৃথিবীটা ঘুরে দেখা প্রয়োজন।

কিন্তু ইউরোপে পৌঁছানোর পর বাস্তব অভিজ্ঞতা তার প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। ভ্রমণের প্রথম সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় গিয়ে স্থানীয় মানুষের আচরণ তার কাছে তুলনামূলকভাবে শীতল ও দূরত্ব বজায় রাখার মতো মনে হয়। অস্ট্রেলিয়ার মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতার পার্থক্য তাকে হতাশ করে।

এরপর ইতালির রোমে গিয়ে তার মনে হয়, নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরগুলোর তুলনায় রোম বেশি অনিরাপদ ও অপরিচ্ছন্ন। একই সঙ্গে নিজের দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষ, ভালো কফি, মনোরম আবহাওয়া ও নিরাপদ পরিবেশের প্রতি নতুন করে আকৃষ্ট হন তিনি। আগে অফিসের কাজে এতটাই ব্যস্ত থাকতেন যে, নিজের দেশের এসব সুবিধা নিয়ে ভাবার সুযোগ খুব কমই পেতেন।

তবে তার পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় রেডিট ব্যবহারকারীদের অনেকে তাকে এখনই ভ্রমণ শেষ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, নতুন সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। বিদেশে একা ভ্রমণের শুরুতে অস্বস্তি, নিঃসঙ্গতা ও হতাশা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, সংস্কৃতিগত পার্থক্যের মুখোমুখি হওয়া মানসিক বিকাশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। আরও কয়েক সপ্তাহ সময় দিলে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে। তার মতে, তরুণীর সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল না।

Advertisements

অন্য একজন নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কম বয়সে একা ভ্রমণের সময় নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও বহু বছর পর সেসব স্মৃতি অসাধারণ মনে হয়। ওই অভিজ্ঞতাগুলোই তাকে আজকের মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

আরও এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ভ্রমণ মানুষকে নিজের বাড়ির মূল্য বুঝতে শেখায়। তবে কেউ কেউ দীর্ঘ ভ্রমণের আগে প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, নতুন পরিবেশে বিশ্রামের জন্য সময় রাখা ও প্রয়োজনে ভ্রমণের গতি কমানো জরুরি।

ভ্রমণ মানেই শুধু আনন্দ নয়। কখনো কখনো অচেনা পৃথিবীকে চিনতে গিয়ে মানুষ নিজের পরিচিত ঘর, মানুষ ও জীবনের প্রতিই নতুন করে ভালোবাসা খুঁজে পায়।

Advertisements