১৯ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৩ কার্তিক ১৪৩৩
বিনোদন

নেটফ্লিক্সে আলোচিত এই তুর্কি সিরিজ, দুই সপ্তাহে ১ কোটি ৪৩ লাখ ভিউ!

নেটফ্লিক্সে আলোচিত এই তুর্কি সিরিজ, দুই সপ্তাহে ১ কোটি ৪৩ লাখ ভিউ!

তুরস্কের টেলিভিশন সিরিজের জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু দেশটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের নানা দেশের দর্শকের পাশাপাশি বাংলাদেশেও তুর্কি সিরিজের আলাদা দর্শকশ্রেণি তৈরি হয়েছে। টেলিভিশনে বাংলায় ডাব করা সিরিজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব সিরিজের নানা দৃশ্য ও রিলসও ছড়িয়ে পড়ছে। এই জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া তুর্কি সিরিজ ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’ দর্শকদের নজর কেড়েছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই সিরিজটি নন-ইংরেজি সিরিজের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে। প্রথম দুই সপ্তাহে এর ভিউ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৩ লাখ।

মের্ত বায়কাল পরিচালিত সিরিজটির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি পরিবার, অতীতের সম্পর্ক এবং দাম্পত্যে বিশ্বাসের সংকট। পরিচিত ধরনের পারিবারিক গল্প হলেও রহস্যের আবহ ও চরিত্রগুলোর জটিলতা দর্শককে পরের পর্ব দেখার আগ্রহ জোগায়।

সংগৃহীত

সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ফুন্দা, যিনি একজন চিত্রশিল্পী। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন এলচিন সাঙ্গু। মা হওয়ার পর সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের শিল্পীজীবন থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছেন তিনি। পুরোনো সত্তায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পারিবারিক দায়িত্বের চাপে তা সহজ হয়ে ওঠে না।

মেয়ের দেখাশোনার জন্য একজন আয়া নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন ফুন্দা। এভাবেই তার জীবনে আসে নাজলি, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেলিস সেজেন। ধীরে ধীরে নাজলির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ফুন্দা। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় যখন ফুন্দার স্বামী ইলকার (ওজান দোলুনাই) বাড়ি ফিরে নাজলিকে দেখে চিনতে পারেন। কারণ, অতীতে নাজলির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

পুরোনো এই সম্পর্কের কথা সামনে আসার পর ফুন্দার সংসারে তৈরি হয় অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা। স্বামীর অতীত, দাম্পত্যের বিশ্বাস এবং নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন জাগে, নাজলি কি কেবল কাজের জন্য এই পরিবারে এসেছে, নাকি তার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে?

‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’-এর অন্যতম শক্তি এর চিত্রনাট্য। গল্পের মূল উপাদান খুব একটা অপরিচিত নয়। একটি সংসার, অতীতের সম্পর্ক এবং বিশ্বাসের সংকট। তবে পরিচিত বিষয়গুলোকে রহস্যের আবহে সাজিয়ে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা।

Advertisements
সংগৃহীত

ফুন্দা ও নাজলির সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হয়, নাজলির অতীত সম্পর্কে জানার কৌতূহলও তত বাড়ে। দর্শক শুধু পরের পর্বে কী ঘটবে, তা জানতে চান না; চরিত্রগুলোর আচরণের আড়ালে কী উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে, সেটিও বোঝার চেষ্টা করেন। এই রহস্যই গল্পকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে।

সিরিজটি নিয়ে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একরকম নয়। বিনোদনবিষয়ক ওয়েবসাইট ডিসাইডারের পর্যালোচনায় প্রথম পর্বের প্রশংসা করা হয়েছে। ফুন্দার মানসিক চাপ, নিজের শিল্পীসত্তায় ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দুই নারী চরিত্রকে ঘিরে তৈরি রহস্যকে গল্প এগিয়ে নেওয়ার কার্যকর উপাদান হিসেবে দেখা হয়েছে।

অন্যদিকে, তুরস্কের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সাবাহর পর্যালোচনায় গল্পের কিছু অস্পষ্টতা এবং একই বিষয় বারবার ব্যাখ্যা করার প্রবণতা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। পত্রিকাটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, গল্পের মধ্যে সম্ভাবনা থাকলেও চিত্রনাট্য সব ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি।

দর্শকের আগ্রহ, রহস্যনির্ভর গল্প এবং দাম্পত্যের জটিল সম্পর্ক; সব মিলিয়ে ‘নট আ স্ট্রেঞ্জার’ তুর্কি সিরিজের প্রতি আন্তর্জাতিক দর্শকের আগ্রহের আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

Advertisements