১৬ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

পবিত্র মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ দায়ে বাংলাদেশি নারী ও পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

prothomalo-bangla_2026-10-16_q9zuhzho_saudi-flag

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে অশালীন কর্মকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কার্যকর দণ্ড

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং বিষয়টি আদালতে গড়ায়। শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাআজির হলো এমন এক ধরনের শাস্তির বিধান, যেখানে অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারক শাস্তি নির্ধারণের ক্ষমতা রাখেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আদালতের রায় উচ্চতর বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর তা চূড়ান্ত হয়। পরে রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর অবস্থান

Advertisements

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় স্থানের মর্যাদা রক্ষায় দেশটির সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে জানানো হয়েছে।

মক্কা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র নগরী। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। এ কারণে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষাকে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা ও পবিত্র স্থানে সংঘটিত অপরাধের শাস্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত বিচারিক নথি ও অভিযুক্তদের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

Advertisements