৬ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

হ্যামস্টারের পায়ে এত ছোট প্লাস্টার! এক চিমটি তুলার কাঠিতে চিকিৎসা

WhatsApp Image 2026-10-05 at 11.47.35 PM

আকারে এতটাই ছোট যে হাতের তালুতেই অনায়াসে এঁটে যায়। অথচ সেই ছোট্ট প্রাণীটিই একসময় হয়ে উঠেছিল ইন্টারনেটের আলোচিত মুখ। তার নাম ভাসকা—রাশিয়ার পেত্রোজাভোদস্ক শহরের একটি ছোট্ট হ্যামস্টার। ২০১৬ সালের আগস্টে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা শুধু পশুপ্রেমীদের নয়, হাজারো মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল।

ভাসকাকে যখন পশুচিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়, তখন তার সামনের পায়ের কবজিতে গুরুতর আঘাত ছিল। মাত্র এক মাস বয়সী এই হ্যামস্টারের আকার এতটাই ছোট ছিল যে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাও ছিল বেশ কঠিন। চিকিৎসক মারিয়া ফিরসোভা পরীক্ষা করে ধারণা করেন, তার কবজির জোড়ের স্থানচ্যুতি হয়েছে। ছোট্ট শরীরের কারণে এক্স-রে করাও সম্ভব হয়নি।

তবে চিকিৎসক হাল ছাড়েননি। বরং ভাসকার আকারের কথা মাথায় রেখে বের করলেন এক অভিনব সমাধান। একটি তুলার কাঠির ক্ষুদ্র অংশ কেটে তৈরি করা হলো ছোট্ট একটি স্প্লিন্ট। এরপর সেটি চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে ভাসকার পায়ে এমনভাবে আটকে দেওয়া হলো, যাতে আহত অংশটি স্থির থাকে এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার সুযোগ পায়।

চিকিৎসার পর ভাসকার পায়ে লাগানো সেই অবিশ্বাস্য রকম ছোট স্প্লিন্টের ছবি প্রকাশ্যে আসে। ছবিটি দেখলেই বোঝা যাচ্ছিল, কতটা সূক্ষ্ম হাতে এই চিকিৎসা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই ছবিটি মানুষের নজর কাড়ে। ছোট্ট হ্যামস্টারের পায়ে মানুষের ব্যবহৃত চিকিৎসা-উপকরণের এমন ক্ষুদ্র সংস্করণ দেখে অনেকেই বিস্মিত হন।

চিকিৎসার পর অবশ্য ভাসকা প্রথমে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিল। নতুন কিছু শরীরে লাগানো হয়েছে—এমন অনুভূতি যে তারও হয়েছিল, তা তার আচরণে বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু খুব বেশি সময় লাগেনি মানিয়ে নিতে। অল্প সময়ের মধ্যেই সে স্প্লিন্ট নিয়েই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও খাওয়া-দাওয়া শুরু করে।

এই ঘটনাটি হয়তো চিকিৎসাবিজ্ঞানের বড় কোনো আবিষ্কারের গল্প নয়। কিন্তু এর মধ্যে রয়েছে যত্ন, ধৈর্য আর একটি ছোট্ট প্রাণকে বাঁচিয়ে সুস্থ করে তোলার আন্তরিকতা। মানুষের কাছে একটি হ্যামস্টার হয়তো খুব ছোট প্রাণী। কিন্তু তার জন্যও ব্যথা, ভয় কিংবা সুস্থ হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা যে সমান বাস্তব—ভাসকার গল্প যেন সেই কথাটিই মনে করিয়ে দেয়।

Advertisements

একটি তুলার কাঠির ক্ষুদ্র টুকরো, সামান্য চিকিৎসা আর একজন চিকিৎসকের মমতা—এই তিনের সমন্বয়েই ছোট্ট ভাসকা হয়ে উঠেছিল এমন এক গল্পের নায়ক, যা আজও মানুষের মুখে হাসি ফোটায়।

Advertisements