Skip to content

৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মধ্যবিত্ত

ছবিঃ সংগৃহীত

আমি মধ্যবিত্ত অর্থনৈতিক হিসেবী হওয়াই আমার সৌন্দর্য
আমার বাবা দারিদ্র্যের থাবাগ্রস্ত পথের ফেরিওয়ালা, স্বপ্ন তার আমি একদিন বিদ্যাসাগর হবো!
এই বাজে, জঘন্য স্বপ্নের জন্যই বাবা নিয়ম করে খুব সকালেই ঘুম থেকে উঠে নিত্য উপার্জনের পথের পথিক হয়ে বের হয়ে পড়তেন।
আমাদের পরিবারে মা আছেন, সাথে ছোট ভাই-বোনও আছে।
বাবার শেষ বয়সে এসে আমি উচ্চ ডিগ্রী সার্টিফিকেট এর মালিক।


বাবা সপ্তাহ-খানেক বিছানায় পড়ে, মায়ের হাঁটুর ব্যথা টাও আগের চেয়ে বেড়েছে।
এদিকে ছোট ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচ আর সাথে পুরো সংসারের খরচ।
বাবা কাজে যেতে পারবেন না, শেষ সম্বলটুকু আমার পরিশ্রমের উপরেই নির্ভর।
মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে আমি, টাকার আমার অনেক প্রয়োজন।
সেদিন চাকরির খোঁজে বের হয়ে পড়লাম কিন্তু আফসোস রেফারেন্স নেই, নেই টাকার জোর আমার।
কিভাবে বুঝাবো এই শহরকে!
আমি মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে চাকরিটা আমার ভীষণ দরকার।


চাকরির খোঁজে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এ গলি ও গলি কোথাও নেই চাকুরী! সবখানেই রেফারেন্স আর টাকা।
পকেটটা ভীষণ ফাঁকা, নিজের ঘামের গন্ধ নিজের কাছেই অসহ্য লাগছে।
আতর-বডি স্প্রে, দামি এই পণ্যগুলো কেনবার মত সাহস আমার নেই!
বাবার পরনের পোশাক গুলো বেশ পুরনো হয়েছে সাথে বাবার জুতোগুলো ক্ষয়ে ক্ষয়ে মিশে গেছে এই শহরের রাস্তায়।
মায়ের নিয়ম করে হাঁটুর ব্যথা বেড়েই চলেছে।
ছোট ভাইটার শরীরে কদিন ধরে জ্বর, শরীর টা ভালো নেই।
এদিকে বোনের কোচিং ফি হয়ে গেছে বকেয়া, তারপর আবার ছিড়ে গেছে পোশাকখানা।
যা মা পুরনো হাড়ি পাতিল দিয়ে কিনেছিল সস্তায়।
আমি মধ্যবিত্ত বলেই উত্তপ্ত রোদে, বৃষ্টিস্নাত দিনে হেঁটেই চলি মাইলের পর মাইল আর এগুলো ভাবতে থাকি!
তারপর, বহুকষ্টে পৌছাই নিজের গন্তব্যস্থলে
যেখানে টিউশনিটাই একমাত্র অবলম্বন আমার।


সারাদিন ঘুরাঘুরি কইরা, বেদনার ভার বহন কইরা!
গলির মুখ দিয়া যাইবার সময় মনে হয়, চারিদিকে নরকের জ্বলন্ত আগুন দাউ দাউ করে আমাকে নরক প্রদেশের তাপ দিচ্ছে।
যাইবার সময় কতশত চেনা জন চারপাশে, কত ভালোবাসা, গান গাওয়া, এক নিমিষেই পেছন ফেইলা চইলা যাই ঘরে।
ঘরডার মাঝে যখন প্রবেশ করি ঘরটার চারপাশ স্তব্ধ লাগে।
তখন আমার ক্যান জানি শীত শীত তাচ্ছিল্য আর ব্যথা বন্দনা আরাধনা করে।
আর মৃত‍্যুর বিছানায় যখন গড়াগড়ি দি মনে হয় আমি মইরাও বাইচা আছি।
চূড়ান্ত মৃত্যুর আগে বাস্তবতার কষাঘাতে মানুষের একবার দুবার মরণ হয় মানুষ মরে নানা কারণে মরে।
অভাব-অনটন, হতাশা, গ্লানি অসম্মান, অপমানে মানুষ মরে।

অনন্যা/জেএজে

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ