Skip to content

৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তোমাদের নষ্ট সমাজ আমি ঘেন্না করি

জানোয়ারের পোলায় বিড়ি টানে দক্ষিণের কুণায়
গাঞ্জাও টানে মহল্লার আরো কয়েকটা বেজন্মার লগে।
প্রত্যেকদিন স্কুলে যাওনের টাইম রাস্তা আটকায়।
আমি ভয় পাইতাম!
মনে আছে আমার, পরথম দিন কাচু মাচু হইয়া
রাস্তায় থরথর কইরা কাঁপছি ডরে,
লগের বান্ধবীগুলান আমারে ছাইড়া
দৌড়াইয়া আগে আগে চইলা গেছে,
সেলিনার হাতে চাইপা ধইরা রাখছিলাম,
তয় লাভ হয় নাই।

রমিজের মুখে ধরানো বিড়িডা হাতথে ফেলাইয়া দিয়া
আমার সামনে আইসা খাড়ায়।
“তর এত দ্যামাগ ক্যারে শিউলি!
রূপের দ্যামাগ হইছে অনেক!
তোগো বাড়িতে বিয়ার প্রস্তাব পাঠাইছিলাম,
ফিরাইয়া দিছস ক্যা!
এক চোখ কানা বইলা!
তরে আমি বিয়া করতে না পারলে ……..”
কইতে কইতে মুখের সামনে আইসা খাড়াইছে,
আর আমি পিছাইতে পিছাইতে দেয়ালে গিয়া ঠেকলাম!
হঠাৎ, ওরে ধাক্কা দিয়া দৌড়াইয়া আর স্কুলে না গিয়া
বাড়ি আয়া হাপাইতে লাগলাম!
সবকিছু শুইনা বাপে কয়,
এইবার তর কলেজ যাওন বন্দ।
অনেক হইছে পড়াশুনা, আর না।
গরীব ঘরের রূপ রাস্তার কুত্তায় খায়
তরে বিয়া দিয়া আমি দুশ্চিন্তার হাত থেইকা মুক্তি চাই!

এক বুড়ো বেডার লগে এক সপ্তাহর মদ্দেই
আমার বাপে বিয়া ঠিক কইরা ফালাইলো।
আমারে দেইখা খুশিতে আমার হবু
বুড়া জামাইয়ের মায়ে
আমারে আংটি পড়াইয়া দিলো।
বুড়া বেডার অনেক টেকা।
সামনের বছর ইলেকশনে খাড়াইবো,
চেয়ারম্যান হইয়া গেলে, আমি হমু চেয়ারম্যানের বউ!

আয়নার সামনে গিয়া খাড়াইলাম।
বালা কইরা নিজের মুখটা দেখলাম!
পড়াশোনায় আমি খারাপ না,
জানি, বাপে একদিন বিয়া দিয়া দিতই, তবুও
বুকে আশা বাইন্দা পড়তে চাইছিলাম।
কিন্তু এই রূপ আমারে শান্তি দিলো না!
এই রূপ আমার বাপের ঘুম হারাম করছে!
বিয়া আমার করনই লাগবো।

দুইদিন পরেই, যৌতুকের টাকার হিসাব আইলো।
৩ লাখ টাকার মোটর সাইকেল হইলো
বিয়ার হাটে আমার রূপ আর জানের দাম।
তবুও আমার বাপে খুশি!
চেয়ারম্যানের লগে বিয়া বইলা কথা!

বিয়ার আগের রাইতে,
রমিজ আর রমিজের চ্যালা চামুন্ডি
টিন কাইট্টা ঘরে ঢুইকা আমার মুখে,
হাতে রশি বানলো।
আমার বাপেরে উঠানে আমগাছের লগে মুখ বন্দ কইরা বাইন্দা রাখলো।
আমারে নষ্ট করলো,
একজনের পর, একজন…

আমার রূপের আর কোনো দাম দিলো না সমাজ।
আমার দিকে ব্যাবাক্তে চাইয়া রইলো
আর আমারে বুঝাইয়া দিলো,
আমার আর কিছু হারানোর নাই!
আমার রূপ, মেধা, হাসি, খেলা, জীবন…
সবকিছু নাকি শরীরের লগে নষ্ট হইয়া গেছে!
আমি নাকি সমাজের অযোগ্য,
আমারে সমাজে রাখলে,
ছোট ছোট পোলাপান নষ্ট হইয়া যাইবো!
স্ত্রীগো স্বামীরা খারাপ হইয়া যাইবো!
আমারে দেখলেই,
সবার ঈমান-আমান নষ্ট হইয়া যাইবো!

বাপে কয়, তুই মইরা যা, তুই মইরা যা
তুই মইরা গিয়া আমারে মুক্তি দে!
আমার বাপে আমার কাছ থেইকাই এহন
মুক্তি চায়!

আমি কিন্তু মরি নাই!
আমি বাইচা থাকনের সিদ্ধান্ত নিছি ।
আমি বুইঝা ফালাইছি, নষ্ট আসলে কি!
নষ্ট আসলে আমি না, নষ্ট আসলে
আমার বাপ, আমার আপন, আমার প্রতিবেশী,
আমার সমাজ-
যারা আমার মরা মুখ দেখতে চায়।

মরা মুখ?
নাহ্! মরি নাই এহনও।
বাইচ্চা আছি।
ভালোভাবেই, সম্মান লইয়া বাইচ্চা আছি।
খালি তোমাগো বানাইন্না সমাজটারে ছাইড়া দিছি !
আমি এখন অন্য জেলায় থাকি।
আমারে এহানে কেউ চেনে না!
আমি রাইতে সেলাই করি,
দিনে হোটেলের খাওন রান্দি।
তয় সময় পাইলে বই পড়ি!
আমার পড়তে খুব ভালা লাগে!
বইরে আমার খুব ভালো লাগে,
বইরে আমি ভালোবাসি!
বইরে আমি সমাজ মানি।
শিক্ষা আমি অধিকার মানি।
রূপেরে আমি ঘেন্না করি!
তোমাগো নষ্ট সমাজ
আমি ঘেন্না করি!!