Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হেমন্তে নবান্নে 

সোনার দেশে মেঠো পথে কত তারা জ্বলে আকাশে
হাটতে গিয়ে প্রাণ জুড়ালো হিম হিম হৈমন্তী বাতাসে,
মন ভরালো আলোর নাচন পাকা পাকা ধানের শীষে,
পা জড়াল আ'লে দূর্বাঘাসে শবনমের চুম্বনের আবেশে,
হলুদ পরীর ঢেউ খেলানো চুলে মাঠের পরে দিন দুপুরে

ছন্দে হিন্দোল পদ্ম পুকুরে পল্লীবালার নগ্ন পায়ে নূপুরে,
পূর্ণ চাঁদের জ্যোৎস্না বাধ ভেঙ্গেছে কত মনোহরা নিখিল,
ফসল কাটার ধুম পড়েছে দূরের গায়ে আলো ঝিলিমিল
ব্যস্ত প্রহরে কৃষাণ বধূর মনোমাঝে সুখ যেনো অনাবিল।

শৈল্পিক পাখি বুনে নকশীকাঁথা শাল পিয়ালের বনটায়,
নতুন ফসলের মৌ মৌ গন্ধে গাপল করে সেই ক্ষণটায়।
উত্তরী সমীরণ গায় শীতের আগমনী গান তার উপমায়
আশার প্রদীপ ধেয়ে চলে যখন তখন সুখের মোহনায়,
নীরবে লিখে কাব্যগাথায় রটিয়ে দেয় তারায় তারায়।

প্রেয়সীর অধরের তিলে মিশে গেছে নীলিমার নীলে,
কাঁঠালি ফুলের গন্ধ গায়ে মেখে খেলা করে শঙ্খচিলে।
কার্ত্তিক,অগ্রাণ মাসে কৃষাণ বধূ ব্যস্ত শুধু পিঠা,পায়েসে,
কত যে কুমারী বাসনার কালের সাক্ষী এই তল্লাটে
দুরন্ত দুর্বার ভালোবাসা রঙ মিশে পরিবেশটা তামাটে।

প্রশান্তি নীড় ও নিগুঢ় প্রেমের বন্ধন যুগপদ ইতিহাসে,
নাবালিকা স্বপ্ন পেয়েছে পূর্ণতা পল্লীমায়ের কোলে এসে।
ছলিমুদ্দি,কলিমুদ্দি শ্রমে হয়েছে খাঁটি সোনা এই বাটে,
কত কায়ক্লেশে যাচ্ছে কেটে দিন জীবনের এই হাটে।

কৃষাণের দিলটা আজও সোনালি রোদ্দুরের তালাসে,
শাপলা পুকুরে ভাসে দিঘীর জলে জ্যোৎস্না হাঁসে।
প্রাপ্তি,প্রত্যাশার বেলুন যদিও নিয়ম করে গেছে টুটে,
হৃদয়টারে গোধূলীবেলা অনিন্দ্য রূপসী নিয়েছে লুটে,
এসো একগাল হেসো সব কুলি,মুটে মমতা সহজে জুটে

পাড়ায় পাড়ায় উঠেছে নতুন ধান ঘরে ঘরে হবে নবান্ন
কত কাল অভুক্ত থেকে জুটে এ বেলায় দু'মুঠো অন্ন,
প্রকৃতির পান্থশালায় নয় তারা নগণ্য হয় না কভু বন্য,
ঘামের দামে শ্রমের নামে তারা ধন্য বিশুদ্ধতায় অনন্য।