Skip to content

২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নৈঃশব্দ্যের বাপু

প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে  তোমার তো তেমন বিশ্বাস ছিল না বাপু
রাষ্ট্র ব্যক্তি মানুষের স্বাভাবিক, সার্বিক ব্যক্তিত্বের বিকাশ হতে দেয় না
অথচ তোমার নাম করে দিনের পর দিন  দেশজুড়ে খাওয়ানো হয় জাতীয়তাবাদের আফিম। 

 

সেই জাতীয়তাবাদ, ক্রমে ভিন্ন ভিন্ন জাতীকে ঘেন্না করতে শেখায়
সেই জাতীয়তাবাদ অস্ত্র কেনে, সৈন্য পোষে, যুদ্ধ লাগায়
অন্য সবার মাথার খুলির ওপর ডিনামাইট চালিয়ে দিয়ে
ক্রমেই এক দেশ, এক ধর্ম, এক ভাষার দিকে ধাবিত হয় । 

 

ধর্ম বিদ্বেষ, উঁচু নিচু জাত বিদ্বেষ, দাঙ্গা থামেনি এখনো
চরকা ঘুরে চলেছে
মানুষে মানুষে সম্পর্কের সুতোগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন
গঙ্গা বইছে, পদ্মা বইছে, সূর্য উঠছে, সূর্য ডুবছে
পরস্পরের বিরুদ্ধে ঠুসে ধরা অস্ত্র গুলো মাটিতে চাপা দিয়ে
মানুষ,পাখির মতো উড়ে যেতে পারছে কয়। 

 

চাঁদের বুড়ি নিঃশব্দে তাঁত বুনে চলে আকাশ জুড়ে
আমরা জঙ্গী বিমান পুষে, রূপকথাকে হত্যা করে ফেলি রোজ
আমরা ভুলে যায় তোমার হরিজন আন্দোলনের মধ্যেও কম্যুনিজম আছে
আমরা ভুলে যায় রবীন্দ্রনাথের বিশ্বচেতনার আলোক,তোমাকে ঘিরেও বাঁচে

 

কুষ্ঠ রোগীর ঘিনঘিনে বাগানেও ফুল ফোটাতে চেয়েছিলে তুমি
অনবরত কথা বলে যাওয়ার পৃথিবী থেকে মাঝে মাঝে নৈঃশব্দ্যের বুকে
নিতে চেয়েছ আশ্রয়
তোমার মৌন ব্রত ধর্মীয় কোনো আচরণ নয়
একাকী নিজের সাথে নিজের, ভেতরের ঈশ্বরের সাথে যোগসূত্রের সাধনা, বড় কঠিন
যদিও দেশ ভাগ নিয়ে তোমার অফুরান নীরবতা আমি মেনে নিতে পারি না কোনোদিন, প্রিয় বাপু।