Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঘরের কোণে স্বস্তির আভাস!

ব্যস্ত এই যান্ত্রিক নগরীতে বুকভরে নিঃশ্বাস নেয়ার সহজ উপায় হচ্ছে, ঘরের কোণে অল্প সবুজের বসবাস তৈরি করা। নিমিষেই যা এনে দেবে মনের প্রশান্তি, চোখের শান্তি। আর তা যদি হয় স্বল্প খরচে এবং কম যত্নে, আবাসস্থল হয়ে উঠবে অনাবিল আনন্দের উৎস।

 

ঘরের অতিরিক্ত আসবাবপত্র প্রয়োজনের তাগিদে দখল করে নিচ্ছে শহরের বারান্দাগুলোকে। এর মধ্যে নিজের পছন্দের গাছগুলোর জন্য জায়গা তৈরি করা কিছুটা কষ্টসাধ্য। ইনডোর প্ল্যান্টের জুড়ি নেই এক্ষেত্রে।

 

প্রথমেই বলা যায় কম যত্নের অতি পরিচিত গোল্ডেন পথোস এর কথা। গোল্ডেন পথোস আমাদের কাছে মানি প্ল্যান্ট নামেই পরিচিত। পরিপূর্ণ যত্ন আর প্রশস্ত জায়গা পেলে ২০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু হয়ে পাতা মেলে সগৌরবে দাড়িয়ে থাকতে পারে এই মানিপ্ল্যান্ট। ঘরের মধ্যে টক্সিন আর দুর্গন্ধ দূর করতে এর জুড়ি নেই। গাছের প্রধান খাদ্য মাটির সাথে অল্প পরিমাণে বালু, ইটের গুঁড়োতে বেশ ভালো থাকে এই প্ল্যান্ট। বেশি রোদে এর পাতা পুড়ে যায়। তাই ঘরের ভেতর উজ্জ্বল আলোছায়া যুক্ত স্থান এর উপযুক্ত জায়গা। ডালের কাটিং থেকে সহজেই  জন্ম নিতে পারে এই গাছ। মানিপ্ল্যান্ট বাতাস থেকে টক্সিন টেনে নেয়ার কারণে এর পাতায় টক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বাচ্চা বা পোষাপ্রাণীর মুখে গেলে কিছুটা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই।

 

স্নেক প্ল্যান্টের আরেকটি জনপ্রিয় নাম হচ্ছে মরুর গাছ। বিশ্বব্যাপী এটির আরো একটি মজার নাম আছে তা হল শাশুড়ির জ্বিহবা। কম পানি ও রোদে বেঁচে থাকা গাছটি সহজেই জায়গা করে নিতে পারে অন্দরমহলে। মাটির সাথে সামান্য বালু মিশিয়ে তৈরি হয় এই গাছের মিডিয়া৷ হাতের নাগালে পাওয়া এই গাছের গোঁড়ায় যাতে পানি না জমে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসা'র তালিকায় প্রথম দশটি বাতাস বিশুদ্ধিকরণ গাছের মধ্যে এটি একটি। অল্প কিছু গাছের মধ্যে স্নেক প্ল্যান্ট এমন একটি গাছ যা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে অক্সিজেনে রূপান্তরিত করে তাও আবার রাতের বেলা! এছাড়া কার্বন-মনোক্সাইড, ফরমালডিহাইড এর মতো ক্ষতিকর  পদার্থ  বাতাস থেকে শোষণ করার জাদুকরী ক্ষমতা রাখে এই গাছ।

 

নাম স্পাইডার প্ল্যান্ট হলেও মাকড়সার মতো আটটি পা নেই তার। বরং কম পানি, নামে মাত্র মাটি আর সাদা বালুতে ঝোপালো হয়ে থাকে এই গাছ৷ ঘরের ছোট্ট ছায়াযুক্ত স্থান বেশ আরামদায়ক এই গাছের জন্য। মাটি শুকিয়ে যাওয়ার আগে পানি দিতে হয় না একেবারেই।

 

জ্যামিওকুলাস জ্যামিফোলিয়া নামের প্রজাতির এই গাছ সংক্ষেপে জেজে প্ল্যান্ট নামে পরিচিত। প্রচুর পরিমাণে ইনডাইরেক্ট সূর্যের আলো আর স্বল্পপানিতে ভালো থাকে এই গাছ। পানির পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে সহজেই পঁচে মারা যেতে পারে এই গাছ। যদিও খুব সহজলভ্য নয় এই ইনডোর প্ল্যান্টটি তারপরও নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এ গাছের চাহিদা রয়েছে। 

 

নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ করেই যেন বাঁধ সেধে বসে করোনার ভয়াল থাবা। জনজীবনের ব্যস্ততা স্বাভাবিকভাবে কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। এই সময়টুকুতে কিছুটা পরিচর্যা পেলেই অন্দরমহলের ছোট একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে আপনার স্বস্তির নিরাপদ জায়গা। চলছে বর্ষার মৌসুম। নিয়মিত গাছের আগাছা পরিষ্কার এবং পানি বদলে দেয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে জীবনের নিরাপত্তা। ডেংগি মশার প্রজননক্ষেত্র যেন শখের গাছগুলো না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ইনডোর প্ল্যান্টগুলোতে পানি পরিমাণে কম দিতে হয় বলে এই বর্ষার মৌসুমে ইনডোর প্ল্যান্ট ঘরে থাকলে ডেংগি মশার ভয় একেবারে নেই বললেই চলে।