রঙিন পানির দেশ রাশিয়া

রঙিন পানির দেশ রাশিয়া
রঙিন পানির দেশ রাশিয়া
রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রধান চালিকাশক্তি প্রাকৃতিক সম্পদ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস ব্রম বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো গ্যাস উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। ইউরোপের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মিটিয়ে চলছে এই গ্যাস ব্রম। প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে ভরা রাশিয়ায় ১২ টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়ছে।

পৃথিবীর মধ্যে যেন আরেকটা মিনি পৃথিবী, যার নাম রাশিয়া। রাশিয়াকে একটি দেশ বললে বোধহয় ভুল হবে, কারণ এর যে দৈত্যাকার আয়তন তাতে অনায়াসে একে মহাদেশ বলা যায়। রাশিয়া ম্যাপল পাতার দেশ কানাডার প্রায় দ্বিগুণ। আর বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো রাষ্ট্র হল রাশিয়া। পৃথিবীর মোট আবাসভূমি আট ভাগের এ ভাগ রয়েছে রাশিয়ায়। যা বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় ১১৬ গুণ। যেখানে আমাদের দেশের সময় অঞ্চল শুধু ঢাকা। সেখানে রাশিয়া মোট ৯টি সময় অঞ্চলে বিভক্ত। রাশিয়াতে প্রায় ১৪৩ বিলিয়ন মানুষ বসবাস করে। রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ শক্তিধর পাঁচটি দেশের একটি।

 

দেশটি একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার আগে এই দেশটি আরো বড়ো ছিল। সাংবিধানিকভাবে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ রাশিয়া। শীত প্রধান দেশ রাশিয়ায় পুরো বছর ধরে তাপমাত্রা হিমাঙ্গের নিচে থাকে।  নিজেদের তীব্র ঠাণ্ডা থেকে বাচাতে সেখানকার মানুষ মদকে সাধারণ পানীয়র মতোই পান করে থাকেন। মদ্য পানের দিক থেকে বিশ্বে রাশিয়ার স্থান চতুর্থ। রাশিয়ানরা পানীয় এর চেয়ে বেশি মদ্য পান  করে থাকেন। ২০১১ সাল পর্যন্ত রাশিয়াতে ১০ শতাংশের কম আ্যালকোহলযুক্ত যে কোন কিছু স্বাভাবিক পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো এদেশে পুরুষদের তুলনায় নারীর সংখ্যা অনেক বেশি। রাশিয়ান পুরুষদের ২৫ শতাংশ তাদের বয়স ৫৫ হবার আগেই মারা যান।  যার প্রধান কারণ অতিরিক্ত মদ্যপান। 

 

বিশ্বের প্রতিটি দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেখা গেলেও রাশিয়াতে প্রতি বছর ০.০২ শতাংশ হারে জনসংখ্যা কমে আসছে। তাই প্রতি বছর রাশিয়াতে বেশ কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য সেখানকার স্থানীয় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। মস্কো রাশিয়ার রাজধানী এবং দেশটির বৃহত্তর শহর। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিলিয়নিওররা বাস করের। রাশিয়ান প্রায় ৭৩.৮ শতাংশ জনসংখ্যা শহরের কেন্দ্র গুলিতে বসবাস। মস্কো বার্সেল গির্জাটি পোষ্টানিক নামের এক ব্যক্তি তৈরি করেছিলেন এবং এই গির্জা তৈরি করার পর তাকে অন্ধ করে দেওয়া হয় যেন সে এই গির্জার সমকক্ষ কিছু তৈরি করতে না পারো। রাশিয়ায় স্বাক্ষররতর হার অনেক বেশি। এখানে প্রায় ৯৯.৭ শতাংশ মানুষ শিক্ষিত। তারা কোন রকম সময় নষ্ট না করে বা,  ট্রেন, এবং যানবাহনে কোথাও যাবার পথে বিভিন্ন বই পড়ে থাকেন।  রাশিয়ায় নারীরা কর্মক্ষেত্রে এবং সকল জায়গাতেই পুরুষের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে চলেন। 

 

রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রধান চালিকাশক্তি প্রাকৃতিক সম্পদ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস ব্রম বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো গ্যাস উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। ইউরোপের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মিটিয়ে চলছে এই গ্যাস ব্রম। প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে ভরা রাশিয়ায় ১২ টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়ছে। বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথও রাশিয়ায় অবস্থিত। ট্রানস সাইবেরিয়া রেলপথ মস্কোকে রাশিয়ার পূর্বদিক পর্যন্ত সংযুক্ত করেছে। এই রেলপথটি ৯ হাজার ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত যা বিরতিহীন ভাবে পাড়ি দিতে ১৫২ ঘণ্টা ২৭ মিনিট সময় লাগে।