সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় ইভের আমাল ফাউন্ডেশন 

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় ইভের আমাল ফাউন্ডেশন 
ইসরাত করিম ইভ
মন্দটা থেকে শিক্ষা নিয়ে আর ভালোটা আঁকড়ে ধরে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চান ইভ। ইভের কাছে সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে যখন অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের হাতে কিছু একটা তুলে দিতে পারেন।পথ চলতে বাঁধা আসে সমাজের কিছু অসাধু মানুষেরা সামনে পড়ে কিন্তু ইভ রুখে দাঁড়ায়, মোকাবেলা করে।

এমন একটি সংগঠন করার স্বপ্ন যেখানে প্রশাসনিক বা অন্যান্য কার্যক্রমের চেয়ে মানুষকে সহযোগিতা করার কাজ বেশি হবে। দেশে বিদেশে বিভিন্ন এনজিওতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এবং বিভিন্ন পদে দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই ইভ এর আমাল ফাউন্ডেশনের পথচলা।

 

পুরো নাম ইসরাত করিম ইভ প্রতিষ্ঠাতা আমাল ফাউন্ডেশন। ইভের ছোটবেলা কাটে বগুড়া শহরে,বাবা-মা ও তিন ভাইবোনের দারুণ সংসার, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইনান্সে বিবিএ করেন। দেশের বাইরে কলারাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক বিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ২০১৪ সালে দেশে ফিরে আসেন ২০১৫ সালেই শুরু করেন আমাল ফাউন্ডেশনের কাজ। 

 

মিরপুরের ধামালকোট বস্তিতে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা দিয়ে শুরু আর ইভের এ ধরনের নানান  কাজের ফসল আজকের আমাল ফাউন্ডেশন। আমাল ফাউন্ডেশনের মূলত চার ধরনের কর্মকাণ্ড রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাবলম্বীকরণ, দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে কাজ করা। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল বাচ্চাদের জন্য রয়েছে স্কুল। নারীদের জন্য রয়েছে স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের রয়েছ বিশেষ কিছু কার্যক্রম। টেকনাফ ও উখিয়ায় তাদের বেশ কয়েকটি স্কুল ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার রয়েছে।

 

দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্রামীণ মানুষের অবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে তারা। স্যানিটেশন, নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল করে দেওয়া, পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা, চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণসহ নানান ধরণের কাজ রয়েছে। অসচ্ছল পরিবারের অবস্থা উন্নয়নের জন্য কাউকে দোকান করে দেওয়া, রিকশা/ভ্যান কিনে দেওয়া, গরু/ছাগল কিনে দেওয়ার কার্যক্রম রয়েছে তাদের। বিভিন্ন জায়গায় আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে তারা। দেশে বন্যা, আগুন লাগাসহ যেকোনো দুর্যোগে আমাল ফাউন্ডেশন সদা প্রস্তুত। মানবসেবায় নানান অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ নির্বাচিত হয়েছেন Forbes 30 Under 30 Asia পেয়েছেন Shaikh hasina Youth Award, GITA Global Award নির্বাচিত হয়েছেন Global Icon হিসেবেও।

 

মন্দটা থেকে শিক্ষা নিয়ে আর ভালোটা আঁকড়ে ধরে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চান ইভ। ইভের কাছে সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে যখন অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের হাতে কিছু একটা তুলে দিতে পারেন। পথ চলতে বাঁধা আসে সমাজের কিছু অসাধু মানুষেরা সামনে পড়ে কিন্তু ইভ রুখে দাঁড়ায়, মোকাবেলা করে।

 

সংগঠন নিয়ে স্বপ্ন আছে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে যাবার, দেশ নিয়ে স্বপ্ন ইভের দেশ একদিন সফলতায় আকাশ ছোঁবে। সর্বোপরি মানুষের জন্য দেশের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চায় ইভ। সবাইকে মানুষের পাশে থাকার আহ্বানে ইভের শ্লোগান একটাই, কাজ করতে হবে যথাযথ জায়গায়, যথাযথভাবে, প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়, মানুষের উপকারের উদ্দেশ্যে, সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে সঠিক মানুষের কাছে।