তন্বী ও বৃষ্টির উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প

তন্বী ও বৃষ্টির উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প
তন্বী ও বৃষ্টির উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প
ফারজানা তন্বী তার শৈশবের কিছু কথা বলেন। খুব ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক বিষয়গুলির সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। সেইসময়ে তার স্টার হওয়ার ইচ্ছা ছিল। স্টেজ পারফর্মে তিনি খুব পারদর্শী ছিলেন। মাঝে পড়াশোনার চাপ ও বিয়ের পর থেকে তার এগুলি প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। পরবর্তীতে WE তে জয়েন করার পর তিনি আবার সেই সুযোগটি আবার পেয়েছেন। বড় বড় প্রোগ্রামগুলি হোস্ট করে তার মনে হয়েছে তিনি তার স্বপ্নের জায়গায় আছেন এখন। 

গত রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পাক্ষিক অনন্যা ও Women and e-Commerce forum – WE এর যৌথ আয়োজন "উদ্যোক্তার গল্প" অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেদত্রয়ী এর স্বত্বাধিকারী বৃষ্টি দেব এবং ডিজাইন হাইভ এর স্বত্বাধিকারী ফারজানা তন্বী। প্রত্যেক রবিবার এই "উদ্যোক্তার গল্প" অনুষ্ঠানে সকল বাধা পেরিয়ে সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠা নিয়ে তারা গল্প করেন। এসএসবি লেদারের স্পন্সরে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন তাসনিয়া আলভী। 

 


অনুষ্ঠানের প্রথমেই ফারজানা তন্বী ও বৃষ্টি দেব অনন্যাকে ধন্যবাদ জানায়। এরপর ফারজানা তন্বী তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করেন। তিনি জানান উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার আইডিয়াটি আসলে তার নিজের ছিলোনা। অনার্স পাশ করার পর একটা ভালো চাকরি করছিলেন তিনি। এরপর বিয়ে হবার পর তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ শুরু করেন। মূলত WE এর জ্যোতি তাকে এই কাজের জন্য উৎসাহ দেন ও এটি নিয়েই এগিয়ে যেতে বলেন। তার কথামতো তিনি পেজও খুলে ফেলেন। সেই থেকেই তার উদ্যোক্তা কাজের শুরু যা এখনো চলছে।

 


এরপর বৃষ্টি দেব তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলেন। তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার শুরু হয় ‘পড়ালেখার পাশাপাশি নিজে কিছু একটা করতে হবে’ এই চিন্তা থেকে। ২০১৯ সালে হাতে তৈরি গহনা নিয়েই তার উদ্যোক্তা জীবন শুরু হয়। প্রথমদিকে ফ্রেন্ডস, আত্মীয়রা তার পণ্যের কাস্টমার। কিন্তু কিছুদিন পর পড়ালেখার চাপের কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে WE এর হাত ধরে তার এই উদ্যোগ আবার শুরু হয় করোনাকালীন সময়ে। এরপর কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী খাদি, বাটিক নিয়ে তিনি কাজ করতে শুরু করেন। 

 


এরপর ফারজানা তন্বী তার শৈশবের কিছু কথা বলেন। খুব ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক বিষয়গুলির সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। সেইসময়ে তার স্টার হওয়ার ইচ্ছা ছিল। স্টেজ পারফর্মে তিনি খুব পারদর্শী ছিলেন। মাঝে পড়াশোনার চাপ ও বিয়ের পর থেকে তার এগুলি প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। পরবর্তীতে WE তে জয়েন করার পর তিনি আবার সেই সুযোগটি আবার পেয়েছেন। বড় বড় প্রোগ্রামগুলি হোস্ট করে তার মনে হয়েছে তিনি তার স্বপ্নের জায়গায় আছেন এখন। 

 


তন্বী WE তে জয়েন করেছিলেন ফেসবুক থেকে। ফেসবুক পেজ দেখে তিনি WE তে এক্টিভ হয়েছিলেন। অন্যদিকে বৃষ্টি WE তে ২০১৯ এর ২৪ শে নভেম্বরে জয়েন করেন। প্রথমে তিনি তেমন এক্টিভ ছিলেননা। এরপর একদিন হঠাৎ WE এর একটা লাইভ দেখেছিলেন। এই লাইভ দেখেই তিনি WE সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। সেদিন রাত থেকেই তিনি WE এ এক্টিভ হতে শুরু করেন। এরপর থেকে অনলাইনে বিভিন্ন প্রোগ্রামে ছিলেন তিনি। WE এর সবার সাথে অনেক ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। এখন WE এর সবাই অনেক আপন হয়ে গেছেন। 

 


WE এর সবাই আসলে মেয়েদের অনেক সাহায্য করেন জীবনে এগিয়ে যাবার জন্য। WE এর আপুরা বুঝতে পেরেছিলো যে আসলে একজন মেয়েকে এগিয়ে যেতে কাজ করে যেতে অনেক স্ট্রাগলের সম্মুখীন হতে হয়। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তারা ভবিষ্যতে এমন কিছু করবে যেন মেয়েদের কাজ করে এগিয়ে যেতে সুবিধা হয়। এই লক্ষ্য নিয়ে তারা WE এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের সাহায্য করে যাচ্ছেন। শূন্য থেকে শুরু করা নারীদের তারা ক্যারিয়ার গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তারা।

 


বৃষ্টি দেব বলেন, আসলে এই পর্যন্ত আসতে আমাদের অনেক কিছু শিখতে ও অনেক এক্সপেরিমেন্ট করতে হয়েছে। সব কাপড়ে কিন্তু সব রং ভালো মতো বসেনা। এর জন্য অনেক কাপড় কিনে রাখা আছে যেগুলো পুরোই এক্সপেরিমেন্টাল। এরপর ফারজানা তন্বী তাদের বিভিন্ন প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলেন। এভাবেই চলতে থাকে দুই উদ্যোক্তার আড্ডা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দুই উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন সঞ্চালক।