কালি ও কলম পুরস্কার পেলেন মোজাফফর হোসেন

কালি ও কলম পুরস্কার পেলেন মোজাফফর হোসেন
মোজাফফর হোসেন
তিমিরযাত্রা তরুণ কথাকার মোজাফফর হোসেনের প্রথম উপন্যাস। উত্তরাধুনিক যুগের এই  উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবিক সম্পর্কের অবক্ষয়, ব্যক্তি হতাশা বিচ্ছিন্নতার ঘটনায়  লেখা হয়েছে। উপন্যাসটি প্রচ্ছদ করেছেন চিত্রশিল্পী গৌতম ঘোষ। 

২০২০ সালের কথাসাহিত্যে 'তিমিরযাত্রা'র জন্য 'কালি ও কলম' পুরষ্কার জিতলেন মোজাফফর হোসেন।  ২০২০ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় মোজাফফর হোসেনের উপন্যাস তিমিরযাত্রা। উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড। 

 

তিমিরযাত্রা তরুণ কথাকার মোজাফফর হোসেনের প্রথম উপন্যাস। উত্তরাধুনিক যুগের এই  উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবিক সম্পর্কের অবক্ষয়, ব্যক্তি হতাশা বিচ্ছিন্নতার ঘটনায়  লেখা হয়েছে। উপন্যাসটি প্রচ্ছদ করেছেন চিত্রশিল্পী গৌতম ঘোষ। 

 

২০০৮ সাল থেকে ‘কালি ও কলম' শিরোনামে এই পুরস্কারটি  তরুণ কবি ও লেখকদের দেওয়া হচ্ছে। সম্মাননা হিসেবে নির্বাচিত লেখকদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা দেওয়া হয়। 

 

মোজাফফর হোসেন ১৯৮৬ সালে মেহেরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পেশা জীবন শুরু করেন সাংবাদিকতা দিয়ে। বর্তমানে এই তরুণ লেখক  বাংলা একাডেমীতে অনুবাদ-কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। মূলত ছোটগল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ তার। তবে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে অনুবাদ এবং সমালোচনা সাহিত্যে। 

 

'অতীত একটা ভিনদেশ' গল্পগ্রন্থের জন্য তিনি এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্য পুরস্কার-২০১৭, 'মিডিয়া ভার্সেস নোবডি' গল্পের জন্য বৈশাখি টেলিভিশন তোমার গল্পে সবার ঈদ-২০১৩, ‘পুনরুত্থান' গল্পের জন্য অরণি ছোটগল্প পুরস্কার-২০১৩ এবং 'স্বাধীন দেশের পরাধীন মানুষেরা' গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপির জন্য 'আবুল হাসান সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮’তে ভূষিত হন। গত শুক্রবার এক অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি একযোগে কালি ও কলম এবং আইএফআইসি ব্যাংকের ফেইসবুকে পেজে প্রচার করা হয়। 

 

ত্রপা মজুমদার ও লুভা নাহিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং প্রয়াত কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাতকে স্মরণ করে দুটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন এবং কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে শুরু হয় মূল আয়োজন। এরপর বিচারকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে বিজয়ীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ।অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদ বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, 'দেখা গেছে পূর্বের সকল কালি ও কলম পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকরা তাদের পরবর্তী কাজগুলো দিয়ে আরও সফল এবং পরিণত হয়েছেন। আশা করি আপনারাও সেই ধারা অব্যাহত রাখবেন।' অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন, 'আমাদের জীবনের মুহূর্তগুলোকে মূল্যবান করে তোলার জন্য সকল সাহিত্যিক কাজ করে যাচ্ছেন, তাই তাদের ধন্যবাদ। আরও ধন্যবাদ জানাই কালি ও কলমের মতন সেইসব প্রতিষ্ঠানকে যারা এসব সাহিত্যচর্চাকে প্রতিনিয়ত নানাভাবে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।'

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইএফআইসি ব্যাংক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী শাহ এ সারওয়ার। তিনি বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক যাত্রার শুরু থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উদ্যোগের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা রেখেছে। আমরা বিশ্বাস করি সাংস্কৃতিক পরিশীলন ছাড়া একটি সমাজের সর্বাত্মক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই পথচলার ধারাবাহিকতায় আমরা গর্বিত কালি ও কলমের সাথে জড়িত হতে পেরে। আশা করি বাংলাদেশের সাহিত্যের উন্নয়ন ও বিকাশে আমাদের এই যৌথ প্রয়াস কিছুটা হলেও অবদান রাখতে সক্ষম হবে।' সবশেষে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী অদিতি মহসিনের সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আয়োজন শেষ হয়।