এক্সিবিশন

নানারঙের অনুষঙ্গ

নানারঙের অনুষঙ্গ
মাহাবুব আলম তার শিল্পকর্মে কালির তরল প্রবাহে বা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম আঁচড়ে বৃক্ষরাজি এবং ভূপ্রকৃতি চিত্রায়িত করেন। ইকবাল বাহার চৌধুরীর এক্রিলিক শিল্পকর্মগুলি, আক্ষরিক ও ভাবার্থে, এক ঘূর্ণিকেই দৃশ্যমান করে তোলে, তার বিমূর্ত হস্তশিল্প যেন নিশ্চুপ প্যালেট-এর এক একটা গল্পের বয়ান। এসএম এহসানের কোলাগ্রাফগুলো বিন্যাসিত, অকপট এবং বক্তব্যসমৃদ্ধ। কুন্তল বড়াই-এর এপ্রোচ যেন একটু বিশেষভাবে ধ্রুপদী অথচ প্রান্তসীমায় ঝুলন্ত, যেন তার কাজ নিচু ও উচ্চমাত্রার প্রকাশবাদী রঙের গোলোকধাঁধা পাকিয়ে তুলেছে, যেন ইচ্ছে করলেই এক জাদুর ঘূর্ণিতে তারা বহির্বাস্তবতায় কায়াময় হয়ে উঠতে পারে।

আলিয়াঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার গ্যালারি জুমে শুরু সদ্যসমাপ্ত হলো ‘অনুষঙ্গ’ শীর্ষক দলীয় চিত্র-প্রদর্শনী। প্রদর্শনীটি গত ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৮শে সেপ্টেম্বর শেষ হয়। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন : নাসরিন জাহান, সাজিয়া রহমান সন্ধ্যা, জাকিয়া আফরোজ, রাজিন মুসতাফা দীপ্র, প্রীতম পিতু, বাপ্পি লিংকন রায়, প্রদীপ সাহা, শারমিন আকতার লীনা, নবরাজ রায়, নাবিলা নবী, পারভেজ হাসান রিগান, কুন্তল বড়াই,  এস এম এহসান,  ইকবাল বাহার চৌধুরী এবং  মাহাবুব আলম। 


মাহাবুব আলম তার শিল্পকর্মে কালির তরল প্রবাহে বা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম আঁচড়ে বৃক্ষরাজি এবং ভূপ্রকৃতি চিত্রায়িত করেন। ইকবাল বাহার চৌধুরীর এক্রিলিক শিল্পকর্মগুলি, আক্ষরিক ও ভাবার্থে, এক ঘূর্ণিকেই দৃশ্যমান করে তোলে, তার বিমূর্ত হস্তশিল্প যেন নিশ্চুপ প্যালেট-এর এক একটা গল্পের বয়ান। এসএম এহসানের কোলাগ্রাফগুলো বিন্যাসিত, অকপট এবং বক্তব্যসমৃদ্ধ। কুন্তল বড়াই-এর এপ্রোচ যেন একটু বিশেষভাবে ধ্রুপদী অথচ প্রান্তসীমায় ঝুলন্ত, যেন তার কাজ নিচু ও উচ্চমাত্রার প্রকাশবাদী রঙের গোলোকধাঁধা পাকিয়ে তুলেছে, যেন ইচ্ছে করলেই এক জাদুর ঘূর্ণিতে তারা বহির্বাস্তবতায় কায়াময় হয়ে উঠতে পারে। পারভেজ হাসান রিগ্যানের ফর্মে রয়েছে বেশ রূপকধর্মিতা এবং তাতে যে রং মূর্ত হয়ে উঠেছে তাও বেশ অনেকটা ঝলমলে এবংস্গ্ধনি।

হাতে বোনা সূচিশিল্প এবং পশমী গেরোর বুননে নাবিলা নবী এনেছেন ট্যাপেস্ট্রির এক সংগ্রহ, যার শিল্পরূপ প্রতিফলিত করে প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ, যেমন লাল গোলাপ, এবং ফর্মেও সেগুলো বলিষ্ঠ ও মনোমুগ্ধকর। নবরাজ রায়-এর ফর্মও বর্ণনা করে সেই রঙিন  তৃণভূমি যেথা প্রাণি আর পাখি এক হয়ে মিশে গেছে। এক্রিলিক মাধ্যমের ব্যবহারে শারমিন আকতার লীনা আঁকেন প্রতিনিধিত্বমূলক অবয়ব, যেমন গভীর শ্যামলিমা ও পাতার মোটিফের মাঝে কোনো তরুণীর হাতে অলংকৃত পাখি। প্রদীপ সাহার শিল্পকর্মে পাওয়া যায় এক ধোঁয়াশার আবরণ, যার আড়ালে হয়ত উঁকি দেয় পাহাড়ের ওপর কোনো কুঁড়েঘর অথবা প্রকৃতি ও মানবসৃষ্ট স্থাপনার সুখস্থিত মিথস্ক্রিয়া।

বাপ্পি লিংকন রায়-এর রংগুলো যেন অস্থিরচিত্ত। বাংলাদেশের লোকায়ত শিল্পরূপ আর  শৈলির উত্তরাধিকারে, প্রীতম পিতুর ক্যানভাস প্রদর্শন করে রৌদ্রালোকিত দিনে পাখিদের কাকলিকূজন উৎসব। রাজিন মুসতাফা দীপ্র তার শিল্পকর্মে নীল এবং কমলার বিভিন্ন শেড-এ বিভিন্ন রঙের ছোপ বসান আর এভাবেই পেয়ে যান ভালোবাসাময় গতি। জাকিয়া আফরোজের কাজে খুঁজে পাওয়া যায় গামছা বোনার প্যাটার্ন। সাজিয়া রহমান সন্ধ্যার বৃষ্টি-অনুপ্রাণিত শিল্পকর্মগুলো হয়ত আমাদের মনে প্রথম বৃষ্টির সোঁদা ঘ্রাণ জাগিয়ে তুলতে পারে।

কারণ তিনি কালার স্কিম হিসেবে মাটির বিভিন্ন রংকে ব্যবহার করেন। অন্যান্য অনুভূতির সাথে সাথে, ভয়ার্ত এবং অপরিচিত ভাব ফুটিয়ে তোলার জন্য নাসরিন জাহান অনিকা তার শিল্পকর্মে অনুজ্জ্বল পশ্চাৎপটে ব্যবহার করেন আকুয়াটিন্ট টেকনিক।