ধরে রাখুন ত্বকের তারুণ্য

ধরে রাখুন ত্বকের তারুণ্য
ছবি: সংগৃহীত
তারুণ্য ধরে রাখতে মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে হবে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে কম বয়সেই বুড়িয়ে যান অনেকেই। অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে শরীরে এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয় যা শরীরে টক্সিন ছড়ায় এবং এটা রক্তনালীকে সরু করে দেয়। যার ফলে রক্তচাপ বাড়ে এবং মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডে এর প্রভাব পড়ে। যার ফলে ত্বক খসখসে হয়ে যায়, চুল পড়ে যায় এবং ত্বকে বলিরেখা পড়ে যায়। সুতরাং  মনে টেনশন থাকলে, মন উদ্বিগ্ন থাকলে মানুষ তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যায়। তাই তারুণ্যতার অন্যতম শর্ত মানসিক অবসাদমুক্ত থাকা। 

চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে কে না চায়। কিন্তু ৩০ এর পর থেকে ত্বকের তারুণ্যতা হারিয়ে যেতে থাকে। ৩৫ পার হতে না হতেই ত্বক লাবণ্যতা হারাতে থাকে, ত্বকে বলিরেখা পড়তে শুরু করে,  শুষ্কতা জেঁকে বসে চেহারায়। অনেক মেকআপ করেও ঢাকা যায়না এই বয়সের ছাপ। অনেকের আবার সময়ের আগেই বয়সের ছাপ পড়ে যায় চেহারায়। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা করলে ও কিছু নিয়ম মেনে চললে এ তারুণ্যতা ধরে রাখা সম্ভব। চলুন দেখে নেয়া যাক তারুণ্যতা বজায় রাখার সেই উপায়গুলো।

 

নিয়মমাফিক খাদ্যাভ্যাস

 

তারুণ্য ধরে রাখতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। এক্ষেত্রে তাজা ফলমূল, সবজি খাওয়া ও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা জরুরি। পানি শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সকালে হালকা গরম পানির সাথে লেবুর রস ও মধু ত্বকের উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবার তৈরিতে সাধারণ তেলের পরিবর্তে অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল রাখা ভালো। অলিভ অয়েলে রয়েছে ভিটামিন এ ও ই যা ত্বকের কুচকে যাওয়া রোধ করে ত্বক টানটান করে। এছাড়াও এর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও আপেল, কমলা, আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, কলা, খেজুর, গ্রিন টি, মাছ, হলুদ, পালং শাক, গাজর, টমেটো, বাদাম, ডালিম, চকলেট, ব্রকোলি, ডাবের পানি ত্বকে লাবণ্যতা বজায় রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলো চেহারায় বলিরেখা পড়তে দেয়না এবং ত্বক মসৃণ করে টানটান রাখে।

 

ত্বক পরিচর্যা

 

ত্বক পরিচর্যায় প্রাকৃতিক উপাদান যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক যুগে বিভিন্ন কৃত্রিম সামগ্রী বাজারে আসলেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর জনপ্রিয়তা কমেনি। হলুদ, টক দই, মধু, লেবুর রস ত্বকের তারুণ্যতা বজায় রাখতে খুবই কার্যকর। দই ব্রণ রোধ করে এবং ত্বক কোমল করে। এর ল্যাকটিক এসিড ত্বকের মড়া চামড়া দূর করে। ত্বকের শুষ্কতা রোধ করে ও চামড়ায় ভাজ পড়তে দেয়না। টক দইয়ের সাথে হলুদ মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে দিলে ত্বক মসৃণ ও কোমল হয়। মধু ত্বক টানটান করতে সাহায্য করে। এছাড়া স্ক্রাবিং ত্বকের মৃত-কোষ দূর করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টক দই আর চিনি মিশিয়ে এবং শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে চিনি, অলিভ অয়েল, কফি বা চালের গুড়া মিশিয়ে স্ক্রাবার তৈরি করা যায়। ত্বকের লাবণ্যতা ঠিক রাখতে সপ্তাহে দুই থেকে একবার স্ক্রাব করা জরুরি।

 

মানসিক অবসাদমুক্ত

 

তারুণ্য ধরে রাখতে মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে হবে। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে কম বয়সেই বুড়িয়ে যান অনেকেই। অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে শরীরে এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয় যা শরীরে টক্সিন ছড়ায় এবং এটা রক্তনালীকে সরু করে দেয়। যার ফলে রক্তচাপ বাড়ে এবং মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডে এর প্রভাব পড়ে। যার ফলে ত্বক খসখসে হয়ে যায়, চুল পড়ে যায় এবং ত্বকে বলিরেখা পড়ে যায়। সুতরাং  মনে টেনশন থাকলে, মন উদ্বিগ্ন থাকলে মানুষ তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যায়। তাই তারুণ্যতার অন্যতম শর্ত মানসিক অবসাদমুক্ত থাকা। 

 

পরিমাণ-মতো ঘুম

 

চিকিৎসকদের মতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ভালো ঘুম হলে ত্বকও ভালো থাকে। ঘুম কম হলে শরীরের ক্লান্তি থেকেই যায়। চোখের নিচে ভাঁজ পড়ে, কালো দাগ পড়ে যায়, ত্বকও ঝুলে যেতে থাকে। তাই তারুণ্য বজায় রাখতে হলে পরিমাণ-মতো ঘুম অত্যন্ত জরুরি।  

 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

 

প্রতিদিন অন্তত দুইবার মুখমণ্ডল ধোয়া জরুরি। সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। এছাড়াও বাইরে থেকে আসলে ভালো করে মুখমণ্ডল ধোয়া উচিত। আমাদের ত্বক সারাদিনের অনেক ধুলাবালি, তাপ সহ্য করে। তাই রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মুখমণ্ডল পরিষ্কার করে ধোয়া আবশ্যক। এক্ষেত্রে ফেসওয়াস বা সাবান ব্যবহার করা ভালো।

 

ত্বকের আবশ্যক প্রসাধনী

 

ত্বকের জন্য খুবই জরুরি একটি প্রসাধনী হলো সানস্ক্রিন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কেবল গরমকালেই নয় সারাবছরই এই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। ঘর থেকে বের হওয়ার ১৫ মিনিট পূর্বেই সানস্ক্রিন লাগানো উচিত। এছাড়াও ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে বলেছেন চিকিৎসকরা। এক্ষেত্রে অলিভ অয়েলও বেশ কার্যকরী। আর যেকোনো প্রসাধনীই হোক তা ভালো মানের ব্যবহার করা উচিত। আর একই ব্রান্ডের প্রসাধনী ব্যবহার করা ভালো। 

 

ধূমপানমুক্ত থাকতে হবে

 

তারুণ্য ধরে রাখতে ধূমপান করা যাবেনা। গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপান করলে শরীরে অসংখ্য ফ্রিরেডিকেল অবমুক্ত হয় যা আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এটি ত্বক সংকুচিত করে চেহারাকে ফ্যাকাসে করে ফেলে। কেবল তারুণ্য ধরে রাখতেই নয়, স্বাস্থ্যরক্ষার জন্যও ধূমপান পরিহার করা উচিত। 

 

এছাড়াও নিয়মিত যোগব্যায়াম ও প্রাণখুলে হাসি তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ত্বকের পরিচর্যায়ও পরিবর্তন আনা জরুরি। শরতকালে ত্বকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। এসময় ত্বককে শীতের জন্য প্রস্তুত হতে হয়। আদ্র আবহাওয়ার কারণে ও শীতের প্রস্তুতি হিসেবে এসময় নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।