চুল রং করার ক্ষতিকর দিক

চুল রং করার ক্ষতিকর দিক
ছবি: সংগৃহীত
চুলের রঙে থাকা আরেকটি রাসায়নিক উপাদান হল ‘পারসালফেটস’, যা হাঁপানি রোগ নেই তাদেরও শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া চুলের রঙে থাকা ক্ষতিকর উপাদান নিয়মিত নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করলে শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

সব বয়সী মানুষের কাছেই বর্তমানে চুল রং করার ফ্যাশনটি অতি সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে স্টাইলের জন্য চুল রং করে, আবার অনেকে পাকা চুল ঢাকতেও চুল রং করে। শুধু নারীরা নন, পুরুষরা চুলে রং করেন। একসময় শুধু কালো রং ব্যবহার করা হত। এখন লাল, নীল, বেগুনি, এমনকি সাদা রংও করেন চুলে। তবে এই চুল রঙ করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।


অতীতে রোমানরা সর্বপ্রথম চুল রং করা শুরু করলো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে। পরবর্তীতে ১৯০৭ সালে লরিয়েল কোম্পানি আধুনিক ধারার সিনথেটিক হেয়ার কালার উৎপাদন করেছিলো। নিজেকে সাজানোর জন্য মহিলা ও পুরুষেরা চুলকে নানান স্টাইলে রঙ করেন। সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য চুলে সোনালি, মেরুন, মেহগনিসহ নানান রং করা হচ্ছে। 


হেয়ার কালারে অক্সিডাইজিং এজেন্ট হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও একটি অ্যালকালাইজিং এজেন্ট অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা হয়, যা একটি কেমিক্যাল রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে চুলের মেলানিনকে হালকা করে নেয় ও হেয়ার কালারের রঙিন পিগমেন্টকে চুলের শ্যাফটের ভেতর ঢুকতে সাহায্য করে। দেখতে সুন্দর লাগলেও এটি কিন্তু চুলের জন্য ক্ষতিকর। আবার পরবর্তী সময়েও চুলের ওপর নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেকের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল (সেনসিটিভ) হয়ে থাকে। ফলে সামান্য রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা মাত্রই অ্যালার্জির সমস্যা শুরু হয়ে যায়। অনেক সময় চুলে রঙ করার ফলে চুল ঝরে যাওয়া, মাথার ত্বকে অ্যালার্জি, গলা ও ফুসফুসের সমস্যা, চোখের সমস্যার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আসুন চুলে রঙ করার ক্ষতিকর দিকগুলো জেনে নেয়া যাক-

 


অ্যালার্জি: চুলের রংয়ে থাকে ‘প্যারাফিনাইলেনেডিয়ামিন’ নামক রাসায়নিক উপাদান। যা অ্যালার্জি হওয়ার প্রচলিত কারণ। এই উপাদান থেকে হওয়া অ্যালার্জির কারণে ত্বকের বিভিন্ন স্থানে রং পরিবর্তন, ফুসকুড়ি, তীব্র চুলকানি ইত্যাদি হতে পারে। চুলের রঙে উপস্থিত পিপিডি অনেক বেশি অ্যালার্জি উদ্রেককারী রাসায়নিক যার প্রভাবে মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালা, পুলে যাওয়া, হ্রাশ ওঠা, খুশকি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও অ্যালার্জি যদি মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায় তাহলে চোখ ফুলে যাওয়া, চোখ, নাক ও মুখের চারপাশের ত্বকে অ্যালার্জির প্রকোপ দেখা দিতে পারে।

 

হাঁপানি/শ্বাসকষ্ট: চুলের রঙে থাকা আরেকটি রাসায়নিক উপাদান হল ‘পারসালফেটস’, যা হাঁপানি রোগ নেই তাদেরও শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া চুলের রঙে থাকা ক্ষতিকর উপাদান নিয়মিত নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করলে শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

 

চুলের বাইরের স্তর নষ্ট করে: চুলে রং করা মাত্র সেটি বেশ কয়েকটি বাধা পেরিয়ে তারপর চুলের অন্দরে গিয়ে পৌঁছায়। তবেই কালারটা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। গবেষকরা বলেন, এই বাধাগুলো পেরনোর সময় ধীরে ধীরে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। প্রথমে চুলের একেবারে বাইরের যে দেয়াল রয়েছে সেটিকে ভেঙে দেয় অ্যামোনিয়া, তবেই হেয়ার কালারটি ভিতরে ঢুকতে পারে। আর এই দেয়ালটা ভেঙে যাওয়ার কারণে চুলের প্রথম রক্ষাকবচটা আর কর্মক্ষম তাকে না। ফলে চুলের ক্ষতি শুরু হয়ে যায়।

 

শরীরের ওপর প্রভাব: একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, চুলের রংয়ে উপস্থিত একাধিক কেমিক্যাল বিশেষ করে অ্যামিনোফেনল, ডায়ামিনোবেনঞ্জিন এবং ফেনিলেনডিয়ামাইন শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। হেয়ার কালারের কেমিক্যালে মানুষের ক্যান্সারও হতে পারে (যেমন-লিউকেমিয়া, নন-হজকিনস লিম্ফোমা, মূত্র থলির ক্যান্সার, বস্নাড ক্যান্সার ও মালটিপল মেয়েলোমা)। তাই কম সময় অন্তর অন্তর চুলে রং করার অভ্যাস ছাড়ুন। না হলে কিন্তু বিপদ বাড়বে!

 

 

রঙ করা চুলের যত্ন
চুল যদি রঙ করেই থাকেন তাহলে চুলের বেশ কিছু যত্ন নিয়মিত নিতে হবে। নাহলে চুল রুক্ষ হয়ে যাবে ও পড়ে যাবে।