আজ ২৫ শে সেপ্টেম্বর। বছরের অনেকগুলো দিনের মত নন্দিতার কাছে এটা একটা বিশেষ দিন। যেদিন গুলো নন্দিতা একটা ডায়েরিতে টুকে রাখে। ডায়েরিটাও কোনো প্রিয়জনের দেওয়া উপহার বলে বিশেষের তালিকাভুক্ত। এই নির্দিষ্ট দিনগুলোর জন্য নন্দিতা নির্দিষ্ট রঙের প্রিয় শাড়ী তুলে রাখে৷ হিসেব মতে সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখের জন্যও তোলা আছে বেগুনি রঙের শাড়ীটা।
আজ ২৫ শে সেপ্টেম্বর। বছরের অনেকগুলো দিনের মত নন্দিতার কাছে এটা একটা বিশেষ দিন। যেদিন গুলো নন্দিতা একটা ডায়েরিতে টুকে রাখে। ডায়েরিটাও কোনো প্রিয়জনের দেওয়া উপহার বলে বিশেষের তালিকাভুক্ত। এই নির্দিষ্ট দিনগুলোর জন্য নন্দিতা নির্দিষ্ট রঙের প্রিয় শাড়ী তুলে রাখে৷ হিসেব মতে সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখের জন্যও তোলা আছে বেগুনি রঙের শাড়ীটা।
বরাবরের মতোই আজ নন্দিতা বেগুনি রঙের শাড়ীটা পরে অফিস গেল। তবে আজকের প্রধান গন্তব্য অফিস নয়। প্রধান গন্তব্য বিউটি বোর্ডি। অফিস শেষে প্রতিবারের মতোই সেখানে বেশ কিছুটা সময় নিজের সাথে কাটাবে।
বরাবরের মতোই আজ নন্দিতা বেগুনি রঙের শাড়ীটা পরে অফিস গেল। তবে আজকের প্রধান গন্তব্য অফিস নয়। প্রধান গন্তব্য বিউটি বোর্ডি। অফিস শেষে প্রতিবারের মতোই সেখানে বেশ কিছুটা সময় নিজের সাথে কাটাবে।
ঘড়িতে তখন বিকেল ৪ টা, রাস্তা পার হয়ে বিউটি বোর্ডিংয়ের প্রধান ফটক পেরুতেই চোখ গেল নেম প্লেটের দিকে। বছর কয়েক আগে প্রথম যেবার এখানে আসা, তখন ডায়েরি উপহার দেওয়া সেই প্রিয়জন নন্দিতাকে এই বিউটি বোর্ডিংয়ের ইতিহাস বলেছিলো, - এটি ছিলো মূলত জমিদার সুধীর চন্দ্র দাসের বাড়ী। খুব কবিতা পড়ো, জানোতো তৎকালীন এখানেই সোনার বাংলা পত্রিকার অফিস ছিলো। আর এই অফিস থেকেই কবি শামসুর রহমানের প্রথম কবিতা মুদ্রিত হয়েছিলো।
ঘড়িতে তখন বিকেল ৪ টা, রাস্তা পার হয়ে বিউটি বোর্ডিংয়ের প্রধান ফটক পেরুতেই চোখ গেল নেম প্লেটের দিকে। বছর কয়েক আগে প্রথম যেবার এখানে আসা, তখন ডায়েরি উপহার দেওয়া সেই প্রিয়জন নন্দিতাকে এই বিউটি বোর্ডিংয়ের ইতিহাস বলেছিলো, - এটি ছিলো মূলত জমিদার সুধীর চন্দ্র দাসের বাড়ী। খুব কবিতা পড়ো, জানোতো তৎকালীন এখানেই সোনার বাংলা পত্রিকার অফিস ছিলো। আর এই অফিস থেকেই কবি শামসুর রহমানের প্রথম কবিতা মুদ্রিত হয়েছিলো।
এখনো এখানে দাঁড়ালে সেদিনের গল্পের ছলে বলা এসব ইতিহাস যেন স্পষ্ট কানের কাছে বাজতে থাকে। আনমনে হেসে নন্দিতা ধীর পায়ে ভেতরে চলে গেলো। সিঁড়ি ধরে উপরে উঠতে উঠতে পাশের দেয়ালগুলো ছুয়ে যাচ্ছিলো। এই দেয়াল গুলো কত গল্পের সাক্ষী।
এখনো এখানে দাঁড়ালে সেদিনের গল্পের ছলে বলা এসব ইতিহাস যেন স্পষ্ট কানের কাছে বাজতে থাকে। আনমনে হেসে নন্দিতা ধীর পায়ে ভেতরে চলে গেলো। সিঁড়ি ধরে উপরে উঠতে উঠতে পাশের দেয়ালগুলো ছুয়ে যাচ্ছিলো। এই দেয়াল গুলো কত গল্পের সাক্ষী।
শেষ দুটো সিঁড়ি আর উঠতে পারলো না। পা দুটো মনে হচ্ছে কেউ টেনে ধরে রেখেছে। পুরোনো স্মৃতিরা! যা প্রতিবারই একইরকম শূন্য করে দিয়ে যায়। একইরকম অনুভূতি। চারপাশটা কেমন অন্ধকার হয়ে আসতে থাকে নন্দিতার। নন্দিতা সিঁড়িতেই বসে পড়ে। যেন আর কোন শব্দ শুনতে পায় না। মস্তিষ্কে শুধু কটা গানের লাইন ঘুরপাক খায়,
শেষ দুটো সিঁড়ি আর উঠতে পারলো না। পা দুটো মনে হচ্ছে কেউ টেনে ধরে রেখেছে। পুরোনো স্মৃতিরা! যা প্রতিবারই একইরকম শূন্য করে দিয়ে যায়। একইরকম অনুভূতি। চারপাশটা কেমন অন্ধকার হয়ে আসতে থাকে নন্দিতার। নন্দিতা সিঁড়িতেই বসে পড়ে। যেন আর কোন শব্দ শুনতে পায় না। মস্তিষ্কে শুধু কটা গানের লাইন ঘুরপাক খায়, " তোমাকে আলো ভেবে চোখ চেয়ে থেকেছি আঁধারে নীরব থেকে...."
অত বছর আগের এসব স্মৃতি প্রতিবার নন্দিতাকে এক নস্টালজিক অনুভূতি দিয়ে যায়। সেসব অনুভূতি অগণিত স্মৃতিকে দিনের আলোর মত স্পষ্ট করে তোলে। হুট করে পাশ থেকে একজনের ডাকাডাকিতে যেন নন্দিতা হুঁশে এলো। স্মৃতিদের আটকে রাখা পা দুটো মুহুর্তে ছেড়ে দিলো।
অত বছর আগের এসব স্মৃতি প্রতিবার নন্দিতাকে এক নস্টালজিক অনুভূতি দিয়ে যায়। সেসব অনুভূতি অগণিত স্মৃতিকে দিনের আলোর মত স্পষ্ট করে তোলে। হুট করে পাশ থেকে একজনের ডাকাডাকিতে যেন নন্দিতা হুঁশে এলো। স্মৃতিদের আটকে রাখা পা দুটো মুহুর্তে ছেড়ে দিলো।
নন্দিতা খাবার জায়গায় গিয়ে বসলো। খাবার অর্ডার করতে গিয়েই নিজের পছন্দের খাবার দেখতে দেখতেই অর্ডার করলো অন্য খাবার। প্রতিবারই এই একই কাজ করে। যে খাবারগুলো সেই প্রিয়জনের পছন্দের ছিলো। অথচ দুজন একসাথে যখন আসতো তখন এই অর্ডার দেওয়া নিয়ে সেকি তর্কাতর্কি। কি ছেলেমানুষি চলতো সেসব দিনগুলোতে দুজনের।
নন্দিতা খাবার জায়গায় গিয়ে বসলো। খাবার অর্ডার করতে গিয়েই নিজের পছন্দের খাবার দেখতে দেখতেই অর্ডার করলো অন্য খাবার। প্রতিবারই এই একই কাজ করে। যে খাবারগুলো সেই প্রিয়জনের পছন্দের ছিলো। অথচ দুজন একসাথে যখন আসতো তখন এই অর্ডার দেওয়া নিয়ে সেকি তর্কাতর্কি। কি ছেলেমানুষি চলতো সেসব দিনগুলোতে দুজনের।
অর্ডার করে কোণার একটা টেবিলে গিয়ে বসলো নন্দিতা। আনমনে হাজারটা গল্প আওড়ে যাচ্ছিলো। কি করে এই বাড়িটি বিউটি বোর্ডিং হয়ে উঠলো, কবে হল ? এমন সময় পাশ থেকে একজন জিজ্ঞেস করে উঠলো-আপা, আর কিছু লাগবে? সে প্রশ্ন উপেক্ষা করে নন্দিতা বলে উঠলো- আচ্ছা! আপনি জানেন এই বাড়ি যে ১৯৪৯ সালে প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা ও নলিনী মোহন সাহা নামে দুই ভাই ভাড়া নিয়ে এখানে বিউটি বোর্ডিং গড়ে তোলেন! এর আগে এখানে একটা পত্রিকা অফিস ছিলো। দেশ ভাগের সময় অফিসটা কলকাতায় স্থানান্তর হয়ে যায়। নন্দিতার গল্পে কান না দিয়ে লোকটি
অর্ডার করে কোণার একটা টেবিলে গিয়ে বসলো নন্দিতা। আনমনে হাজারটা গল্প আওড়ে যাচ্ছিলো। কি করে এই বাড়িটি বিউটি বোর্ডিং হয়ে উঠলো, কবে হল ? এমন সময় পাশ থেকে একজন জিজ্ঞেস করে উঠলো-আপা, আর কিছু লাগবে? সে প্রশ্ন উপেক্ষা করে নন্দিতা বলে উঠলো- আচ্ছা! আপনি জানেন এই বাড়ি যে ১৯৪৯ সালে প্রহ্লাদ চন্দ্র সাহা ও নলিনী মোহন সাহা নামে দুই ভাই ভাড়া নিয়ে এখানে বিউটি বোর্ডিং গড়ে তোলেন! এর আগে এখানে একটা পত্রিকা অফিস ছিলো। দেশ ভাগের সময় অফিসটা কলকাতায় স্থানান্তর হয়ে যায়। নন্দিতার গল্পে কান না দিয়ে লোকটি "আপা, আপনার খাবার চলে আসবে" বলেই বিদায় নিলো।
নন্দিতা খাওয়া শেষ করে উঠে পুরো বিউটি বোর্ডিং ঘুরে দেখতে লাগলো। নিজের হারিয়ে যাওয়া সুন্দর অতীতের মুহূর্ত গুলো ভেবে ভেবে বারবার নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু সুখ স্মৃতিগুলো নন্দিতাকে মোহিত করছে নাকি শূন্যতায় ডুবিয়ে দিচ্ছে? সে হদিশ আর কেউ পায় না। শুধু মহাশূন্যের গভীরে একেকটা দীর্ঘশ্বাস হয়ে রয়ে যায়, আর নন্দিতা কিসের টানে যেন দাঁড়িয়ে থাকে!
নন্দিতা খাওয়া শেষ করে উঠে পুরো বিউটি বোর্ডিং ঘুরে দেখতে লাগলো। নিজের হারিয়ে যাওয়া সুন্দর অতীতের মুহূর্ত গুলো ভেবে ভেবে বারবার নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু সুখ স্মৃতিগুলো নন্দিতাকে মোহিত করছে নাকি শূন্যতায় ডুবিয়ে দিচ্ছে? সে হদিশ আর কেউ পায় না। শুধু মহাশূন্যের গভীরে একেকটা দীর্ঘশ্বাস হয়ে রয়ে যায়, আর নন্দিতা কিসের টানে যেন দাঁড়িয়ে থাকে!