আজকাল ঘড়িতে ছয়টা বাজার বেশ আগেই ঘুম ভেঙে যায় শায়লার। ফাঁকা দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকে কখনো দেয়ালে, কখনো সিলিং ফ্যানটার দিকে। শেষ কবে আলস্য নিয়ে দুপুর পর্যন্ত বিছানায় পড়ে থেকেছে এখন আর মনে পড়েনা শায়লার। এমন অনেক অর্থহীন ভাবনা মাথায় নিয়ে ৬টা বাজার আগেই বিছানা থেকে উঠে পড়ে শায়লা।
আজকাল ঘড়িতে ছয়টা বাজার বেশ আগেই ঘুম ভেঙে যায় শায়লার। ফাঁকা দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে থাকে কখনো দেয়ালে, কখনো সিলিং ফ্যানটার দিকে। শেষ কবে আলস্য নিয়ে দুপুর পর্যন্ত বিছানায় পড়ে থেকেছে এখন আর মনে পড়েনা শায়লার। এমন অনেক অর্থহীন ভাবনা মাথায় নিয়ে ৬টা বাজার আগেই বিছানা থেকে উঠে পড়ে শায়লা।
সাতটা বাজার আগেই ব্যস্ত হাতে নাস্তাটা বানিয়ে ফেলে শায়লা। গরম তেলের উপর ডিম ভেঙে দিয়ে এক চিমটি লবন ছিটিয়ে দেয়। ডিমটাকে উল্টিয়ে দেয়ার সময় খুব সতর্ক হতে হয় তাকে, কুসুমটা ভেঙে গেলে আবার খেতে একদমই পছন্দ করেননা তৃষার বাবা। শেষ কবে নাস্তা বানাতে গিয়ে ডিমের কুসুমটা ভেঙে ফেলেছে মনে পড়েনা শায়লার। তবু রোজই ডিমপোচ করতে গিয়ে একবার হলেও বুকটা কেঁপে ওঠে তার।
সাতটা বাজার আগেই ব্যস্ত হাতে নাস্তাটা বানিয়ে ফেলে শায়লা। গরম তেলের উপর ডিম ভেঙে দিয়ে এক চিমটি লবন ছিটিয়ে দেয়। ডিমটাকে উল্টিয়ে দেয়ার সময় খুব সতর্ক হতে হয় তাকে, কুসুমটা ভেঙে গেলে আবার খেতে একদমই পছন্দ করেননা তৃষার বাবা। শেষ কবে নাস্তা বানাতে গিয়ে ডিমের কুসুমটা ভেঙে ফেলেছে মনে পড়েনা শায়লার। তবু রোজই ডিমপোচ করতে গিয়ে একবার হলেও বুকটা কেঁপে ওঠে তার।
মেয়েকে নাস্তা করিয়ে স্কুলড্রেস পরাতে পরাতে আটটা বেজে যায়। শায়লার জন্য এটা তার দিনের সবথেকে ব্যস্ত সময়। এইসময়টা শায়লা আর কোনকিছু ভাবার সময় পায়না। শেষ কবে সকালবেলা কফির মগ হাতে অলস বসে রবীন্দ্রসংগীত শুনেছে মনে পড়েনা তার। রোজই তড়িঘড়ি করে মেয়ের স্কুলব্যাগ, টিফিন, ওর বাবার লাঞ্চ সবকিছু গুছিয়ে দুজনকে বিদায় দিয়েই যেন হাঁপিয়ে ওঠে শায়লা।
মেয়েকে নাস্তা করিয়ে স্কুলড্রেস পরাতে পরাতে আটটা বেজে যায়। শায়লার জন্য এটা তার দিনের সবথেকে ব্যস্ত সময়। এইসময়টা শায়লা আর কোনকিছু ভাবার সময় পায়না। শেষ কবে সকালবেলা কফির মগ হাতে অলস বসে রবীন্দ্রসংগীত শুনেছে মনে পড়েনা তার। রোজই তড়িঘড়ি করে মেয়ের স্কুলব্যাগ, টিফিন, ওর বাবার লাঞ্চ সবকিছু গুছিয়ে দুজনকে বিদায় দিয়েই যেন হাঁপিয়ে ওঠে শায়লা।
দরজা লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই শূণ্য বাসাটা চোখে পড়ে এবার। ডাইনিং টেবিলের এঁটো বাসনগুলো গোছাতে গিয়ে চেয়ারেই বসে পড়ে। কেমন একটা অশরীরি একাকিত্ব যেন হেঁটে বেড়ায় পুরো ঘরটাতে। শেষ কবে কারো সঙ্গে মনখুলে গল্প করেছে মনে পড়েনা। গল্পগুলো যেন সব অল্প-অল্প করে কোথাও হারিয়ে গেছে।
দরজা লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই শূণ্য বাসাটা চোখে পড়ে এবার। ডাইনিং টেবিলের এঁটো বাসনগুলো গোছাতে গিয়ে চেয়ারেই বসে পড়ে। কেমন একটা অশরীরি একাকিত্ব যেন হেঁটে বেড়ায় পুরো ঘরটাতে। শেষ কবে কারো সঙ্গে মনখুলে গল্প করেছে মনে পড়েনা। গল্পগুলো যেন সব অল্প-অল্প করে কোথাও হারিয়ে গেছে।
সকাল পার হয়ে দুপুর হতে চলে। শায়লা চেষ্টা করে নিজেকে কোন কাজে ব্যস্ত রাখার। কিছুক্ষন টেলিভিশন দেখার চেষ্টা করে কিন্তু মন বসাতে পারেনা। ফাঁকা দৃষ্টিতে কতক্ষণ টেলিভিশনের স্ক্রিনে তাঁকিয়ে থেকে টেলিভিশনটাই বন্ধ করে দেয়।
সকাল পার হয়ে দুপুর হতে চলে। শায়লা চেষ্টা করে নিজেকে কোন কাজে ব্যস্ত রাখার। কিছুক্ষন টেলিভিশন দেখার চেষ্টা করে কিন্তু মন বসাতে পারেনা। ফাঁকা দৃষ্টিতে কতক্ষণ টেলিভিশনের স্ক্রিনে তাঁকিয়ে থেকে টেলিভিশনটাই বন্ধ করে দেয়।
শীতল একটা একাকিত্ব আবার যেন ঘিরে বসে শায়লাকে। ইদানিং শায়লার দিনগুলো কেমন আড়ি পেতে বসে থাকে, ফুরোতেই চায়না। শেষ কবে কোন হালকা একটা দিন কাটিয়েছে মনে পড়েনা শায়লার।
শীতল একটা একাকিত্ব আবার যেন ঘিরে বসে শায়লাকে। ইদানিং শায়লার দিনগুলো কেমন আড়ি পেতে বসে থাকে, ফুরোতেই চায়না। শেষ কবে কোন হালকা একটা দিন কাটিয়েছে মনে পড়েনা শায়লার।
ঘরের টুকিটাকি আরো কিছু কাজ করেও যখন সময় কাটতে চায়না, তখন আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেলে কিছুক্ষণ ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেয় শায়লা।
ঘরের টুকিটাকি আরো কিছু কাজ করেও যখন সময় কাটতে চায়না, তখন আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেলে কিছুক্ষণ ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেয় শায়লা।
এপাশওপাশ করে ঘুম আসেনা শায়লার। উঠে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়, চোখদুটো কেমন শুকনো বিষাদগ্রস্ত দেখায়। শেষ কবে চোখে কাজল দিয়েছে মনে পড়েনা। একসময় খুব সাজতো শায়লা, চোখে মোটা কাজল, হাতে চুড়ি, কপালে টিপ আর ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিপ দিয়ে আয়নায় নিজেই নিজেকে মুগ্ধ হয়ে দেখতো। খুঁজেখুঁজে আলমারি থেকে লাল রঙের একটা শাড়ি বের করে ঠিক আগের মত করে সাজতে শুরু করে শায়লা।
এপাশওপাশ করে ঘুম আসেনা শায়লার। উঠে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়, চোখদুটো কেমন শুকনো বিষাদগ্রস্ত দেখায়। শেষ কবে চোখে কাজল দিয়েছে মনে পড়েনা। একসময় খুব সাজতো শায়লা, চোখে মোটা কাজল, হাতে চুড়ি, কপালে টিপ আর ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিপ দিয়ে আয়নায় নিজেই নিজেকে মুগ্ধ হয়ে দেখতো। খুঁজেখুঁজে আলমারি থেকে লাল রঙের একটা শাড়ি বের করে ঠিক আগের মত করে সাজতে শুরু করে শায়লা।
সাজগোজ শেষ করে আবার আয়নায় নিজেকে দেখে শায়লা। কি অদ্ভুত! মুগ্ধ চোখে তাঁকিয়ে থাকার মত সেই লাস্যময়ী তরুনীকে কোথাও দেখতে পায়না সে। এ যেন অন্য কেউ। রুপহীন, লাবন্যহীন, কেমন শীতল রুক্ষ এক নারী। দিনদিনে কেমন যেন রংহীন সাদাকালো হয়ে গেছে শায়লা। শেষ কবে নিজেকে দেখে মুগ্ধ হয়েছে মনে পড়েনা তার।
সাজগোজ শেষ করে আবার আয়নায় নিজেকে দেখে শায়লা। কি অদ্ভুত! মুগ্ধ চোখে তাঁকিয়ে থাকার মত সেই লাস্যময়ী তরুনীকে কোথাও দেখতে পায়না সে। এ যেন অন্য কেউ। রুপহীন, লাবন্যহীন, কেমন শীতল রুক্ষ এক নারী। দিনদিনে কেমন যেন রংহীন সাদাকালো হয়ে গেছে শায়লা। শেষ কবে নিজেকে দেখে মুগ্ধ হয়েছে মনে পড়েনা তার।
সন্ধ্যে হতে হতে প্রকান্ড একটা বিষন্নতা আর একাকিত্বে ডুবে যেতে থাকে শায়লা। এমনটা রোজই হয়। আজকাল প্রায়ই নিজেকে একটা ব্যাটারি চালিত যন্ত্র মনে হয় শায়লার। অনেকটা মাথার উপরের ওই সিলিং ফ্যানটার মতই। রোজ ঠিক একইভাবে, একই নিয়মে বিরামহীন ঘুরছে, বনবন বনবন বনবন.....। এছাড়া যার নিজের কোন অনুভূতি নেই, অস্তিত্ব নেই।
সন্ধ্যে হতে হতে প্রকান্ড একটা বিষন্নতা আর একাকিত্বে ডুবে যেতে থাকে শায়লা। এমনটা রোজই হয়। আজকাল প্রায়ই নিজেকে একটা ব্যাটারি চালিত যন্ত্র মনে হয় শায়লার। অনেকটা মাথার উপরের ওই সিলিং ফ্যানটার মতই। রোজ ঠিক একইভাবে, একই নিয়মে বিরামহীন ঘুরছে, বনবন বনবন বনবন.....। এছাড়া যার নিজের কোন অনুভূতি নেই, অস্তিত্ব নেই।
হঠাৎ চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে শায়লার, কিন্তু কান্না আসেনা। বুকের ভেতরটায় যেন জমাট অনুভূতির একটা প্রকান্ড শুকনো পাথর। শেষ কবে কেঁদেছে মনে পড়েনা তার। আজকাল প্রায়ই নিজেকে মৃত মনে হয় শায়লার। যেন কোন প্রাণহীন খোলস। আবারও লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাঁকিয়ে থাকে শায়লা।
হঠাৎ চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে শায়লার, কিন্তু কান্না আসেনা। বুকের ভেতরটায় যেন জমাট অনুভূতির একটা প্রকান্ড শুকনো পাথর। শেষ কবে কেঁদেছে মনে পড়েনা তার। আজকাল প্রায়ই নিজেকে মৃত মনে হয় শায়লার। যেন কোন প্রাণহীন খোলস। আবারও লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাঁকিয়ে থাকে শায়লা।
রাত প্রায় বারোটা। বিছানায় শুয়ে মেয়েকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করে শায়লা। মেয়ের মায়ামায়া মুখটার দিকে তাঁকিয়ে ভাবে এত মমতা! এত পূর্ণতা কি আর কোনদিন অনুভব করেছে সে! হঠাৎই বুকের ভিতরের সেই জমাট ভারি পাথরটা হালকা লাগে। হয়তো শুধু এই নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাঁকিয়েই একজীবনের সব বিষন্নতা, সব একাকীত্ব হাসিমুখে সয়ে যাওয়া যায়। প্রতিদিনের মতই একটা প্রশান্তির নিশ্বাস ফেলে মেয়েকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে শায়লা।
রাত প্রায় বারোটা। বিছানায় শুয়ে মেয়েকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করে শায়লা। মেয়ের মায়ামায়া মুখটার দিকে তাঁকিয়ে ভাবে এত মমতা! এত পূর্ণতা কি আর কোনদিন অনুভব করেছে সে! হঠাৎই বুকের ভিতরের সেই জমাট ভারি পাথরটা হালকা লাগে। হয়তো শুধু এই নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাঁকিয়েই একজীবনের সব বিষন্নতা, সব একাকীত্ব হাসিমুখে সয়ে যাওয়া যায়। প্রতিদিনের মতই একটা প্রশান্তির নিশ্বাস ফেলে মেয়েকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে শায়লা।