সবুজে হোক বসবাস...

সবুজে হোক বসবাস...
স্বেচ্ছায় কিংবা প্রয়োজনের তাগিদে, যে কারণেই হোক না কেন আজ আমরা নগরে বাস করছি। নগরের যান্ত্রিকতায় আমরা এতটাই ক্লান্ত যে নিজের অস্তিত্বকে পরীক্ষা করতে কিংবা নতুন করে কর্ম-স্পৃহা খুঁজে পেতে আমাদের মাঝে মাঝেই নগরের কোলাহল ছেড়ে কিছু সময়ের জন্য হলেও দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে হয় সাময়িক প্রশান্তির জন্য। 

 

একটু প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে যখন এত হাহাকার তখন কি আমরা একটু অন্যভাবে ভাবতে পারি না?আমাদের প্রত্যাশা তো খুব বেশি নয়। কেবল একটু আঁশ ভরে শ্বাস নেয়া! আর তার জন্যে কেন এত আয়োজন করতে হবে আমাদের? আর আমাদের চিকিৎসকেরা কেন বায়ু পরিবর্তনের পরামর্শ দিবেন সুস্থতার জন্য? আমার আপন নিবাসেই কেন আমি সব চেয়ে বেশি প্রশান্তি পাব না, খুঁজতে হবে ভিন্ন কোন আশ্রয়? এসব আজ আমাদের শহরবাসীর কাছে ক্ষোভ কিংবা অভিযোগ নয়, রীতিমত হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তবে বাস্তবতা হচ্ছে আমরাই দায়ী আজকের এই দুরবস্থার জন্য। আর এখনই উপযুক্ত সময় এই বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসার। আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত যেভাবে বৃক্ষ-নিধন চলছে, এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির সম্মুখীন হবে।তাই এখনই সচেতন হওয়ার উপযুক্ত সময়।

 

আসুন জেনে নিই সবুজের সমারোহে ঘর সাজানোর কিছু উপায়,

 

১। ঘরের প্রবেশপথে ক্যাকটাস বা রোদ ছাড়া টবে বাঁচতে পারে এমন কিছু গাছ লাগানো যায়।এতে নতুন অতিথি বাড়ীতে আসা মাত্রই আপনার সুরুচির পরিচয় পাবেন।

 

২। বেডরুমে বিছানার পাশে সামান্য ফাঁকা জায়গা থাকলেও সেই জায়গাটা কাজে লাগাতে পারেন। সেখানে এমন কোন গাছ লাগাতে পারেন, যা কিনা একই সাথে আপনার ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার বিশেষ কোন কাজেও লাগবে। যেমন, তুলসীর মত ছোট্ট গাছটিই লাগিয়ে দেখুন না কী চমৎকার কাজে আসবে তার চাক্ষুষ প্রমাণ পেয়ে যাবেন। কারণ ঘরে তুলসী গাছ থাকলে মশার আনাগোনা কমে যায়। অন্যদিকে সর্দি-কাশিতে ওষুধ হিসেবে তুলসী পাতার জুড়ি নেই।সুতরাং বুঝতেই পারছেন একটি গাছ আপনার কত রকম কাজে লাগতে পারে। 

 

৩। গৃহের সৌন্দর্যের মূল ব্যাপারটি যেন বসার ঘরকে কেন্দ্র করে। আমরা এই বসার ঘরটিতে কত রকমের দেশী-বিদেশী শো-পিস দিয়ে সাজাই। কিন্তু তার পরিবর্তে তাজা ফুল-ফল বা গাছ দিয়ে যদি সাজাতে পারি তাহলে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও সেটা মঙ্গলজনক।আর বসার ঘরে মানিপ্ল্যান্ট বা রোদ ছাড়া ছায়ায় টিকে থাকে এমন ছোট আকারের যেকোনো গাছই বেশ মানিয়ে যাবে।চাইলে আপনার ঘরের প্রবেশ পথটিকেও গাছ দিয়ে সাজাতে পারেন। 

 

৪। আপনার খাবার ঘরটিতে যদি টবে লেটুস বা ধনেপাতার মত গাছ লাগাতে পারেন, সেই সুগন্ধ আপনার খাবার ঘরের পরিবেশ বদলে দেবে।এছাড়া অন্য কোন গাছের ব্যবহারও বাড়িয়ে দেবে আপনার ঘরের মাধুর্য।  

 

৫। কি ভাবছেন? রান্নাঘরের ছোট্ট পরিসরে গাছ লাগানো সম্ভব কিনা? অবশ্যই সম্ভব। ঘরের এক কোণায় একটা মরিচ গাছ লাগিয়ে রাখুন। সেই গাছের তাজা মরিচ আপনার খাবারের আত্মতৃপ্তির পাশাপাশি এনে দেবে অন্য রকম স্বাদ। 

 

৬। আধুনিক এপার্টমেন্টগুলোতে বসবাসকারী মানুষের উঠোনের চাহিদা মেটাতে ভরসা করতে হয় ছোট্ট বারান্দার মাধ্যমে। এ যেন দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আরকি। তবুও শেষ ভরসা এই বারান্দাই। এখানকার ছোট পরিসরটুকু কাজে লাগিয়ে পেতে পারেন খানিক প্রশান্তি। পছন্দ মত ফুল, ফল বা ঔষধি গাছ লাগিয়ে দিন। আর অবসরের মুহূর্তটুকু সেই গাছের পরিচর্যা আপনাকে মানসিক চাঙ্গা করে এনে দেবে প্রশান্তি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই গাছের পরিচর্যা করতে পারেন, যা  আপনাকে সারাদিনের কাজের জন্য নতুনভাবে কাজের জন্য প্রস্তুত করবে। 

 

৭। আর যদি নিজের বাড়ি থাকে তাহলে তো সোনায় সোহাগা। বাড়ির ছাদকে বাগান হিসেবে ব্যবহার করে ফুল-ফল, শাক-সবজি এমনকি ঔষধি গাছ চাষ করে  নিশ্চিত অর্গানিক খাদ্য পাবেন। 

 

সতর্কতা

 

গৃহসজ্জায় গাছ লাগাতে হলে একটু বাড়তি সতর্কতারও প্রয়োজন আছে।লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আপনার টবের গোরায় যেন পানি না জমে। এছাড়া গাছগুলো যদি ছায়ায় রাখা হয় তাহলে মাঝে মাঝে আপনার সুবিধা মত সময়ে একটু রোদে দিতে পারেন। ব্যবহার করা চা ফেলে দেয়ার পরিবর্তে গাছের অর্গানিক সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।  

 

উপকারিতা

 

শহরের যান্ত্রিকতা থেকে খানিকটা  হলেও নিস্তার দেবে আপনার এই বৃক্ষ-প্রেম। দিনের শুরুতে এই সামান্য আয়োজন আপনার জীবনকে একটু হলেও বদলে দেবে। নিশ্চিতভাবে একটা ইতিবাচকতাপূর্ণ মানসিকতা গড়ে উঠবে আপনার।কারণ যারা গাছ ভালবাসে, তারা সচরাচর খারাপ কোন কাজ করতে পারেন না।আর এসব ছোট ছোট ভাল কাজগুলোই আপনার মনকে চাঙ্গা রাখবে,যা আপনার সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।