অবসরের সঙ্গী বারান্দা

অবসরের সঙ্গী বারান্দা
অবসরের সঙ্গী বারান্দা
প্রতিদিন সকালে পাখির কলরব শুনে ঘুম থেকে উঠতে চাইলে একটি বার্ড ফিডার আপনার ব্যালকনিতে নিয়ে আসুন। বার্ড ফিডারে পাখিদের খাবার খাইয়ে নিজেও মানসিক প্রশান্তি পাবেন, এতে আপনার দিনটি শুরু হবে দারুণ অনুভূতি নিয়ে। আসলে সকালে পাখির কলরবের চেয়ে মধুর সুর আর কিছু হয় না।

শহুরে জীবনে বাড়ির সবচেয়ে স্বস্তির জায়গাটি হল বারান্দা। শহরের বাড়িগুলোয় উঠান না থাকায় ঘরের বাইরে বারান্দায়ই অনেক সময় কাটাতে হয়। শহরের বাড়িগুলোতে খোলা জায়গা বলতে বোঝায় বারান্দা আর ছাদ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাদ ব্যবহারে বাড়িওয়ালাদের নিষেধাজ্ঞা থাকে। তাই অবসর সময়ে এই বারান্দাই যেন সঙ্গী হয়ে ওঠে। 

 

প্রায়শই বাড়ির বারান্দাটিকে কাপড়চোপড় ও অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে এলোমেলো করে রাখা হয়। কিন্তু নিজের অবসর সময় কাটানোর স্থানটিকে যদি সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা যায়, তা হলে মনও ভালো থাকবে আর পরিবেশও। ঘরের বারান্দাটি ছোট বা বড় যাইহোক এর মধ্যেই তা মনোরম, পরিপাটি ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারেন। একটু পরিকল্পনা করে ঘরের বারান্দাটি সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারলে প্রতিদিনই সেখানে দু’দণ্ড শান্তি মেলে। তাই কি ভাবে বারান্দাকে সুন্দর করে তুলতে পারেন জেনে নিন।
বারান্দা সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখুন: সাজানোর আগে অবশ্যই পুরো বারান্দাটি খুব ভালোভাবে পরিস্কার করে নিন। সাধারণত বাইরের ধুলাবালি বারান্দায় একটু বেশিই আসে। তাই সবসময় বারান্দা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। পরিস্কার করার পর বারান্দার আকার অনুযায়ী ঠিক করুন আপনি সেই জায়গাটিকে কীভাবে সাজাতে চান।

 

প্রাকৃতিক গাছ-পালা লাগান: বারান্দায় প্রকৃতির ছোঁয়া থাকলে সবচেয়ে ভালো। অনেকেই প্লাস্টিকের কৃত্রিম গাছ রাখেন কিন্তু এক্ষেত্রে তাজা গাছ হচ্ছে সবচেয়ে ভালো পছন্দ। সবুজ পাতা ভরা বা লতানো ফুল বা সবজির গাছ ব্যালকনিতে থাকার চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর হতে পারে না। মাটি ভরা টবে বীজ থেকে নিজেই চারাগাছ করতে পারেন অথবা নার্সারি থেকে সরাসরি ফুল, ফলের চারাগাছ কিনে এনে রাখতে পারেন বারান্দায়। বারান্দায় কিছুটা গোপনীয়তা আনার পাশাপাশি ঘরের নৈসর্গিক শোভাও বাড়বে এতে।

 

এ ক্ষেত্রে টব পছন্দের সময়ও বিশেষ নজর দিন। গাছের মতো টব সুন্দর হলে সকলের নজর আপনা আপনিই সে দিকে চলে যাবে। এ ছাড়াও ওয়াল প্লান্টও লাগাতে পারেন। দেওয়ালে টাঙানোর জন্য কাঠের কোনও র্যালক, ফ্রেম অথবা স্টিলের ফ্রেম বা রিঙ নিয়ে আসুন। তাতে জড়িয়ে দিন কিছু ফুল, লতাপাতা যুক্ত গাছ। আবার দেওয়াল থেকে একসঙ্গে অনেকগুলো লতাও ঝুলিয়ে দিতে পারেন। এটি পুরো দেওয়াল জুড়ে বা কোনও একটি নির্দিষ্ট অংশে করা যায়।

 

আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা করতে পারেন: পুরনো কাঠের বাক্স বা বেতের টুল দিয়ে এক টুকরো বসার জায়গা তৈরি করতে পারেন বারান্দায়। এরপর এখানে রেখে দিন কয়েকটা কুশন। বেশ আয়েশ করে এখানে সময় কাটাতে পারবেন গরমের বিকেলগুলোতে। চা-কফির সাথে আড্ডাও চলতে পারে। আর বৃষ্টি হলে চট করে এগুলোকে ঘরেও ঢুকিয়ে ফেলতে পারবেন কষ্ট ছাড়াই।

 

রাখতে পারেন বার্ড ফিডার: প্রতিদিন সকালে পাখির কলরব শুনে ঘুম থেকে উঠতে চাইলে একটি বার্ড ফিডার আপনার ব্যালকনিতে নিয়ে আসুন। বার্ড ফিডারে পাখিদের খাবার খাইয়ে নিজেও মানসিক প্রশান্তি পাবেন, এতে আপনার দিনটি শুরু হবে দারুণ অনুভূতি নিয়ে। আসলে সকালে পাখির কলরবের চেয়ে মধুর সুর আর কিছু হয় না।

 

অন্যান্য: এর পাশাপাশি বারান্দায় আরো জায়গা হলে সেখানে ঝুলিয়ে নিতে পারেন দোলনা। বারান্দার আকার অনুযায়ী দোলনা পছন্দ করতে পারেন। এছাড়াও আপনার পছন্দের যেকোন কিছু যেমন পুতুল, পেইন্টিং বা অন্য যেকোন কিছু দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন বারান্দা।