ঘরের সাজে ‘ড্রিম ক্যাচার’

ড্রিম ক্যাচার
একজন মানুষের সব থেকে বেশি সময় কাটে তার নিজ বাড়িতে। দৈনন্দিন জীবনের সব কাজের শেষে একটুখানি প্রশান্তির জায়গা তার নিজ ঘর। তাই সবাই চান নিজ বাড়িকে একটু মনের মতো করে সাজাতে। আর এই সাজের মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে তার রুচিশীলতা আর মননশীলতার পরিচয়। 

 

রুচিমতো ঘর সাজাতে অনেক রকমের জিনিস ব্যবহার করে থাকেন। যেমন বিভিন্ন ধরনের খেলনা, ছবির ফ্রেমও হাতে বানানো নানা পণ্য দিয়ে। তবে ড্রিম ক্যাচারের ব্যাবহার হতে পারে অনেকটাই অভিনব।

 

ড্রিম ক্যাচার কি?

 

ড্রিম ক্যাচার মূলত হাতেই তৈরি একটি শিল্প। এটি দেখতে অনেকটা চক্রাকার, গোলাকার ব্যাটের মত; গোলাকার অংশটি দেখতে হুবহু একটা মাকড়সার জালের ন্যায়। বানানো অনেক সহজ; কম সময়েই বানানো যায়; দেখতেও যেমন সুন্দর তেমনই আকর্ষণীও। ড্রিম ক্যাচার তৈরি হয় নানা রঙের পুঁথি, সুতো, কাপড়ের তৈরি লেজ, কাগজ, আর্টিফিশিয়াল পাখনা দিয়ে। তবে এখানে পাখানা গুলোই প্রধান ভূমিকায় থাকে। তার সাথে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট লাইট ব্যাবহার করে আরও বেশি আকর্ষণীও করে তোলা সম্ভব। নারীদের পক্ষে জিনিসটি তৈরি করে নিজেদের ঘরকে সহজেই সাজানো সম্ভব।

 

ড্রিম ক্যাচারের আদিকথা

 

উত্তর আমেরিকার ইতিহাসের দিকে নজর ফেরালে জানা যায় 'ওজিবয়ে' নামে এক জনগোষ্ঠী প্রথম ড্রিম ক্যাচার তৈরি করেন। তারাই এই ধারণার জন্ম দেয় যে, এই বিশেষ জিনিসটি যদি ঘুমনোর সময় পাশে রাখা যায়, তা হলে খারাপ স্বপ্ন দূরে থাকে, এমনকি, ভূতপ্রেতও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। আধুনিক ইতিহাসে ড্রিম ক্যাচার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৯২৯ সালে। ফ্রান্সিস ডেন্সমোর নামে এক ব্যক্তি প্রথম এই নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। সেই থেকেই এই শোপিসটিকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ ক্রমে বেড়েই চলেছে।

 

তারা বিশ্বাস করতেন, এ জালগুলো তাদের সন্তানদের ঘুমনোর সময় সকল প্রকার খারাপ স্বপ্ন, খারাপ আত্মা এবং বদনজর থেকে রক্ষা করবে। তাদের মতে খারাপ স্বপ্নগুলো জালে আটকা পরে যাবে এবং ভাল স্বপ্নগুলো তাদের সন্তান পর্যন্ত পৌঁছাবে। তারপর থেকেই এ জিনিসটি ড্রিম ক্যাচার বলেই খ্যাতি পেয়েছে।

 

ড্রিম ক্যাচারের উৎপত্তি এবং ব্যবহারের পিছে ছিল বেশ কিছু কারণ আর বিশ্বাস। অনেকেই মনে করেন, এটি ঘরে থাকলে সব রকম অশুভ শক্তি দূরে থাকে। তাদের মতে বাড়িতে এই শোপিসটি রাখলে গৃহস্থের চার দেওয়ালের মধ্যে শুভ শক্তির মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে খারাপ শক্তি ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। এছাড়াও অনেকেই এমনটা বিশ্বাস করেন, শোবার ঘরে এই শোপসিটি রাখলে দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ে। সঙ্গী হয় সৌভাগ্য। বাচ্চারা যেখানে ঘুমচ্ছে, সেখানে ড্রিম ক্যাচার ঝোলালে খারাপ শক্তির প্রভাবে বাচ্চাদের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না।

 

শুধুই আমেরিকাতে এর প্রচলন থাকলেও এখন পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় ঘর সাজানোর এক ভিন্নধর্মী উপকরণ হিসেবেই। তাই বলা যেতেই পারে, ড্রিম ক্যাচার ঘরে ব্যবহার করলে স্বপ্নের নকশাগুলো বাস্তবায়িত রূপ নেবে।