নারীর ক্ষমতায়নে তথ্যপ্রযুক্তি!

নারীর ক্ষমতায়নে তথ্যপ্রযুক্তি!
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সাররা। এখানেও নারীরা সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরো বেগবান এবং পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তার মতে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা যদি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে চাই, তবে নারী-পুরুষ দুই পক্ষকে মিলে কাজ করতে হবে।

নারীদের পিছিয়ে থাকার দিন তো সেই কবেই শেষ । একটা সময় ছিলো যখন নারীদের পুরুষদের উপর নির্ভরশীল হয়ে বাঁচতে হতো। কিন্তু সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। বর্তমান সময়ে নারীরা তাদের একক পরিচয় স্থাপন করে যাচ্ছে তাদের মেধা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। নারী শব্দটি যেন পরাজয়কে মেনে নেয় নি কখনোই । আজকের বাংলাদেশ নারীর অগ্রগতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে নারীরাও এগিয়ে এসেছে বিশদ পরিসরে। চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের সূচনালগ্নে তারা নানা খাতে দেশ ও দেশের বাইরে কাজ করে সাফল্য বয়ে আনছেন।

 

দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বেসিসের ১ হাজার ৩০০টির বেশি সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০টির শেয়ার ও পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরেক বড় অগ্রগতি এনেছে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্ত করা। এছাড়া দেশে ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাত প্রসারিত হচ্ছে। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নারী উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। বেসরকারি সমীক্ষা বলছে, দেশে ব্যবহারকারী ৩ কোটি ৫৮ লাখেরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে।  

 

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সাররা। এখানেও নারীরা সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরো বেগবান এবং পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তার মতে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা যদি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে চাই, তবে নারী-পুরুষ দুই পক্ষকে মিলে কাজ করতে হবে।

 

তেমনই দেশের নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে বেসিস। বেসিসের গৃহীত নানা উদ্যোগের ফলে বাড়ছে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা। বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীদের সংখ্যা ২৫ শতাংশ বা এর বেশি হলে ওই প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের সেবার ফিতে ১০ শতাংশ ছাড় দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বা নারী নেতৃত্বে পরিচালিত ব্যবসার প্রসারের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে শি-ট্রেডস, উইকানেক্ট আন্তর্জাতিক প্রকল্পের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনে কাজ করে যাচ্ছে বেসিস।

 

আইসিটির ক্রমবর্ধমান বিকাশের পাশাপাশি একজন নারী শিক্ষিত হলে এবং তাকে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে উন্নয়ন সম্ভব। প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন, নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা ও আইসিটি পেশায় প্রবেশ করার সুযোগ রয়েছে। আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।  বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেসিস নারীদের উন্নয়নে যেসব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, নিঃসন্দেহে তা প্রশংসনীয়।