অদ্ভুত কুৎসিত নারী ভ্যালসকুয়েজ!

অদ্ভুত কুৎসিত নারী ভ্যালসকুয়েজ!
Lizzie Velasquez
ভয়ঙ্কর কঙ্কালসার দেহ,তার উপর একটি চোখ অন্ধ। বেঁচে থাকতে হলে তাকে প্রতি ১৫ মিনিট পরপর খেতে হয়। রঙিন সভ্যতা তাকে উপাধি দিয়েছে "আগলি গার্ল"। যখন তিনি তার প্রথম ছবিটি আপলোড করেন, তখন অনেকেই বলেছিল- তুমি আত্মহত্যা করো না কেন?

বিভিন্ন সময়ে আমরা নানা রকম প্রতিযোগিতা দেখতে পাই। মানুষ বরাবরেই সুন্দরের পুজারী। তবে আজকে অবাক হবেন এক  অদ্ভুত গল্প দেখে। গুগলে "World's ugliest women" লিখে সার্চ দিলেই যে নামটি ভেসে আসে, তা হচ্ছে Lizzie Velasquez।

 

ভয়ঙ্কর কঙ্কালসার দেহ,তার উপর একটি চোখ অন্ধ। বেঁচে থাকতে হলে তাকে প্রতি ১৫ মিনিট পরপর খেতে হয়। রঙিন সভ্যতা তাকে উপাধি দিয়েছে "আগলি গার্ল"। যখন তিনি তার প্রথম ছবিটি আপলোড করেন, তখন অনেকেই বলেছিল- তুমি আত্মহত্যা করো না কেন?

 

তখনই সমাজের সকল উপেক্ষাকে পিছনে ফেলে তিনি তার জীবনের চারটি লক্ষ্য স্থির করলেন-- একজন সুবক্তা হওয়া, নিজের লেখা বই প্রকাশ করা, স্নাতক করা এবং নিজের ক্যারিয়ার ও পরিবারকে গড়ে তোলা।

 

আজ ২৭ বছর বয়সী এই "আগলি গার্ল" একজন সফল বক্তা, যিনি গত সাত বছরে ২০০ টির বেশি ওয়ার্কশপে তার বক্তৃতা রাখেন। প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা বই "Lizzie Beautiful" এবং "Be Beautiful, Be You"।

 

ফ্রান্সের স্যাভ্রোতে "International Bureau of Weights and Measures" এ প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি একটা সিলিন্ডার রাখা আছে। যার ভরকে "এক কিলোগ্রাম" বা আদর্শ ভর ধরা হয়। এই ভরের সাথে তুলনা করে পৃথিবীর সমস্ত বস্তুর ভর পরিমাপ করা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সৌন্দর্য পরিমাপ করার জন্য কি কোন আদর্শ নারী বা পুরুষকে কোন মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা আছে?? তবে কার সাথে তুলনা করে মানুষের সৌন্দর্যের পরিমাপ করা হয়?

 

এই সুন্দর অসুন্দরের ব্যাপারটা শুধুই আমাদের সমাজের সৃষ্টি। আমাদের সমাজে অতিরিক্ত মোটা মেয়েদের কুৎসিত মনে করা হয়। অথচ পশ্চিম আফ্রিকার মৌরিতানিয়ায় যে মেয়ে যত বেশি মোটা, তাকে তত বেশি সুন্দরী মনে করা হয়। সে দেশে মেয়েদেরকে মোটা বানানোর জন্য শিশু বয়স থেকেই দৈনিক ১৬০০০ ক্যালরি খাদ্য জোরপূর্বক খাওয়ানোর জন্য মেয়েদের উপর নির্যাতন করেন তাদের বাবা মা। উদ্দেশ্য একটাই, যত বেশি মোটা হবে, তত বেশি সুন্দরী হবে, তত ভালো পাত্র পাওয়া যাবে বিয়ের জন্য।

 

আসলে সত্যি কথা, পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই একে অপরের থেকে ভিন্ন। প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন এবং নিজস্ব সৌন্দর্য নিয়েই পৃথিবীতে আসে। তাই একজনের সৌন্দর্য কখনই আরেকজনের সৌন্দর্যের সাথে মিলবে না।

 

তাই চারপাশের মানুষকে বিচারক ভাবা বাদ দিন। নিজেকে কখনই অন্যের চোখ দিয়ে দেখবেন না। আর এই পৃথিবীতে কেউই সবদিক থেকে পারফেক্ট না। আপনি যাকে দেখে নিজেকে ছোট ভাবছেন, সেও আপনার কোন একটা দিক দেখে নিজেকে ছোট ভাবছে। নদীর ওপারের ঘাস সবসময়ই একটু বেশি সবুজ মনে হয়। মনে রাখবেন-- Nobody is perfect. If you are perfect, you are nobody.

 

আপনি যত সুন্দরই হোন না কেন, অস্বচ্ছ আয়না দিয়ে দেখলে আপনাকে কুৎসিত দেখাবে। আসলে আমরা কেউই কুৎসিত না,কুৎসিত হচ্ছে আমাদের নিজেকে দেখার চোখ।

 

তাই নিজেকে সুন্দর দৃষ্টি দিয়ে দেখুন... নিজের শক্তিশালী দিকগুলো খুঁজুন। দেখবেন, সত্যি আপনি অনেক সুন্দর, আপনার পৃথিবীটাও অনেক সুন্দর। Just be beautiful, be you.