নারী ফুটবলের 'পেলে’

নারী ফুটবলের 'পেলে’
মার্তা ভিয়েরা দ্য সিলভা
মার্তার অসাধারণ পায়ের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্ব। যার ফলস্বরুপ রেকর্ড ছয়বার হয়েছেন ফিফার বর্ষসেরা নারী ফুটবলার। এর মধ্যে তো ২০০৬-১০ পর্যন্ত টানা পাঁচবার বর্ষসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতেই। ছেলে ও মেয়েদের বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটিও এখন তার নামের সাথেই জড়ানো।

নারী ফুটবলে যদি সর্বকালের সেরাদের ছোট্ট একটি তালিকা করা হয় তাহলে সেখানে একেবারে শুরুতেই চলে আসবে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার মার্তার নাম। তিনি ফুটবল বিশ্বে এতটাই জনপ্রিয় যে ইতোমধ্যে মেয়েদের ফুটবল বিশ্বে ‘পেলে’ হিসেবে স্বীকৃতিটাও পেয়ে গিয়েছেন। পেলে নিজেও নাকি এই তুলনাটা বেশ উপভোগ করেন এবং তার সাথে এই তুলনা মেনেও নিয়েছেন কোনোপ্রকার দ্বিধা ছাড়াই।

 

অধিকাংশ ফুটবল বিশ্লেষকই মনে করেন, ফুটবলে যে নান্দনিকতা, শৈল্পিকতা রয়েছে তার জন্ম হয়েছে ব্রাজিলেই। সে দেশে কোন কালেই ফুটবল প্রতিভার অভাব ছিল না। তেমনই এক প্রতিভার নাম মার্তা ডি সিলভা। নান্দনিক এই ফুটবলারের জন্ম ১৯৮৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। পুরো নাম মার্তা ভিয়েরা দ্য সিলভা। তবে ফুটবল বিশ্ব মার্তা নামেই তাকে সবচেয়ে বেশি চেনে।

 

 

একেবারে ছোটবেলা থেকেই ফুটবল হয়ে উঠেছিল মার্তার ধ্যান-জ্ঞান এবং সবচেয়ে ভাল লাগার এক বিষয়। পাড়ার রাস্তায় প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের সাথে খেলার মধ্য দিয়ে ফুটবলে তার হাতেখড়ি। পাড়ার ছেলেরাও তার দুর্দান্ত স্কিলে নাস্তানাবুদ হতো প্রতিনিয়ত। বল নিয়ে ছেলেদের সাথে মাঠে নেমে পড়া সেদিনের সেই ছোট্ট মেয়েটিই আজকের নারী ফুটবল দুনিয়াতে আলোড়ন তৈরি করা তারকা মার্তা।

 

কথায় আছে প্রতিভা কখনো চাপা থাকে না। মার্তার ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। তাইতো ওই কম বয়সেই ব্রাজিলের বিখ্যাত মহিলা ফুটবল কোচ হেলেনা পাচেকোর নজরে পড়ে যান মার্তা। মূলত তার তত্ত্বাবধানে ফুটবলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন মার্তা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ভাস্কো দা গামা মহিলা ক্লাবের সাথে প্রশিক্ষণের জন্য রিও ডি জেনেইরোতে চলে আসেন তিনি।

 

 

কোচ হেলেনা পাচেকোর অধীনে মার্তা যেন হয়ে যান ডি বক্সে প্রতিপক্ষের ত্রাসের অপর নাম। তকে বলা হয় এই গ্রহের সবচেয়ে ট্যালেন্টেড আর পরিশ্রমী খেলোয়াড়। তার অসাধারণ ড্রিবলিং ও দক্ষতা প্রশ্নাতীত। স্কিল দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে সিদ্ধহস্ত তিনি।

 

এরপর নিজ মহাদেশ পেরিয়ে ইউরোপ, আমেরিকা যেখানেই, যেই ক্লাবের হয়েই মাঠে নেমেছেন একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়েও বেশ উজ্জ্বল এই সাম্বা-গার্ল। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জিতেছেন তিনটি কোপা আমেরিকা শিরোপা, দুইটি প্যান আমেরিকান গেমস স্বর্ণ, দুইটি অলিম্পিক রৌপ্য এবং একটি বিশ্বকাপ রানার্সআপ ট্রফি।

 

 

মার্তার অসাধারণ পায়ের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্ব। যার ফলস্বরুপ রেকর্ড ছয়বার হয়েছেন ফিফার বর্ষসেরা নারী ফুটবলার। এর মধ্যে তো ২০০৬-১০ পর্যন্ত টানা পাঁচবার বর্ষসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতেই। ছেলে ও মেয়েদের বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটিও এখন তার নামের সাথেই জড়ানো। নারী বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৭টি গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।

 

এত এত রেকর্ড, গোল, পুরস্কার তবুও যেন একটা অপূর্ণতা রয়েই গিয়েছে মার্তার ক্যারিয়ারে। কখনো যে বিশ্বকাপটাই ছুঁয়ে দেখা হয়নি মার্তার। সর্বোচ্চ সাফল্য ২০০৭ বিশ্বকাপে রানার্সআপ। বয়সের কারণে আগামী বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে একটু হলেও সন্দেহ রয়েছে। যদি বিশ্বকাপ খেলেন তাহলে নিশ্চিতভাবে এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের হয়ে সেই বহু আরাধ্য বিশ্বকাপ জয়ের জন্য আরেকবার লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিবেন কিনা তা দেখার অপেক্ষায় ব্রাজিলের আপামর জনগণ এবং তার ফুটবল ভক্তরা।