জন্ম ও সফলতা দুইয়েই সমকক্ষ তারা দুবোন

জন্ম ও সফলতা দুইয়েই সমকক্ষ তারা দুবোন
ছবি: সংগৃহীত
আসমা সিদ্দিকা মিলি এবং আয়েশা সিদ্দিকা শেলী দুজনেই সুন্দর স্বপ্ন নির্মাণে সফল হয়েছেন। সকল বাধা পেরিয়ে তারা পূরণ করেছেন তাদের স্বপ্ন, পরিবারের স্বপ্ন। তারা দেশের সম্পদ। সকল নারীদের জন্য তারা একটি আদর্শ।

কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাদের পৃথিবীতে আগমন। আয়েশা সিদ্দিকা শেলী ও আসমা সিদ্দিকা মিলি। মায়ের গর্ভ থেকে আগে এসেছে আয়েশা, তারপর আসমা। এখন আবার দুই বোন একসাথেই সফলতার গান শোনাচ্ছে দেশকে।

 

জন্মক্ষণের পাশাপাশি সফলতায়ও দুই বোন রয়েছেন প্রায় সমপর্যায়ে। বর্তমানে আয়েশা সিদ্দিকা শেলী ঢাকা কর অঞ্চল ১১ পরিদর্শী রেঞ্জ-২-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম, পিপিএম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার পদে কর্মরত।

 

এই দুই কৃতিকন্যা মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হামিদ ও রিজিয়া খানমের সন্তান। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি স্নাতকও তারা এক বিদ্যাপীঠ থেকে সম্পন্ন করেছেন। মাগুরা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে দুই বোনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বড় বোন আয়েশা সিদ্দিকা শেলী লোক প্রশাসন বিভাগে এবং ছোট বোন আসমা সিদ্দিকা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

 

সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে বড় বোন আয়েশা সিদ্দিকা শেলী ১৯৯৯ সালে ১৮তম বিসিএস কর ক্যাডারে উত্তীর্ণ এবং সহকারী কর কমিশনার পদে নিয়োগ পান। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ডেপুটি কমিশনার এবং তারপর এক বছর যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম ও কল্যাণ শাখার কূটনৈতিক কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করেছেন।

 

দেশে এসে দুই মাস ট্যাক্স একাডেমির যুগ্ম পরিচালক, তারপর থেকে অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিজ পেশা এবং একই সাথে বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে তিনি সর্ব-মহলে প্রশংসিত হয়েছেন। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার কমিয়ে আনতে নারীদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে তিনি নিরলস-ভাবে পরিশ্রম করছেন।

 

অন্যদিকে ছোটবোন আসমা সিদ্দিকা মিলি পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে প্রাথমিক পেশাজীবন শুরু করেন। এরপর ২০০৫ সালে ২৪তম সহকারি পুলিশ কমিশনার পদে উত্তীর্ণ হন। তিনি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), রাজবাড়ির পুলিশ সুপার ও দীর্ঘদিন এমিগ্রেশন নিয়ে কাজ করেছেন। রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি বহুবিধ মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে সর্বমহলে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হন।

 

সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পেয়েছেন। পেশাজীবনের পাশাপাশি ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের গত ২০১৮-১৯ নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ২০২০ সালে নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

 

আসমা সিদ্দিকা মিলি এবং আয়েশা সিদ্দিকা শেলী দুজনেই সুন্দর স্বপ্ন নির্মাণে সফল হয়েছেন। সকল বাধা পেরিয়ে তারা পূরণ করেছেন তাদের স্বপ্ন, পরিবারের স্বপ্ন। তারা দেশের সম্পদ। সকল নারীদের জন্য তারা একটি আদর্শ।