১৬ বীরাঙ্গনা পেলেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

১৬ বীরাঙ্গনা পেলেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭৩ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বীরাঙ্গনারা প্রতি মাসে সরকারি ভাতাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে নির্যাতিত আরও ১৬ জন বীরাঙ্গনার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এ নিয়ে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪১৬ জন বীরাঙ্গনা বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় স্থান পেলেন।  

 

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭৩ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার নাম প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বীরাঙ্গনারা প্রতি মাসে সরকারি ভাতাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

 

স্বীকৃতি-প্রাপ্ত ১৬ জন বীরাঙ্গনা হলেন-সুনামগঞ্জের অচিন্তপুরের গুলবাহার বেগম, মাদারীপুরের চর কামার কান্দির আজুফা বেগম, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার দুর্গারামপুরের আনোয়ারা বেগম, রুমিয়া খাতুন, পিরোজপুরের নেছারাবাদের জুলহারের বিল্ল বাসিনী, শেফালী সিকদার, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর সরাইপাড়ার হোসনে আরা বেগম, নরসিংদীর রায়পুরার মামুদপুরের জাহেরা খাতুন, মৌলভীবাজারের পশ্চিম দিগলগজির মইরম নেছা, হাজেরা বেগম, সৈয়ারপুরের প্রীতি রানী দত্ত, রংপুরের মিঠাপুকুরের শাকুরের হাটের ফুলচৌকির মোছা. ফাতেমা বেগম, জগদীশপুরের মোছা. বেগনা বেগম, চিথলী উত্তরপাড়ার মোছা. মালেকা বেগম, নোয়াখালীর মাইজদীর শোভা পারভীন ও বাগেরহাটের রায়েন্দা বাজারের সেতারা বেগম।

 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ বলেন, “প্রকাশিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকায় নারী মুক্তিযোদ্ধারাও (বীরাঙ্গনা) রয়েছেন। আলাদা আলাদা গেজেট প্রকাশিত হলেও আমাদের মন্ত্রণালয় সবগুলো এক সঙ্গে মিলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে যাচ্ছে।”

 

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সম্মান জানান। তার নির্দেশনায় বীরাঙ্গনাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়, যা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত চলছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পর ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। পরের বছরের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ওই প্রস্তাব পাস হয়।

 

গত ২৫ মার্চ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত তিন দফায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকায় এক লাখ ৬৬ হাজার ৪১ জনের নাম প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।