অক্সিজেন নয়, যেন নিঃশ্বাস বিতরণ করছেন সুহানা

অক্সিজেন নয়, যেন নিঃশ্বাস বিতরণ করছেন সুহানা
অক্সিজেন নয়, যেন নিঃশ্বাস বিতরণ করছেন সুহানা
পারিবারিক বাঁধা ও জীবনের ঝুঁকি থাকলেও মানবতার ডাকে ছুটছেন এই নারী স্বেচ্ছাসেবক দল। যখন কোন করোনা আক্রান্ত  বৃদ্ধ- বৃদ্ধাকে অক্সিজেন পৌঁছে দেন, তখন যেন সন্তানের মত নিজের বাবা মাকেই সেবা দিচ্ছেন এমন আনন্দের অনুভূতি থেকেই এ কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান ফাউন্ডেশনটির কর্ণধার শেখ সুহানা ইসলাম।

নারী, এমন এক চরিত্র যাতে খুঁজে পাওয়া হাজার রকমে আশ্রয়। কখনো মায়ের, কখনো ডাক্তার হয়ে,কখনো অস্ত্র হাতে, কখনো ইট, বালুর ঝুড়ি মাথায় নিয়ে কোন কনস্ট্রাকশনে। এবার নারী অক্সিজেন হাতে। 

 

অবাক লাগছে! ভ্রু কুচকে ভাবছেন অক্সিজেন হাতে আবার কোন ঘটনা? হ্যাঁ, অক্সিজেনের সিলিন্ডার হাতেই রাজধানীর কয়েকজন নারী ছুটছেন করোনা আক্রান্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে।  

 

শেখ সুহানা ইসলাম, একজন নারী হয়ে একপ্রকার বিনামূল্যেই স্কুটার চালিয়ে অক্সিজেনের সিলিন্ডার নিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন রোগীর বাসায়। সামর্থ্যবানরা খুশি হয়ে অক্সিজেন রিফিলের জন্য কিছু যৎসামান্য অর্থ দিলে তা গ্রহণ করেন। তবে অসহায় কিংবা আর্থিক দুর্বল মানুষদের দিচ্ছেন ফ্রি সার্ভিস। একাজে তাকে সহায়তা করছেন আরো কয়েকজন, যাদের প্রত্যেকেই নারী এবং তারাও স্কুটার চালিয়েই পৌঁছে দিচ্ছেন অক্সিজেন। 

 

পারিবারিক বাঁধা ও জীবনের ঝুঁকি থাকলেও মানবতার ডাকে ছুটছেন এই নারী স্বেচ্ছাসেবক দল। যখন কোন করোনা আক্রান্ত  বৃদ্ধ- বৃদ্ধাকে অক্সিজেন পৌঁছে দেন, তখন যেন সন্তানের মত নিজের বাবা মাকেই সেবা দিচ্ছেন এমন আনন্দের অনুভূতি থেকেই এ কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান ফাউন্ডেশনটির কর্ণধার শেখ সুহানা ইসলাম।

 

গত বছরের মার্চে করোনার প্রকোষ্ঠে বাড়তে শুরু করলে নিজস্ব অর্থায়নে মাত্র একটি সিলিন্ডার নিয়ে এ কাজ শুরু করেন। এখন সে সিলিন্ডারের সংখ্যা ১৫ টি। সময়ের প্রয়োজনে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবী নারীরা। দুই সন্তানের জননী সুহানা জীবন ঝুঁকি থাকলেও ভালোবেসেই করছেন এ কাজ। তবে সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধিও মেনে কাজ করেন তারা। 

 

কিন্তু করোনা আক্রান্তের তুলনায় পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় সকলকে সেবা প্রদান সম্ভব হয়ে উঠেনা। অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি অসহায় মানুষদের খাবারও দিয়ে থাকেন।  মূলত ২০১৮ সালে জার্মানী প্রবাসী বন্ধু ফারহানা তাসনিমকে সুকর্মা নামে এক ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন সুহানা। যার লক্ষ্য ছিল মেয়েদের মানসিক ও শারীরিক পরামর্শ দেওয়া৷ কিন্তু করোনার প্রকোপে এবং সময়ের প্রয়োজনে ফাউন্ডেশনের কাজের ধরণে আসে পরিবর্তন৷ 

 

বর্তমানে অক্সিজেনের নামে মানুষের কাছে যেন পৌঁছে দিচ্ছেন নিঃশ্বাস। জীবন বাঁচিয়ে তোলার এই যুদ্ধে জয়ী একজন সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে লড়ছেন সুহানা ও তার সহকর্মী নারীরা। তাদের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও আহবান সক্ষম মানুষের কাছে এমন দিনে সুহানার মত মানুষের পাশে দাঁড়াবার।