বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মালদ্বীপ প্রতিনিধি বাংলাদেশের নারী

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মালদ্বীপ প্রতিনিধি বাংলাদেশের নারী
ডা. নাজনীন আনোয়ার
গতকাল সোমবার এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, "গত ১৮ এপ্রিল তিনি মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ শহীদের কাছে তার আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র উপস্থাপন করেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি নারী যিনি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এই পদে ভূষিত হয়েছেন।"

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নাজনীন আনোয়ার। যিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক অফিস, বাংলাদেশে ডব্লিউএইচও’র কান্ট্রি অফিস এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন সফলতার সাথে কাজ করেছেন। এবার মালদ্বীপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচইউ) প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে তাকে এবং এ পদে তিনিই প্রথম কোন বাংলাদেশী নারী।  


গত ৮ এপ্রিল তাকে এ পদে মনোনীত করে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা  (ডব্লিউএইচও)। এরপর তিনি গত ১৮ এপ্রিল মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ শহীদের কাছে তার আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র উপস্থাপন করেন। জনস্বাস্থ্যে ৩৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তিনি। রয়েছে জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশংসা সনদও।


গতকাল সোমবার এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, "গত ১৮ এপ্রিল তিনি মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ শহীদের কাছে তার আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র উপস্থাপন করেন। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি নারী যিনি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এই পদে ভূষিত হয়েছেন।"


বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, 'অংশীদারিত্বের বিকাশ এবং সম্পদ একত্রিত করণের মাধ্যমে এই অঞ্চল জুড়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও ক্ষমতাকে জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদ্ধতির বিকাশ ও বাস্তবায়নের সুবিধার্থে অবদানের জন্য তাঁকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।' 

 

ডা. নাজনীন মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন চট্টগ্রামের সেন্ট স্কলাস্টিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছিলেন  চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এবং এরপর তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। 


তিনি ২০১০ সালে ডব্লিউএইচও’র (হু) কান্ট্রি অফিস বাংলাদেশে জাতীয় পরামর্শক হিসাবে যোগদান করেছিলেন, তারপর ভারতের নয়াদিল্লিস্থ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় হু’র আঞ্চলিক অফিসে প্রথমে টেকনিক্যাল অফিসার এবং পরে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশ গুলোয় মানসিক স্বাস্থ্য ও পদার্থের ব্যবহার নীতি, পরিকল্পনা, কর্মসূচি এবং আইনসভা কাঠামোকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার সফল ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে এমন পদ প্রাপ্তিতে সর্বস্তরে বেশ প্রশংসা কুড়োচ্ছেন তিনি।