রোজাদারদের জন্য ইফতার রাখে ‘নারী বাতায়ন’

রোজাদারদের জন্য ইফতার রাখে ‘নারী বাতায়ন’
রোজাদারদের জন্য ইফতার রাখে ‘নারী বাতায়ন’
‘রমজানে এমনিতেই মানুষের নানা সমস্যা থাকে। এবার লকডাউনের কারণে এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পুরো রমজান জুড়েই এভাবে অসহায় মানুষের মুখে ইফতার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি আমরা।’

কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোড, বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটেরে সামনে, কুষ্টিয়া পৌরসভার সামনের সড়কে সারি সারি করে ইফতারের প্যাকেট ও পানির বোতল থরে থরে সাজিয়ে রাখছে ‘নারী বাতায়ন’ নামক এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সেখান থেকে ইফতারের প্যাকেট তুলে নিচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। কেউ আবার পাশেই বসে খাচ্ছেন। এবছর রোজার শুরু থেকেই গরীব, অসহায়দের জন্য রাস্তায় ইফতার সাজিয়ে রাখছে এই সংগঠনটি।

 

নারী বাতায়ন সংগঠনটি মূলত নারীদের উন্নয়ন ও কল্যাণের পাশাপাশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে। এটি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য এমন মহতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনটি এ ধরনের কাজ সবসময়ই করে থাকেন। ২০০১ সাল থেকেই এ ধরনের কাজ করছেন তারা। গত বছর করোনা মহামারির শুরু থেকে এই কাজটি একটু বড়সড় পরিসরে শুরু করেছেন।

 

আসরের নামাজের পর একেক দিন একেক স্থানে রাস্তার পাশে নারী বাতায়ন সংগঠন ইফতার সাজিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন স্বেচ্ছাসেবকরা। চলার পথে ইফতার হাতে পেয়ে অনেকের মুখেই ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। সে সময় দুহাত ভরে দোয়া করেন আয়োজকদের জন্য। এ রকম ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখে যেমন খুশি উপকারভোগীরা, তেমনি আলোচনা ও প্রশংসায় ভাসছেন সংগঠনটির সদস্যরা।

 

সড়কে চলাচলরত ইজিবাইকের চালক কিংবা রিকশাচালক অথবা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া রোজাদাররা যে যার মতো করে একটি প্যাকেট নিয়ে চলে যান। মূলত কুষ্টিয়া শহরের অসহায়, দরিদ্র কিংবা স্বল্প আয়ের দিনমজুরদের জন্য এমন ব্যতিক্রমী ইফতারের আয়োজন করছে কুষ্টিয়ার নারী বাতায়ন। জানা যায়, প্রতিদিন বিকেল ৫টার দিকে ইফতারের জন্য তৈরি করা প্যাকেট বিভিন্ন দিন শহরের বিভিন্ন সড়কে রাখা হয়।

 

সংগঠনের সদস্য রুবিনা খাতুন বলেন, ‘রমজানে এমনিতেই মানুষের নানা সমস্যা থাকে। এবার লকডাউনের কারণে এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পুরো রমজান জুড়েই এভাবে অসহায় মানুষের মুখে ইফতার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি আমরা।’

 

শহরের নারিকেলতলা এলাকার রিকশাচালক কুদ্দুস খান বলেন, ‘লকডাউনে যাত্রী নাই। কিন্তু সংসার তো আছে। চার জন খানেওয়ালা। যা আয় হয় ঠিক মতো খাইতেই কষ্ট হয়। বাড়তি খরচ তো অসম্ভব।’ দুদিন তিনি ওই ইফতারের প্যাকেট সংগ্রহ করেছেন। বাসায় নিয়ে বৃদ্ধা মা ও পরিবারের সঙ্গে খেয়েছেন।

 

নারী বাতায়নের সভাপতি ও মৌবনের নিবার্হী পরিচালক সাফিনা আনজুম জনী বলেন, ‘আপাতত প্রতিদিন ১৫০ প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু-বান্ধবরা এ কাজে সহায়তা করছেন। পুরো রোজার মাস এই কার্যক্রম চলবে। সামনে এটা আরও বড় পরিসরে করার ইচ্ছে আছে।’