সাজিয়ে নিন নতুন সংসার

সাজিয়ে নিন নতুন সংসার
ছবি: সংগৃহীত
নতুন সংসার সাজানো তো আর মুখের কথা নয়। ব্যয়বহুল কাজ; তাই প্রথমে প্রধান আসবাবপত্র কিনে তারপর আস্তে ধীরে বাকি জিনিসগুলো কিনে ফেললেই হল। এতে একসাথে বেশি চাপও বহন করতে হবে না। আসবাবপত্রের পরে আসা যাক সাজগোছের ব্যাপারে। নতুন সংসারে বসবাস শুরুর পর থেকে একটু একটু করে নিজেদের মন মতো সাজিয়ে নেয়া যেতে পারে যাতে ঘর দেখতে আরও নান্দনিক হয়ে ওঠে।

বিয়ে তো করে ফেললেন, কিন্তু সংসার সাজানোর কথা কি ভেবেছেন? বিয়ের পরেই শুরু হয় নতুন সংসার। নতুন সংসার শুরুতে যেমনি আনন্দ থাকে, তেমনি থাকে বিড়ম্বনাও। তাই বিড়ম্বনা কমাতে আজকের এই আয়োজন।

 

সংসার সাজানোর কথা মাথায় এলেই রাজ্যের চিন্তা ভর করে। কিভাবে বাসা সাজাবেন, সাজানোর জন্য কি কি কিনবেন, কোথা থেকে কিনবেন, খরচ কেমন পড়বে ইত্যাদি নানা ধরনের অনেক প্রশ্ন জাগে মনে সেই সাথে কনফিউশনেও ভুগতে হয়। এমন নয় যে দামি দামি আসবাব দিয়ে ঘর সাজাতে হবে। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সামর্থ্যের মধ্যেই সুন্দর করে সাজানো যেতে পারে সংসার। 

 

সবার প্রথমে আবশ্যিক প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো এবং কম প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর তালিকা করে নিতে হবে। বিলাসী পণ্যের দিকে না নজর দিয়ে প্রথমেই নজর দিতে হবে ঘর একদম পারফেক্ট ভাবে সাজানোর জন্য যা যা দরকার তার লিস্টের দিকে। নতুন করে ঘর সাজানোর জন্য প্রথমেই দরকার হবে আসবাবপত্রের। শোবার ঘরের খাট, বসার ঘরের সোফা সেট, খাবার ঘরের টেবিল, কাপড় রাখার ওয়ারড্রব, ড্রেসিং টেবিল, আলমারি, শো-কেস, জুতার র‍্যাক ইত্যাদি দরকার হবেই। আর এসব আসবাবপত্র পরেই প্রয়োজন ফেব্রিকসের। যেমন, পর্দা, কুশন কভার, বিছানার চাঁদর এর মত প্রয়োজনীয় জিনিস। এরপরের তালিকায় থাকবে হাঁড়ি-পাতিল, বাসন, চুলা, দা-বটি ইত্যাদি রান্নাঘরের সরঞ্জাম। তারপর আরও রয়েছে ফ্রিজ, মাইক্রোওভেন, ব্লেন্ডার ইত্যাদি সামগ্রী। 

 

লিস্টের এসকল জিনিসের মধ্যে সংসার সাজানোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হল খাট, আলমারি, ড্রেসিং টেবিলের মত ফার্নিচার। যা সকল সংসারেই থাকা প্রয়োজন আর এসকল ফার্নিচার ব্যয় বহুল তাই চাইলেই এগুলো বলদে ফেলা যায় না। সে জন্য দেখে শুনে প্রথমেই ভালো মানের ফার্নিচার কেনা উচিত। কাঠের ফার্নিচার বেশি টেকসই হয় তাই কাঠের ফার্নিচার নির্ধারণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। 

 

নতুন সংসার সাজানো তো আর মুখের কথা নয়। ব্যয়বহুল কাজ; তাই প্রথমে প্রধান আসবাবপত্র কিনে তারপর আস্তে ধীরে বাকি জিনিসগুলো কিনে ফেললেই হল। এতে একসাথে বেশি চাপও বহন করতে হবে না। আসবাবপত্রের পরে আসা যাক সাজগোছের ব্যাপারে। নতুন সংসারে বসবাস শুরুর পর থেকে একটু একটু করে নিজেদের মন মতো সাজিয়ে নেয়া যেতে পারে যাতে ঘর দেখতে আরও নান্দনিক হয়ে ওঠে। 

 

ঘরের খালি কোণাগুলোতে মাটির শোপিস রাখা যেতে পারে। বারান্দায় কিছু টবে গাছ লাগানো যেতে পারে। শোবার ঘরে খাটের পাশে একটি টেবিল ল্যাম্প রাখতে পারেন। এতে যেমন ঘরের সৌন্দর্যবর্ধন হবে তেমনি রাতে লাইট জ্বেলে বইও পড়তে পারবেন। এতে সঙ্গীর ঘুমেরও ব্যাঘাত হবে না। ঘর সাজাতে কম দামে নানা রকমের শোপিস পাওয়া যায়। যেগুলো দিয়ে ঘর সাজালে ঘরের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। 

 


ঘরের দেয়ালে হালকা রং করুন এতে ঘর বেশ উজ্জ্বল দেখাবে। ঘরের আরেকটি বিশেষ অনুষঙ্গ হল পর্দা। ঘরের দেয়ালের রং, আকার, আয়তন বুঝে পর্দা নির্বাচন করুন। পর্দার ক্ষেত্রে হালকা রঙের পর্দা বাছাই করুন সেই সাথে সকল ঘরের জন্য একী পর্দা নির্ধারণ করুন। এরপর কিছু পেইন্টিং এবং ছবি বাঁধাই করে ঝুলিয়ে দিতে পারেন ঘরের দেয়ালে। ড্রয়িং রুমের মাঝে একটি ঝাড়বাতিও ঝুলাতে পাড়েন। 

 

টিভি, ফ্রিজ ছাড়া তো আর সংসার পরিপূর্ণ হয় না। তবে এসব ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী ব্যয়বহুল। যারা একেবারে কিনতে পারবেন তারা তো পাড়লেনই কিন্তু যারা একবারে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন তারা কিস্তির মাধ্যমে নিতে পাড়েন এসকল সামগ্রী। টিভি, ফ্রিজ ছাড়াও রয়েছে সিলিং ফ্যান, লাইটের মত বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক সামগ্রী। 

 

ঘর সাজানোর জন্য ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে খুব সাধারণ ভুল অনেকেই করে ফেলেন। তাই এধরনের ভুল যাতে না হয় সেদিকে বিশেষ নজরতো দিতেই হবে। ঘরের সাজসজ্জার মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিত্ব ও রুচির পরিচয় বহন করে। তাই ঘর সাজিয়ে নিন মনের মত করে যা আপনার সুন্দর রুচির বহিঃপ্রকাশ করবে।