পশুর হাট থেকে কোরবানি

অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে বিপদ

ছবি: সংগৃহীত
কোরবানির পশু কেনাটাই শেষ নয় ঈদ-উল-আযহা পালনে বরং পশু জবাই করে পরিমাণমত সবার মধ্যে বিতরণ করাটা হচ্ছে মূল অংশ। করোনা পরিস্থিতির প্রথম দিকে সবার মধ্যে সচেতনতা থাকলেও ধীরে ধীরে বিভিন্ন কার্যালয় খুলে দেয়ায় আবারো অনিয়ম সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন ভাবে। মাস্ক ছাড়া দিব্যি ঘুরে বেড়ানো, টঙের দোকানে নিশ্চিন্তে মাস্ক নামিয়ে চা পান করা, সিগারেট ফুঁকা, নির্দিষ্ট কোনো স্থানে মাস্ক পরে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা হরেক রকমের দৃশ্য রাস্তায় বের হলেই অহরহ! এরই মধ্যে ঈদের রয়েছে আর মাত্র হাতে গোণা কয়েকটা দিন।

ইতোমধ্যে দুই ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে হাটগুলিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার মান বজায় নিশ্চিত করতে কাজ করছে। গবাদি পশু বাজারে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত শর্তাদি ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এ বছর কয়েকটি হাট বাতিল করা হয়েছে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি মাথায় রেখে। অপারেটর কোম্পানিগুলো “ঘরে বসে কোরবানির পশু কেনা সম্ভব” বার্তা দিয়ে চেষ্টা করছেন হাটে যাওয়া ঠেকাতে। তবু হাট যে একেবারে বন্ধ তা নয় বরং কিছু হাট খোলা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে অনলাইনে ডিজিটাল গবাদি পশুর হাট চালু হয়েছে যেখানে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোরবানির পশুর ছবি, ওজন, দাম ইত্যাদি বিবরণ দেয়া থাকে এবং গ্রাহক পছন্দমত কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারবে।

 

খামার থেকে সরাসরি কেনাবেচারও একটি সুযোগ আছে। সেই সাথে কোরবানির পশু কিনে, পেশাদারদের মাধ্যমে পরিমাণ মতো জবাই করে বাসার দরজা পর্যন্ত এনে দেয়ার ব্যবস্থার মত বিকল্পও এই ঈদে আছে। এত বিকল্পের পরেও ভিড় এবং লোকজনের সংস্পর্শে আসার একটি বিশাল ঝুঁকি রয়ে যায়, কিংবা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়।

 

দেখা যায়, অনলাইনে সব ব্যবস্থা থাকলেও নিজেদের সশরীরে হাটে উপস্থিত থেকে ক্রয় করে আনার খুঁতখুঁত স্বভাবটির জন্য অনেকেই বেছে নেবেন হাটে বা খামার থেকে কেনা। অসাবধানতা ভাইরাসের সংক্রমণকে অনেকটা দাওয়াত দিয়েই শরীরে প্রবেশ করার অনুমতি দিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান কি আসলেই সকল সমস্যার সমাধান?

 

আমাদের দেশের বেশীর মাস্কের গুণগত মান ঝুঁকি বন্ধের জন্য উপযুক্ত না এবং মানযুক্ত মাস্কের দামও হাতের নাগালে নয়। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় বিশেষ করে বেশীর ভাগ নিম্ন আয়ের ব্যক্তিবর্গ কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন নতুবা একেবারেই মাস্ক পরেন না। তার সাথে মধ্যবিত্তরা একই মাস্ক সাবান দিয়ে ধুয়ে একাধিকবার ব্যবহার করে থাকেন। যা মাস্কে থাকা ভাইরাসটি ধ্বংস করে বটে একই সাথে মাস্কের মান নষ্ট করে ফেলে। মানুষের মধ্যে “অবহেলা” বিষয়টি এতটাই জনপ্রিয় যে, অনেকের মধ্যে মুখ থেকে মাস্কটি গলায় নামিয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে কথা বলতেও দেখা যায়। পরবর্তীতে, দিব্যি গলায় নামিয়ে নেয়া মাস্কটি মুখে আবার নিয়ে নেয়া হয়।

 

সেই সাথে ভিড় যেখানে, সেখানে মানুষের আকর্ষণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে টেনে নেয় এবং ঘরের বাইরে বারে বারে হাত ধোঁয়া, কল্পনার বাইরে। স্যানিটাইজ করাটা সম্ভব তবে হাট থেকে গন্তব্যে কোরবানির পশু নিয়ে আসার পথে মনযোগ সম্পূর্ণ পশুতে বিরাজমান থাকে। ফলে, খালি বা গ্লাভস পরা হাতে যদি ভাইরাসটি বিদ্যমান থাকে এবং অন্যমনস্কতায় হাতটি চোখে, নাকে কিংবা মুখের সংস্পর্শে আসে তবে সংক্রমণ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 

করোনা ভাইরাস, ফুসফুসে সংক্রমিত একটি রোগ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনার প্রকোপ নতুন করে বলার কিছুই নেই। পরিবারের কেউ একজন আক্রান্ত হলেই অন্য সদস্যের আক্রান্ত না হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বাবা এবং মা আক্রান্ত হলে শিশুকে নিয়ে বিপদে পড়ার নজিরও কম নয় এবং এই ভাইরাসের সংক্রমণ সহজ কোনো বিষয় নয়। আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠলেও ফুসফুসের ও মানসিকতার কিছুটা ক্ষতি করেই যায়। বস্তুত, কোরবানির দিন পশু জবাই করাও এক ব্যক্তির কাজ নয়। বরং মিলিত সংখ্যার কাজ। তাই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাটা জরুরী হয়ে পরে।

 

যদি একান্তই হাটে যেয়ে কোরবানির পশু কেনাটা জরুরী হয়ে থাকে তাহলে সচেতন ভাবে ডবল বা দুইটি মাস্ক পরিধান করে, গ্লাভস পরে বার বার স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত। খেয়াল রাখা দরকার যে চোখ, মুখ ও নাকে যেনো হাতের সংস্পর্শ ভুলেও না আসে। সে সম্পর্কে জ্ঞাত থাকাটা বেশ জরুরী। কোরবানির পশু জবেহর সময় পরিকল্পনাটা ভালোমত করে নিন কোন অংশে কে থাকবেন এবং একসাথে দাঁড়ালেও মুখোমুখি হওয়াটা এড়িয়ে যান। মাংস আলাদা করা থেকে প্যাকেটজাত করা এবং বিতরণ করা পর্যন্ত মাস্ক ও গ্লাভস পরিধান করুন।

 

পরিচিতের কাছ থেকে মাংস গ্রহণ করার সময় মাস্ক পরিধান করে গ্রহণ করুন এবং সঙ্গে সঙ্গে মাংস ফ্রিজে না ঢুকিয়ে বরং পানিতে চুবিয়ে ৩/৪ ঘণ্টা আলাদা রেখে দিন। কারণ হিমায়িত মাংসে বা খাদ্যে ভাইরাসটি থেকে যায়। গরীবের মাঝে বিতরণের সময় বিকল্প হিসেবে, মাংস প্যাকেটজাত করে টেবিলে কিংবা সাজিয়ে রেখে দিন এবং শৃঙ্খলভাবে একে একে প্যাকেট নিতে অনুরোধ করুন এবং সাহায্য করুন।