মাল্টার যত গুণ

মাল্টার যত গুণ
মাল্টার যত গুণ
প্রতিনিয়ত মাল্টা খেলে দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে,যারা নিয়মিত মাল্টা খায় তাদের দাঁতের রোগ অনেক কম হয়। জিহ্বায় ঘা, ঠোঁটের ঘা, জ্বরের সময় ঠোঁটসহ ত্বক, জিহ্বার অনেক রোগ ভাল করে মাল্টা। এছাড়াও শীতকালীন ঠোঁট ফাঁটা, পায়ের তালু ও হাতের তালু ফাঁটা রোগ প্রতিরোধ করে মাল্টা । সর্দি, নাক বন্ধ থাকা, টনসিলের সমস্যা, গলা ব্যথা, জ্বর-জ্বর ভাব, হাঁচি-কাশি, মাথা ব্যথা, ঠাণ্ডা জনিত দুর্বলতাসহ এ জাতীয় সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উৎস হিসেবে খেতে পারেন মাল্টা। ভিটামিন-সি রক্তে শ্বেত-কণিকার সংখ্যা বাড়ায়, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। রক্তশূন্যতায় ভুগছে এমন মানুষের জন্য বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে মাল্টা।

দৈনন্দিন কর্মব্যস্ত জীবনে ভিটামিনের চাহিদা পূরণে ফলের উপকারিতার জুড়ি নেই। প্রায় সকল ধরণের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে থাকে বাজারে পাওয়া নানা রকমের ফল। তবে ভিটামিন-সি মানব শরীরের জন্য একটু বেশিই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা বলেন, একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর প্রতিদিন ৭৫ মিলিগ্রাম ও পূর্ণবয়স্ক পুরুষের ৯০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি গ্রহণ করা উচিত। আর ভিটামিন-সি এর জোগানে বিশেষ ভূমিকা রাখে আমাদের দেশের জনপ্রিয় ও সহজলভ্য একটি ফল মাল্টা৷ 

 

এটি প্রায় সারা বছরই বাজারে পাওয়া যায় এবং দামেও বেশ সস্তা। জনপ্রিয় এই ফলটির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা হয়তো অনেকেই জানি না। শুধুমাত্র ভিটামিন-সি না, মাল্টাতে রয়েছে ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, এবং চর্বিমুক্ত ক্যালরি। এগুলো ছাড়াও মালটাতে রয়েছে আরও অনেক পুষ্টিগুণ৷ 

 

চলুন একে একে জেনে নেওয়া যাক মাল্টার নানা গুণ সম্পর্কে: 

 

 

ভিটামিন-সি এর চাহিদা পূরণে 

 

ভিটামিন-সি এর চাহিদা পূরণে মাল্টার জুড়ি নেই। এক গ্লাস মাল্টার জুসকে ভিটামিন-সি এর সবচেয়ে কার্যকর উৎস বলে মনে করা হয়। মাল্টাকে ভিটামিন-সি ট্যাবলেট হিসেবেও গ্রহণ করা যায় । গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১০০ গ্রাম মাল্টায় ভিটামিন-সি আছে ৩২ মিলিগ্রাম৷ প্রতিদিন মানবদেহে ভিটামিন-সি এর চাহিদার আধাভাগ জোগান দিতে পারে একটি মাল্টা। 

 

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে 

 

প্রতিনিয়ত মাল্টা খেলে দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে,যারা নিয়মিত মাল্টা খায় তাদের দাঁতের রোগ অনেক কম হয়। জিহ্বায় ঘা, ঠোঁটের ঘা, জ্বরের সময় ঠোঁটসহ ত্বক, জিহ্বার অনেক রোগ ভাল করে মাল্টা। এছাড়াও শীতকালীন ঠোঁট ফাঁটা, পায়ের তালু ও হাতের তালু ফাঁটা রোগ প্রতিরোধ করে মাল্টা । সর্দি, নাক বন্ধ থাকা, টনসিলের সমস্যা, গলা ব্যথা, জ্বর-জ্বর ভাব, হাঁচি-কাশি, মাথা ব্যথা, ঠাণ্ডা জনিত দুর্বলতাসহ এ জাতীয় সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উৎস হিসেবে খেতে পারেন মাল্টা। ভিটামিন-সি রক্তে শ্বেত-কণিকার সংখ্যা বাড়ায়, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। রক্তশূন্যতায় ভুগছে এমন মানুষের জন্য বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে মাল্টা। 

 

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে

 

প্রতিদিন একটি করে মাল্টা খাওয়ার অভ্যাস আপনার দৃষ্টিশক্তিকে ভালো রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, কমলায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও পটাসিয়াম। এ ভিটামিনগুলো দৃষ্টিশক্তির জন্য বেশ উপকারী। তাই দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে নিয়মিত খান মাল্টা। 

 

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে 

 

মাল্টাতে অন্যান্য ভিটামিন উপস্থিত থাকলেও এটি মূলত। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহের সমৃদ্ধ উৎস। এটি ত্বকে সজীবতা বজায় রাখে এবং ত্বকের বলি রেখা প্রতিরোধ করে লাবণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও মাল্টা দাঁত,চুল,ত্বক ও নখের পুষ্টি যোগায়।

 

পাকস্থলীর ক্রিয়া সচল রাখতে 

 

পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে মাল্টা । তাই নিয়মিত মাল্টা খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলীর আলসার ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সুরক্ষা দেয় ।মাল্টা ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি প্রদাহ জনিত রোগ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে৷ এতে উপস্থিত পটাশিয়াম ইকেট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখে এবং কার্ডিও-ভাস্কুলার সিস্টেম ভালো রাখতে সহায়তা করে।

 

ক্যান্সার প্রতিরোধে 

 

মালটার ভিটামিন সি উপাদান আমাদের শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদের শরীরের কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের অন্যতম সেল প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। পেকটিন নামের একধরনের ফাইবার উপস্থিত থাকে মাল্টাতে, যা মূলত কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও মাল্টাতে উপস্থিত লিমিনয়েড, মুখ, ত্বক, ফুসফুস ও পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে।

 

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে 

 

মাল্টায় হেসপেরিডিন ও ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে এটি ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে ওজন কমাতেও সহায়তা করে। মাল্টা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। যাদের রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি তাদের রক্তের চর্বির পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে মাল্টা । মাল্টা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই যাদের বহুমূত্র রোগ আছে তারা নির্দ্বিধায় মাল্টা খেতে পারেন। 

 

 

মাল্টায় অতি সামান্য পরিমাণ ক্যালরি থাকে। তাই নিজের ইচ্ছেমতো খেতে পারেন। চিনি সহযোগে বানানো শরবত যেমন আপনাকে পুষ্টি দিচ্ছে, তেমনি ভিটামিন-সি'র চাহিদা পূরণে রাখছে বিশেষ ভূমিকা৷ মাল্টার উপকারিতা ও গুণের শেষ নেই। তাই যদি সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকতে চান,তাহলে প্রতিদিন একটি করে মাল্টা খান।