মাইগ্রেন, এক অসহনীয় যন্ত্রণা

মাইগ্রেন, এক অসহনীয় যন্ত্রণা
ছবি: সংগৃহীত
মাইগ্রেনের প্রধান লক্ষণ হল মাথার এক দিকে অর্থাৎ মাথার ডান অথবা বাম দিকে ব্যথা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে আবার চোখে আলোর ঝলকানি দেখার মাধ্যমে শুরু হয় তারপর ব্যথা বৃদ্ধি হয়। চোখের পেছনে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এই সমটায় শব্দ ও আলো ভালো লাগে না। কখনো কখনো অতিরিক্ত শব্দ ও আলোয় ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এরকম হয় না।

মাথাব্যথা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে এবং প্রায় অনেকেই কম বেশি মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম হল মাইগ্রেনের মাথাব্যথা। সাধারণ মাথাব্যথা হলে প্যারাসিটামল খেলে বা বিশ্রাম নিলে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু মাইগ্রেনের অসহ্য মাথাব্যথা মোটেও সাধারণ মাথাব্যথা নয়। 

 


মাইগ্রেন কি?

 

মাইগ্রেন একধরনের মাথাব্যথা। মাইগ্রেন শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘হেমিক্রানিয়া’ থেকে, যার অর্থ মাথার একদিকে ব্যথা। মাইগ্রেনে আক্রান্ত হলে আপনার মাথার বাম অথবা ডানদিকে ব্যথা অনুভব হবে। মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে শব্দ, আলো এবং গন্ধের প্রতি সহনশীলতা ক্ষীণ হয়ে আসে। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সে এই রোগে ভুগতে হয়। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১১ শতাংশ বয়স্ক মানুষ মাইগ্রেনে ভোগেন। মাইগ্রেনের মাথাব্যথায় রোগী প্রচণ্ড ব্যথায় কষ্ট পান। 

 

মাইগ্রেন কেন হয়? কাদের এবং কখন হয়? 

 

মাইগ্রেন কেন হয় তা পুরোপুরি ভাবে জানা যায়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বংশগত ভাবে মাইগ্রেনে আক্রান্ত হয়। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, হরমোনের প্রভাবে এ রোগ হয়। সাধারণত বয়ঃসন্ধি শুরু হবার আগে থেকে মেয়েদের থেকে ছেলেদের মাইগ্রেন হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। পরবর্তী সময়ে বয়ঃসন্ধির পর ছেলেদের থেকে মেয়েদের দুই-তিন গুণ বেশি মাইগ্রেন হয়। মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় মাথাব্যথা বেশি হয়। তবে মেয়েদের ঋতুস্রাবের পর মাইগ্রেন হবার হার কমে যায় বলে দেখা গেছে। চকলেট, পনির, কফি ইত্যাদি বেশি খাওয়া, জন্মবিরতিকরণ ওষুধ, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, দীর্ঘসময় টিভি দেখা, কম্পিউটারে কাজ করা, মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদির কারণে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যেসব কারণে মাইগ্রেন হতে পারে সেগুলোকে ‘ট্রিগার’ বলে। 

 

মাইগ্রেন-এর লক্ষণ

 

মাইগ্রেনের লক্ষণ হল অসহ্য মাথাব্যথা। যা শুরু হলে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মাথাব্যথার সাথে বমি বমি ভাবও হতে পারে। মাইগ্রেনের প্রধান লক্ষণ হল মাথার এক দিকে অর্থাৎ মাথার ডান অথবা বাম দিকে ব্যথা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে আবার চোখে আলোর ঝলকানি দেখার মাধ্যমে শুরু হয় তারপর ব্যথা বৃদ্ধি হয়। চোখের পেছনে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এই সমটায় শব্দ ও আলো ভালো লাগে না। কখনো কখনো অতিরিক্ত শব্দ ও আলোয় ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এরকম হয় না। মাইগ্রেনের আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে:

 

• বমি বা বমি বমি ভাব
• চোখের পেছনের দিকে ব্যথা অনুভব
• আলো বা শব্দের প্রতি সহনশীলতায় পরিবর্তন

 

চিকিৎসা

 

মাইগ্রেন চিরতরে দূর করার ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয় নি। তবে মাইগ্রেন হলে ব্যথা কমানোর জন্য ওষুধ রয়েছে। ব্যথার তীব্রতার উপর নির্ভর করে পেইনকিলার নেয়া যেতে পারে। সাধারণ প্যারাসিটামলেও অনেকের ব্যথা কমে যায়। বমি ভাব হলে তা নিয়ন্ত্রণ করবার জন্য স্টেমেটিল বা ভার্গন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।  

 

প্রতিরোধ

 

বয়স বৃদ্ধির সাথে মাইগ্রেনের ঘন ঘন আক্রমণ কমে গেলেও সারাজীবন মাইগ্রেনের ব্যথা হবার ভয় থেকে যায়। কোনো প্রকার ওষুধ ছাড়াও মাইগ্রেন থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিছু খাবার এড়িয়ে চলা আর একটু নিয়মানুবর্তী হলেই এ রোগ থেকে অনেকটা এড়িয়ে যাওয়া যায়। জেনে নেই মাইগ্রেন প্রতিরোধের কিছু উপায়।

 

• ডার্ক চকলেট, কফি ইত্যাদি ধরনের খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে।
• দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হবে।
• মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন বন্ধ রাখতে হবে।
• দীর্ঘ সময় ধরে টেলিভিশন দেখা, কম্পিউটার-এ কাজ করা, মোবাইলে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। 
• প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে।
• অতিরিক্ত বা ক্ষীণ আলোতে কাজ করা যাবে না।
• মাইগ্রেন শুরু হয়ে গেলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
• কড়া রোদ বা তীব্র ঠাণ্ডা পরিহার করতে হবে।
• অতিরিক্ত আওয়াজ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না।
• হাসি-খুশি থাকতে হবে।  

 

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই কোনো প্রকার ওষুধ খাওয়া উচিত না। ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার মাইগ্রেনের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। খেজুর ও ডুমুর ফল ব্যথা উপশম করে। সবুজ শাকসবজি নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার মাইগ্রেন প্রতিরোধে সহায়তা করে।