গর্ভকালীন অবস্থায় থাইরয়েড

গর্ভকালীন অবস্থায় থাইরয়েড
ছবি: সংগৃহীত
হাইপার, হাইপো বা থাইরয়েড প্রদাহজনিত কোনো লক্ষণ দেখা দিলে শিগগিরই রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া।

থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখে আক্রান্ত নারী যদি সঠিকভাবে চিকিৎসাধীন থাকেন, তাহলে তার গর্ভাবস্থা সামাল দেওয়া খুব কঠিন নয়। হাইপোথাইরয়েডিজম যে নারীর আছে, তাদের চিকিৎসা করা হয় থাইরক্সিন দিয়ে। চিকিৎসাধীন নারীর সাধারণত বন্ধ্যত্বের সমস্যা হয় না বা তাদের সদ্যজাত শিশুরও জন্মগত অস্বাভাবিকত্ব নিয়ে জন্মগ্রহণের ভয় থাকে না। গর্ভবতী নারীর হাইপোথাইরয়েডিজম যদি চিকিৎসা না করা হয় বা ধরা না পড়ে, তাহলে সন্তান ধারণে অক্ষমতা আসতে পারে। তা ছাড়া অকাল গর্ভপাতও হয়ে যেতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা করা হয় সাধারণত কারবিমাজোল জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে। এই ওষুধ গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি করে না, কিন্তু এটি প্ল্যাসেন্ট বা ফুল অতিক্রম করে শিশুটির শরীরে স্থায়ী হাইপোথাইরয়েডিজম সৃষ্টি করতে পারে। শিশুটির ক্ষেত্রে এ জন্য অনেক সময় আলাদা চিকিৎসা দরকার হয় না, চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়।


থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধ:


আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া ও রেডিয়েশন থেকে মুক্ত থাকা, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়।


হাইপার, হাইপো বা থাইরয়েড প্রদাহজনিত কোনো লক্ষণ দেখা দিলে শিগগিরই রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া।


ঘ্যাগ বা অন্য কোনো কারণে থাইরয়েড বড় হয়ে গেলে বা ক্যান্সার হলে সার্জারির মাধ্যমে কেটে ফেলা।


যাদের বংশগত থাইরয়েড সমস্যার ইতিহাস আছে, তাদের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা।


কোনো শিশু বা বয়স্কদের অবর্ধক শারীরিক ও মানসিক, ঠাণ্ডা বা গরম সহ্য করতে না-পারা, বুক ধড়ফড় করা, খাওয়া ও রুচির সঙ্গে ওজন কমা ইত্যাদি হলে যতদ্রুত  সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।