ক্যান্সার ঝুঁকিতে নারী

ক্যান্সার ঝুঁকিতে নারী
ক্যান্সার ঝুঁকিতে নারী
সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গিয়েছে বাংলাদেশর প্রায় ছয় কোটি নারী কোনো না কোনোভাবে ক্যান্সার ঝুঁকিতে রয়েছেন। শুধুমাত্র সারভাইক্যাল ক্যান্সারে প্রতিবছর ১২ হাজার নারী আক্রান্ত হন এবং এদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার নারীর মৃত্যু হয়। অনেকে আবার চিকিৎসাটা পর্যন্ত করাবার মতো সময় পান না। বাংলাদেশে মৃত্যুর ষষ্ঠ প্রধান কারণ হলো ক্যানসার। এক জরিপে দেখা যায় বাংলাদেশে নারীদের ১৬.৯০ শতাংশ স্তন ক্যান্সারে, ১৫.৬০ শতাংশ জরায়ু ও জরায়ুমুখ এবং ১১.৯০ শতাংশ খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত।

 

দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র একটি দেশ হলেও বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে বহু বাঁধা পেরিয়ে এক সময়ের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ রাষ্ট্রটি আজ বিশ্বে উন্নয়নের অন্যতম এক রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বহু ক্ষেত্রে এদেশের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশের আরো বেশি অগ্রগতি প্রয়োজন। বিশেষ করে এদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে। ক্যান্সার এমন একটি রোগ যা থেকে শতভাগ সাফল্য এখনো আসেনি। ক্যান্সার নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই একটি মারাত্মক ব্যাধি। তবে নারীর বেলায় বিভিন্ন প্রকারের ক্যান্সারের ঝুঁকিটা একটু বেশিই থেকে যায়। 

সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গিয়েছে বাংলাদেশর প্রায় ছয় কোটি নারী কোনো না কোনোভাবে ক্যান্সার ঝুঁকিতে রয়েছেন। শুধুমাত্র সারভাইক্যাল ক্যান্সারে প্রতিবছর ১২ হাজার নারী আক্রান্ত হন এবং এদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার নারীর মৃত্যু হয়। অনেকে আবার চিকিৎসাটা পর্যন্ত করাবার মতো সময় পান না। বাংলাদেশে মৃত্যুর ষষ্ঠ প্রধান কারণ হলো ক্যানসার। এক জরিপে দেখা যায় বাংলাদেশে নারীদের ১৬.৯০ শতাংশ স্তন ক্যান্সারে, ১৫.৬০ শতাংশ জরায়ু ও জরায়ুমুখ এবং ১১.৯০ শতাংশ খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর নতুন করে এ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন আরও দুই লাখ মানুষ। প্রতিবছর এ-রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আরও দেড় লাখ মানুষ, যা অতি মারাত্মক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নারীর ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সবচাইতে মারাত্মক ব্যাপারটি হলো আক্রান্ত নারীদের অধিকাংশই ডাক্তারের কাছে আসেন একেবারে শেষপর্যায়ে। তখন এলে তো ডাক্তারের আর তেমন কিছুই করার থাকে না। এমনিতেই ক্যান্সারের চিকিৎসা জটিল আর এই রোগটি গুরুতর, তার উপর চিকিৎসা দেরিতে শুরু হলে তাতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল আসে না। বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সারের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সারে কোনো ধরনের ব্যথা থাকে না। যারফলে অধিকাংশ নারীই বুঝতে পারেন না যে, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই এজন্য দরকার অধিক সচেতনতা। প্রয়োজন কয়েক মাস পর পর ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এতে ক্যান্সারে ঝুঁকি ও ভয়াবহতা শুরু থেকেই কমান সম্ভব। বাংলাদেশে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সংখ্যাও অপ্রতুল। এছাড়াও আরও একটি ব্যাপার হলো সারাদেশে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ আছেন মাত্র ১৫০জন। যার মধ্যে নারী বিশেষজ্ঞের সংখ্যা খুবই সামান্য। যার জন্য নারীরা অনেক ক্ষেত্রেই ডাক্তারের কাছে যেতেও আগ্রহী নয়। এছাড়াও অধিকাংশ হাসপাতালে নেই কোনো ক্যান্সার সেন্টার। আবার ক্যান্সার নির্ণয়ের যন্ত্রপাতিও যথেষ্ট নয়। উন্নত যন্ত্রপাতি থাকলে ক্যান্সার দ্রুত সময়ে নিরাময় করে চিকিৎসা সম্ভব।


বাংলাদেশে নারীরা সহজে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে চান না। অল্প অল্প জ্বর থাকলে তারা নিজেরা ওষুধ নিয়ে এসে খেয়ে ফেলেন। কিন্তু এই অল্প অল্প জ্বর ফুসফুস ক্যানসারের প্রধান লক্ষণ। এটি থেকে রোগীর ফুসফুস ক্যান্সার হতে পারে, যা পরে মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে। সবার আগে তাই সচেতনতা প্রয়োজন, যা সকলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে।