সিজার : প্রয়োজন কতটা?

সিজার : প্রয়োজন কতটা?
সিজার : প্রয়োজন কতটা?
সিজারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সিজার শুধুই অর্থের বিনিময়ে ব্যথা কমানোর উপায় নয়। বেশ কিছু কারণ রয়েছে যেখানে সিজার করা প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। এর কিছু কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো : ১. কিছু ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হয়ে ওঠে না। এসকল ক্ষেত্রে সিজার করা বাধ্যতামূলক। যেমন প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, কন্ত্রাক্টেড পেলভিস, পেলভিক মাস, জরায়ুর মুখে ক্যান্সার, যোনিপথে কোনো বাধা থাকলে অবশ্যই সিজার করতে হবে।

বর্তমানে বেশিভাগ প্রসূতি মা সিজারিয়ানের ব্যাপারে আগ্রহী। তারা এটাকে সন্তান জন্মদানের সহজ পদ্ধতি হিসেবে মেনে নিয়েছেন। এজন্য জটিলতা ছাড়া চিকিৎসকরা রোগীকে সিজারের পরামর্শ দেন না।

অন্যদিকে গর্ভাবস্থায় কোনো জটিল সমস্যা যদি সৃষ্টি না হয় তাহলে নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ। নরমাল ডেলিভারি শুধু বর্তমান গর্ভাবস্থার জন্যই ভালো নয় বরং পরবর্তীতে গর্ভধারণের জন্যও নিরাপদ।

যদিও সিজারিয়ান করানো খুব সাধারণ ব্যাপার আজকাল, কিন্তু এটা একটা বড় অপারেশন তাই এর নিজস্ব কিছু ঝুঁকি থাকে। এজন্য চিকিৎসা  সংক্রান্ত কারণ ছাড়া ডাক্তার সিজারিয়ান করানোর পরামর্শ দেন না। গর্ভাবস্থায় কোন জটিল সমস্যা যদি সৃষ্টি না হয় তাহলে ভ্যাজাইনাল বার্থ বা নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ। নরমাল ডেলিভারি শুধু বর্তমান গর্ভাবস্থার জন্যই ভালো নয় বরং পরবর্তীতে গর্ভধারণের জন্যও ভালো।

কখনো কখনো মা ও বাচ্চার জীবন রক্ষার্থে সিজারিয়ান করতে হয়, সেই পরিস্থিতিতে প্রশ্নাতীত ভাবেই সিজারিয়ান করানোটা হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ। আবার এমনও হতে পারে যে, আপনি কোন বিশেষ দিনে বিশেষ উপায়ে বাচ্চার জন্ম দিতে চান তখন ডাক্তার আপনাকে সিজারিয়ান করানোর পরামর্শ দেন। তবে আপনার এই সিদ্ধান্ত আপনার স্বাস্থ্য ও জীবনধারায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।

বর্তমান সময়ে সিজারের প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছে। এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে সিজারের পরিমাণ প্রায় দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কারণ

অপারেশনের সহজলভ্যতা, এনেসথেসিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমে যাওয়া, এন্টিবায়োটিক ওষুধের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় সিজারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অনেকগুলো কারণ রয়েছে,

১. বাচ্চার কোনো ঝুঁকি রয়েছে কিনা এখন তা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

২.উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

৩.প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে সিজার করা হলে পরবর্তী বাচ্চার ক্ষেত্রেও সিজার করা হয়ে থাকে।

৪.প্রসব বেদনা সহ্য করার ভয়ে অনেক মা সিজারের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।

প্রয়োজনীয়তা

সিজারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সিজার শুধুই অর্থের বিনিময়ে ব্যথা কমানোর উপায় নয়। বেশ কিছু কারণ রয়েছে যেখানে সিজার করা প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। এর কিছু কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো :

১. কিছু ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হয়ে ওঠে না। এসকল ক্ষেত্রে সিজার করা বাধ্যতামূলক। যেমন প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, কন্ত্রাক্টেড পেলভিস, পেলভিক মাস, জরায়ুর মুখে ক্যান্সার, যোনিপথে কোনো বাধা থাকলে অবশ্যই সিজার করতে হবে।

২. প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে ডেলিভারি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় না হলে, বাচ্চার হৃদপিন্ডের  গতি ধীর হয়ে যাওয়া, বাচ্চা যদি স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকে, তাহলে সেসব ক্ষেত্রেও সিজারের প্রয়োজন রয়েছে।

৩. কোনো কোনো ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হলেও মা ও বাচ্চার ঝুঁকি হতে পারে জানতে পারলে সিজার করা হয়ে থাকে। যেমন গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ শুরু হলে, বারবার বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ইতিহাস থাকলে, মা’র উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা থাকলে সিজার করাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সিজারের যেমন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তেমনি অন্যসব অপারেশনের ন্যায় সিজারের ক্ষেত্রেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যেমন :

১. রক্তক্ষরণ হতে পারে।

২.মূত্রথলি ও মূত্রনালী আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে।

৩.গর্ভপরবর্তী রক্তক্ষরণ হতে পারে।

৪. ইনফেকশন।

৫. অনিয়মিত মাসিক।

৬. পেটে ও পিঠে ব্যথা।

৭. এছাড়া বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

নরমাল নাকি সিজার, কোনটা ভালো?

নারীর স্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই নরমাল ডেলিভারি ভালো। নরমাল ডেলিভারির সুযোগ থাকলে আমাদের নরমাল ডেলিভারি চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে সিজার করা বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে। এমন ক্ষেত্রে মা ও বাচ্চার ঝুঁকি না নিয়ে সিজার করানো উচিত।

 

ডা. আশিকুর রহমান খান

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), সহকারী সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গাবতলি,বগুড়া।