রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর ব্যবস্থাপনা

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর ব্যবস্থাপনা
রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর ব্যবস্থাপনা
স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ড চালানো যেতে পারে, তবে খুব বেশি কঠোর শ্রম বা ব্যায়াম না করাই ভালো। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। 

রমজানে মাস অতি সন্নিকটে। পবিত্র রমজান মাসে আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে আর খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ভোরে সেহেরি খেয়ে সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারের মাধ্যমে রোজা ভাঙ্গা হয়। কিন্তু অন্যান্য ব্যক্তির চাইতে একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য এই মাসে রোজা রাখা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ, যদি রোজা রাখা কালীন ডায়াবেটিসের চিকিৎসা সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকে। ডায়াবেটিসের সঙ্গে খাদ্য ব্যবস্থাপনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই খাদ্যাভ্যাসের বিষয়েও সাবধানতা চাই।

 

রোজার সময় মানুষকে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও মৌসুম ভেদে এ সময়কাল ১৪ ঘণ্টা থেকে স্বচ্ছ ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের দেশে সেহেরি ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময় স্বচ্ছ ১৮ ঘণ্টা হতে পারে। এ দীর্ঘ সময় একজন ডায়াবেটিস রোগীর না খেয়ে থাকা উচিত হবে কি না, তা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। পবিত্র কোরআন শরিফেও রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের রোজা রাখা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে (সুরা আল বাকারা: আয়াত ১৮৩-১৮৫)। ডায়াবেটিসের রোগীর বিপর্যস্ত বিপাকীয় তন্ত্রের কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শারীরিক নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। কিন্তু কোন ডায়াবেটিসের রোগী যদি ধর্মীয় আগ্রহের কারণে রোজা রাখতে চান, তবে তাকে নিষেধ করাও সম্ভব নয়। তাই রোজা রাখলেও সতর্ক থাকতে হবে।

 

 

রোজার কারণে ডায়াবেটিস রোগীরা যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়:


রোজার কারণে ডায়াবেটিক রোগীদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন সমীক্ষায় থেকে জানা গেছে, রমজান মাসে ডায়াবেটিক রোগীদের শরীরে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার মাত্রা বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় পানিশূন্যতাই এর মূল কারণ। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় অতিরিক্ত প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। সেই সাথে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের পরিমাণও কমে যেতে পারে। ফলে ব্লাড পেশার কমে গিয়ে অজ্ঞান হওয়া, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া, হাড় ভেঙ্গে যাওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

 

 

ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন


বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন রোজা রাখলেই হাইপো হবে। এ কথাটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সত্য নয়। ওষুধ বা ইনসুলিনের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ অথবা খাবারের অনিয়মের ফলে বেশিরভাগ রোগীর হাইপো হয়। সব ওষুধে হাইপো হওয়ার আশঙ্কা সমান নয়। যারা সালফোনাইল ইউরিয়া ট্যাবলেট খান ও ইনসুলিন নেন তাদের হাইপো হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা রোজার জন্য পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

 

ব্যায়াম ও পরিশ্রম


স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ড চালানো যেতে পারে, তবে খুব বেশি কঠোর শ্রম বা ব্যায়াম না করাই ভালো। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।