“চলচ্চিত্রে নারী” বিষয়ক সপ্তম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু!

“চলচ্চিত্রে নারী” বিষয়ক সপ্তম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু
“চলচ্চিত্রে নারী” বিষয়ক সপ্তম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু
ফ্রান্স থেকে মেলিকা দুরান বলেন “বিশ্ব চলচ্চিত্রে নারীদের অবদান নিয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব নিয়মিত যে কনফারেন্সের আয়োজন করে তা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নারী পুরুষ সমতায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ।”

রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস কনফারেন্স’। রোববার সকালে শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘চলচ্চিত্রে নারী’ শীর্ষক এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। নান্দনি চলচ্চিত্র, মননশীল র্দশক, আলোকতি সমাজ’ শ্লোগানে  চলছে এই উৎসব। আমন্ত্রিত অতিথিগণ মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্ কনফারেন্স’র উদ্বোধন করেন।

 

মন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেন, “বাংলাদেশের মৃতপ্রায় চলচ্চিত্রাঙ্গনে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ প্রতিবছর নিষ্ঠার সাথে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে দেশের তরুণ ও স্বাধীন নির্মাতাদের জন্য এক মজবুত প্ল্যাটফরম তৈরি করছে।”

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী লাকী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার নির্দেশিত “বাংলার নারী” শীর্ষক নৃত্যনাট্য পরিবেশিত হয়। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে কনফারেন্সে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক হান্না ফিশার ও ফ্রান্সের চলচ্চিত্র উৎসব ব্যাবস্থাপক মেরাল মেলিকা দুরান।

 

কানাডা থেকে অনলাইনে সংযুক্ত হান্না ফিশার বলেন “যেখানে বিশ্বের বড় বড় চলচ্চিত্র উৎসব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন সত্যিকার অর্থেই প্রশংসনীয়।”

 

ফ্রান্স থেকে মেলিকা দুরান বলেন “বিশ্ব চলচ্চিত্রে নারীদের অবদান নিয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব নিয়মিত যে কনফারেন্সের আয়োজন করে তা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নারী পুরুষ সমতায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ।”

 

সেমিনারের প্রথম পর্বে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কর্মী মেহজাদ গালিব “৭০ এর দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে নারীর ভিন্নধর্মী উপস্থাপন” শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন। তিনি এ প্রবন্ধে সূর্যদীঘল বাড়ি, সূর্যকন্যা ও গোলাপী এখন ট্রেনে এই চলচ্চিত্র সমূহে নারীর ভিন্নধর্মী উপস্থাপন নিয়ে আলোচনা করেন। এই পর্বে আরো ছিলেন ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক কিশোয়ার কামাল এবং চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক সাদিয়া খালিদ রীতি। এতে অনলাইনে যুক্ত হন দক্ষিণ কোরীয় চলচ্চিত্র সংগঠক সু লি দিলবার।

 

দিনের দ্বিতীয় পর্বে ইরানী চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক ইলাহি নোবাখত ‘সিনেমার মধ্যে দিয়ে আমরা সত্য বলি- ইরানি সিনেমায় নারী’ শীর্ষক প্রবন্ধ অনলাইনে উপস্থাপণ করেন। তার প্রবদ্ধের উপর আলোচনা করেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারহা কবির, নির্মাতা চৈতালী সমাদ্দার এবং অভিনেত্রী বন্যা মির্জা।

 

দিনের শেষ প্রবন্ধ পাঠ করেন ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ার গবেষক ড. দেবযানী হালদার। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই সেমিনার চলে।