ফিল্ম রিভিউ

নারী নির্মাতাদের সেরা ৭টি চলচ্চিত্র

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  রায়হান খান

নারী-পুরুষের প্রতিযোগিতা যুগ যুগ ধরে চর্চা হয়ে আসছে। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই সকল স্থানেই এ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। ঠিক তেমন ঘটনার নজির মিলে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও। চলচ্চিত্রজগতে অসংখ্য পরিচালক রয়েছে যার মধ্যে সেরাদের সেরার প্রায় সিংহভাগই পুরুষ। চার্লি চ্যাপ্লিন থেকে হিচকক, বারিম্যান, সত্যজিৎ। হিচকক, বারিম্যান থেকে কুব্রিক, টার্কোভস্কি , কুরোসাওয়া ও পরবর্তীসময় দাপিয়ে বেড়ানো কপ্পোলা, স্কোরসেজি, ফিঞ্চার, লিঞ্চ, নোলান, ট্যারেন্টিনো, স্পিলবার্গ প্রায় সকল সেরাদের সেরাই হচ্ছে পুরুষ। এ-পুরুষদের তালিকা করলেও গুণে শেষ করা কঠিন হয়ে যাবে কিন্তু এই পুরুষদের আধিপত্যের মধ্যেই কিছু নারীরা উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো সবার নজর কেড়েছে তাদের প্রতিভার দ্বারা। নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা দ্বারা তারা তৈরি করেছেন কিছু অসাধারণ চলচ্চিত্র, যার সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। আর এই কিছু বিশ্বখ্যাত নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কিছু চলচ্চিত্রই আজকের বিষয়।

লা ফে অক্স চক্স


ফ্রেঞ্চ বংশোদ্ভূত এলিস গায় ব্লেচ ছিলেন ইতিহাসের প্রথম নারী নির্মাতা। ১৮৯৬ সালে ‘লা ফে অক্স চক্স’ ছিল তার প্রথম বর্ণনামূলক চলচ্চিত্র। আনা হফম্যান আদ্গ্রেন ১৯১১ সালে ‘স্টোকহমসফ্রেস্টেলসার’ নামে একটি শব্দহীন চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলেন যেটি ছিল কোনো নারী নির্মাতার প্রথম সাইলেন্ট ফিল্ম। সুতরাং বলা যায়, নারীরা কোনো অংশেই চলচ্চিত্রে নিজেদের অবদান রাখতে পিছিয়ে ছিলেন না। 

 

লস্ট ইন ট্রান্সলেশন


ইতিহাসের সর্বকালের সেরা সিনেমা ‘গডফাদার’-এর নির্মাতা ফ্রান্সিস ফরড কপ্পোলার কন্যা সোফিয়া কপ্পোলাও কিন্তু কোনো অংশে কম যান না। তার নির্মিত ২০০৩ সালের  রোমান্টিক ড্রামা ঘরানার এই চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রেও ছিলেন একজন নারী অভিনেত্রী যার নাম স্কারলেট জনসন। চলচ্চিত্রটি বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব এমনকি অস্কারেও পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়।

আমেরিকান সাইকো 


২০০০ সালের সাইকোলোজিক্যাল থ্রিলার জনরার এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন ম্যারি হরন। একজন উরবান চাকরিজীবীর সিরিয়াল কিলার হয়ে উঠার ঘটনাই হলো এই আমেরিকান সাইকো। ক্রিশ্চিয়ান বেলের অসাধারণ সাইকোপ্যাথের অভিনয় আর ম্যারি হরনের পরিচালনায় এই চলচ্চিত্রটিতে আছে টান টান উত্তেজনা।

দ্যা হার্ট লকার


যুদ্ধ নিয়ে এযাবৎ যত চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে তার মধ্যে হার্ট লকারের নাম নিঃসন্দেহে অনেক উপরেই থাকবে। ২০০৮ সালে নির্মিত পরিচালক ক্যাথরিন বিগ্লোর এই চলচ্চিত্রটি শুধু প্রশংসাই পায়নি পরের বছর সেরা চলচ্চিত্রসহ ৬টি ক্যাটাগরিতে অস্কারে পুরস্কার লাভ করে এই চলচ্চিত্রটি। যেখানে চারদিকে গুঞ্জন চলছিল সে বছর জেমস ক্যামেরুনের এভাটার হয়ত অস্কার বাগিয়ে নিবে সেখানে সবাইকে চমকে দিয়ে জেমসের প্রাণ স্ত্রী ক্যাথরিনের হার্ট লকার সবার মন কাড়ে।  

ম্যাট্রিক্স ট্রিলজি 


চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা একশন সাইফাই ট্রিলজি আমাদের অনেকেরই শৈশবের অনেক পছন্দের এই চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজের নির্মাতাও কিন্তু নারী। তবে একজন নয় লানা এবং লিলি ওয়াকোস্কি নামের ২ বোনের অবদান এখানে। ১৯৯৯ সালের প্রথম ম্যাট্রিক্সের প্রথম খ- অস্কারের ৪টি ক্যাটাগরিতে শুধু  নমিনেশনই পায় না ৪টিতেই পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়।  

 

ইউ ওয়েয়ার নেভার রিয়ালি হেয়ার 


২০১৭ সালের ইন্টেন্স ক্রাইম থ্রিলার এই সিনেমাটির পরিচালিকার নাম লিনে রামসেয়। মেথড এক্টর হোয়াকিন ফিনেক্সকে নিয়ে একজন ডিপ্রেশন ও একাকিত্ব রোগে আক্রান্ত লোকের একজন কিশোরীর জীবন বাঁচানোর গল্পটা এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলার জন্য লিনে রামসেয়কে ধন্যবাদ দিলেও কম হয়ে যাবে। একজন নারী নির্মাতাও পারেন হিং¤্রতা, রক্তারক্তি ফুটিয়ে তুলতে তার প্রমাণ এই চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রটি কান্স ব্রিটিশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এ পুরস্কারসহ বেশ প্রশংসাও কুড়িয়েছে।  

জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা 


নারী নির্মাতার দাপট শুধু হলিউডেই সীমাবদ্ধ নয় তার দাপট রয়েছে বলিউডেও। জাবেদ কন্যা জয়া আখতারের ২০১১ সালের এই চলচ্চিত্রটি দেখলে যে-কেউ বন্ধুত্বের সত্যিকার অর্থ খুঁজে পাবে। ৩ বন্ধুর স্পেন ভ্রমণ ও সেখানে গিয়ে দারুণ সব অভিজ্ঞতা ও মজাদার সব ঘটনার সমন্বয়ে  তৈরি এই চলচ্চিত্রটিকে বলিউডের সেরা চলচ্চিত্রের একটি বললেও ভুল হবে না। জাতীয় পুরস্কারসহ ফিল্মফেয়ারের কয়েকটি বিভাগে পুরস্কার জেতে এই সিনেমাটি।